Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গৃহবধূকে অজ্ঞান করে লুটপাটের চেষ্টা, অভিযুক্ত ভণ্ড পীরবাবাকে গণধোলাই

রামায়ণের অরণ্যকাণ্ডে রাবণ সাধু সেজে এসে সীতাহরণ করেছিলেন। ত্রেতাযুগের সেই ঘটনার যেন নবরূপায়ণ হল কলিযুগে

গৃহবধূকে অজ্ঞান করে লুটপাটের চেষ্টা, অভিযুক্ত ভণ্ড পীরবাবাকে গণধোলাই
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: রামায়ণের অরণ্যকাণ্ডে রাবণ সাধু সেজে এসে সীতাহরণ করেছিলেন। ত্রেতাযুগের সেই ঘটনার যেন নবরূপায়ণ হল কলিযুগে। এখানে অবশ্য হরণ করা হয়নি। তার বদলে লুটপাট করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘পীরবাবা’ পরিচয় দিয়ে এক দুষ্কৃতী ভিক্ষার নাম করে শান্তিপুরের একটি বাড়িতে এসে গৃহবধূকে অজ্ঞান করে লুটপাট চালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত পীরবাবা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নাকি আচমকা অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন ওই গৃহবধূ! পরে ওই ভণ্ড পীরবাবাকে ধরে গণধোলাই দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে আনে শান্তিপুর থানার পুলিস। 

Advertisement

স্থানীয় এবং পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে শান্তিপুর থানা এলাকার বাবলা গ্রাম পঞ্চায়েতের কদমপুর পশ্চিমপাড়ায়। মঙ্গলবার স্থানীয় বাসিন্দা বিষ্ণু বিশ্বাসের বাড়িতে হানা দেয় ওই ভণ্ড পীরবাবা। সেই সময় বাড়িতে একাই ছিলেন বিষ্ণুর স্ত্রী পলি বিশ্বাস। তিনি বলেন, প্রথমে ভিক্ষা চাওয়ার নাম করে বাড়িতে আসেন ওই ব্যক্তি। আমার কাছে টাকা ছিল না। আমি তাই চাল, ডাল, সব্জি দিয়ে ওঁকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করি। তারপর উনি বলেন, তিনি নাকি বড়ই ক্লান্ত। সেই কথা শুনে আমি ওনাকে বাড়ির সামনে বসতেও দিই। এরপরেই সে আমার কাছে টাকা দাবি করে। কিন্তু আমার কাছে টাকা নেই তা আমি সরাসরি জানাই। বিভিন্নভাবে আমাকে বুঝিয়ে ওই ব্যক্তি টাকা আদায় করার চেষ্টা করে। শেষমেশ আমি রাজি হয়ে ওঁকে দুশো টাকা দিই। এরপর ওই পীরবাবা চলে যান। কিন্তু তিনি কিছুটা যেতেই আমি ভয়ঙ্কর অসুস্থ বোধ করতে থাকি। আমার মুখ বেঁকে যেতে থাকে। এরপর আমার আর কিছু মনে নেই। এদিকে, ওই মহিলার আর্তনাদ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পাড়া-প্রতিবেশীরা। খবর দেওয়া হয় মহিলার স্বামীকেও। তিনি তখন বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই ছিলেন। এরপর স্থানীয় বাসিন্দারা সকলে মিলে খোঁজ শুরু করে সেই স্বঘোষিত পীরবাবার।  অবশেষে গ্রামেই কিছুটা দূরে তাকে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রথমে উত্তেজিত জনতা কিছুটা গণধোলাই দেয় তাকে। পরে শান্তিপুর থানার পুলিস ঘটনাস্থলে এলে ওই ব্যক্তিকে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। 
অভিযুক্ত ওই পীরবাবার দাবি, তিনি কেবল ভিক্ষা করতে গিয়েছিলেন। চাপড়ার বাসিন্দা তিনি। ওই গৃহিণীর খারাপ হতে পারে এরকম কোনও খারাপ কাজ তিনি করেননি। বিনা কারণে এলাকাবাসী আমার উপর আক্রমণ করে। এদিকে, পুলিস জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তারা অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। আপাতত সন্দেহের বশে আটক করা হয়েছে তাকে। যদিও মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত লিখিত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি থানায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ