নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকালের অফিস টাইমে ট্রেন ঢুকছে ইডেন গার্ডেন স্টেশনে। ট্রেনে হাতেগোনা যাত্রী। গেট আগলে নানা কসরত করছে কয়েকজন স্কুল পড়ুয়া। পরস্পর ব্যস্ত ধাক্কাধাক্কি, হাসি-মস্করায়। তাদের ঠেলায় স্টেশনে নামার উপায় নেই যাত্রীদের। সরে দাঁড়াতে বললে উলটে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তারা। সম্প্রতি তাদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন হাইকোর্টের দুই আইনজীবী। তাঁরা ওই পড়ুয়াদের গেট থেকে সরে দাঁড়াতে বলায় শুধু গালিগালাজ নয়, রীতিমতো মারধর পর্যন্ত করেছে। তাদের মারে মুখ ফেটেছে এক আইনজীবীর। এই ঘটনার পর ওই আইনজীবী চিৎপুর জিআরপিতে অভিযোগ জানালে পুলিশ খুনের চেষ্টার অভিযোগ রুজু করে। অভিযুক্তরা অবশ্য ওই ঘটনার পরেই পালিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত আইনজীবীর নাম শঙ্কর সরকার।
রেল পুলিশ সূত্রে খবর, শঙ্করবাবু প্রতিদিন বিরাটি স্টেশন থেকে হাসনাবাদ-মাঝেরহাট লোকালে ওঠেন। আরেক আইনজীবী অমরেন্দ্র রায় ওই ট্রেনেই ওঠেন দমদম ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে। তাঁরা হাইকোর্টে যাওয়ার জন্য নামেন ইডেন গার্ডেন স্টেশনে। শঙ্করবাবুর কথায়, ৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। আইনজীবী অমরেন্দ্রবাবু স্নায়ুরোগে ভুগছেন। ট্রেনে ওঠানামা করতে তাঁর একটু অসুবিধা হয়। কামরার গেট তখন দখল করে রেখেছিল পাঁচ স্কুল পড়ুয়া। তাদের দখলদারির কারণে কেউ নামতে পারছিলেন না। তাঁকে সাহায্য করতে আমি এগিয়ে যাই। ছাত্রদের সরে যেতে বললে তারা জানিয়ে দেয়, গেট ছাড়বে না। প্রতিবাদ করলে তারা অভব্য আচরণ শুরু করে। ট্রেনটি ইডেন গার্ডেন স্টেশনে দাঁড়ালে এক ছাত্রের পা হড়কে যায়। তার পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। সেই সময় পাঁচ পড়ুয়া আমার উপর চড়াও হয়। আমাকে প্ল্যাটফর্মে ফেলে বেধড়ক মারধর করে তারা। মুখ ফেটে যায়। গলা, ঘাড়েও চোট লাগে। এই ঘটনা দেখে আশপাশের লোকজন স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তিন ছাত্র পালিয়ে যায়। বাকি দু’জন ধরা পড়ে।
এরমধ্যেই খবর পেয়ে স্টেশনে চলে আসে চিৎপুর জিআরপি। তারা দুই পড়ুয়াকে আটক করে। জেরা করে জানা যায়, তারা সকলেই খিদিরপুর এলাকার একটি স্কুলে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। বিবাদি বাগ স্টেশন থেকে তারা প্রতিদিন এই ট্রেনে উঠে মাঝেরহাট স্টেশনে নামে। তারপর বাসে করে খিদিরপুরে যায়। আইনজীবীর অভিযোগের ভিত্তিতে জিআরপি ওই ছাত্রদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করে। আটক দুই ছাত্রের অভিভাবককে থানায় ডেকে পাঠানো হয়। তাঁরা ক্ষমা চাইলে ছেড়ে দেওয়া হয় দু’জনকে। শঙ্করবাবুর দাবি, ওই পড়ুয়ারা নিত্যদিন ট্রেনে উঠে হুজ্জুতি শুরু করে। কখনও এক কামরা থেকে নেমে দৌড়ে গিয়ে আরেক কামরায় ওঠে। কখনও আবার যাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে। মহিলা যাত্রী দেখলে সব সীমা ছাড়িয়ে যায় তারা। চলে কু-দৃষ্টির সঙ্গে অশ্লীল মন্তব্য। তাদের দাপাদাপিতে অন্য যাত্রীরা অতিষ্ঠ। জিআরপির দাবি, পলাতক তিন ছাত্রের খোঁজে তল্লাশি চলছে।