নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: শিল্পাঞ্চলে জমি লুট অব্যাহত। এবার স্কুলের গেটের র্যাম্প ভেঙে দিয়ে জমি দখল করার চেষ্টার অভিযোগ উঠল। এমনকী, খাসজমিতে থাকা গ্রামের নাট্যমঞ্চ দখলেরও অভিযোগ উঠছে। পানাগড়ে ফের পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। জমি দখল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর তৎপর হয়েছে জেলা প্রশাসন ও পুরসভা। তা সত্ত্বেও জমি লুটের চেষ্টা অব্যাহত। জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, পানাগড়ে একটি পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় পরিবেশ আদালত। আমরা সেইমতো পদক্ষেপ নিয়েছি। অবৈধ নির্মাণ ভেঙে পুকুরকে নিজের জায়গায় ফিরিয়ে দিতে বলা হয়েছে। কোনও খাসজমি দখল বা নতুন করে পুকুর ভরাটের চেষ্টা হলে প্রশাসন কঠোর হাতে পদক্ষেপ নেবে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার গুরুত্বপূর্ণ শহর রানিগঞ্জ। এখানে বহু অবাঙালি সম্প্রদায়ের বহু মানুষ বাস করেন। রানিগঞ্জের শ্রীদুর্গা বিদ্যালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহরের পিএন মালিয়া রোডের উপর থাকা এই স্কুলে ১৪০০-র বেশি পড়ুয়া রয়েছে। এই স্কুলেই ভাঙচুরের অভিযোগ দুই বাসিন্দার বিরুদ্ধে। ঈদ উপলক্ষ্যে শুক্রবার থেকে সরকারি স্কুলগুলি ছুটি রয়েছে। অভিযোগ, স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে স্কুলের গেটের একটি র্যাম্প সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অন্য র্যাম্পটি ভাঙার সময়ে বিষয়টি জানাজানি হয়। ঘটনার জেরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন আসানসোল পুরসভার মেয়র পারিষদ দিব্যেন্দু ভগত, স্কুলের প্রধান শিক্ষক রঞ্জিতরঞ্জন বিন্দ। খবর পেয়ে পুলিস এসে ভাঙার কাজ বন্ধ করে।
প্রধান শিক্ষক রঞ্জিতরঞ্জনবাবু বলেন, ১৯৯২সাল থেকে স্কুলের ওই নির্মাণ রয়েছে। ওই রাস্তা দিয়ে তখন থেকেই পড়ুয়ারা যাতায়াত করছে। হঠাৎই দু’জন জমিটি নিজেদের দাবি করে আমাদের স্কুলের র্যাম্প ভেঙে দিয়েছে। পুরসভার মেয়র পারিষদ দিব্যেন্দুবাবু বলেন, অত্যন্ত অন্যায় কাজ। পুরসভা বা প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে এই কাজ করা যায় না। রানিগঞ্জের বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছি।
জামুড়িয়ার বীরকুল্টি গ্রামে জমি জোর করে দখলের অভিযোগ উঠেছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, গ্রামের একটি খাসজমিতে নাট্যমঞ্চ রয়েছে। সেখানে গ্রামের ছেলেমেয়েরা সাংস্কৃতিক চর্চা করে। সেই জমির একাংশ স্থানীয় এক বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরেই দখল করতে সচেষ্ট। দু’দফায় জামুড়িয়ার বিডিও অবৈধ নির্মাণে বাধা দিয়েছেন। ফের সেই নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীরা জেলা প্রশাসন ও ব্লক প্রশাসনকে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
জেলার সবচেয়ে বেশি পুকুর ভরাটের অভিযোগ ওঠে পানাগড়ে, যা নিয়ে জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলাও চলছে। তারপরও জমি মাফিয়ারা বেপরোয়া বলে অভিযোগ।
অভিযোগ, কাঁকসা ব্লকের ত্রিলোকচন্দ্রপুর পঞ্চায়েতের বকুলতলা এলাকায় ১৮শতকের পুকুর ভরাট করতে তৎপর হয়েছে জমি কারবারিরা। পানাগড় নাগরিক মঞ্চের ব্যানারে তাঁরা জেলাশাসক সহ জেলা ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ দাস বলেন, ফের নতুন করে পুকুর ভরাট করা হচ্ছে। আমরা লিখিত অভিযোগ করেছি।