Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুকুরের বদলে ডোবা কেটে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা তালডাংরায়, সরব স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব

তালডাংরায় জলাশয় খননে আক্ষরিক অর্থেই পুকুর চুরির অভিযোগ উঠেছে। পঞ্চদশ কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের টাকায় বাঁকুড়া জেলা পরিষদের তরফে ওই প্রকল্প রূপায়িত হয়।

পুকুরের বদলে ডোবা কেটে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা তালডাংরায়, সরব স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব
  • ৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: তালডাংরায় জলাশয় খননে আক্ষরিক অর্থেই পুকুর চুরির অভিযোগ উঠেছে। পঞ্চদশ কেন্দ্রীয় অর্থ কমিশনের টাকায় বাঁকুড়া জেলা পরিষদের তরফে ওই প্রকল্প রূপায়িত হয়। অভিযোগ, তালডাংরা ব্লকের হাড়মাসড়ায় যে জলাশয় খননের কথা ছিল, সেখানে কাজ হয়নি। পরিবর্তে তার পাশে একটি ডোবা কেটে ঠিকাদার টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই ডোবাটিও কয়েকবছর আগে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে সংস্কার করা হয়েছিল। ফলে ঠিকাদার কার্যত ‘মাছের তেলে মাছ ভেজে’ টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসকের(জেলা পরিষদ) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বও সরব হয়েছেন। হাড়মাসড়া অঞ্চল তৃণমূল নেতৃত্ব পুরো ঘটনার তদন্ত দাবি করেছে। কাজের বরাত পাওয়া ঠিকাদারের মাথায় কার হাত রয়েছে, তাও তৃণমূল নেতারা জানতে চাইছেন।  

Advertisement

অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ) রোহন লক্ষ্মীকান্ত যোশী বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য ডিস্ট্রিক্ট ইঞ্জিনিয়ারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
তৃণমূলের হাড়মাসড়া অঞ্চল সভাপতি সুজিত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ওই গ্রামের শেখ পুকুর সংস্কার করার কথা ছিল। সেইমতো পঞ্চদশ অর্থ কমিশন থেকে জেলা পরিষদের তরফে সাড়ে ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। পুকুর কাটার পাশাপাশি সৌন্দর্যায়ন, আলো লাগানো সহ অন্যান্য কাজও হওয়ার কথা ছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার ওই পুকুরের পরিবর্তে গ্রামের একটি ছোট ডোবা কেটেছে। জেসিবি দিয়ে ওই ডোবা কাটতে খুব বেশি হলে এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা খরচ হবে। ঘটনার প্রতিবাদে বাসিন্দারা জেসিবি আটকে রেখেছিলেন। পরে চালক সহ জেসিবিটি ছেড়ে দেওয়া হয়। আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছি। যদিও ওই ডোবাটি ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে সংস্কার করা হয়েছিল। 
অভিযোগকারী শেখ জামালউদ্দিন, শেখ হালিম বলেন, বড় পুকুরটি সংস্কার করলে অনেকে উপকৃত হতেন। তা না করে ডোবা কেটে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। অবিলম্বে যাতে টাকা মেটানোর প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া হয় তারজন্য জেলা পরিষদকে অনুরোধ করা হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে তালডাংরায় কাজ পেলেই ঠিকাদারদের কাছ থেকে শাসক দলের একাংশ আগাম টাকা নিচ্ছে। রীতিমতো দলীয় কার্যালয়ে ঠিকাদারদের ডেকে টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় সম্প্রতি এক ঠিকাদারকে প্রচণ্ড মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ওই তৃণমূল নেতা ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে নিগৃহীত ঠিকাদার মুখ্যমন্ত্রী সহ দলের বিভিন্ন স্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। শাসক দলের প্রভাবশালী নেতাদের সন্তুষ্ট করতে পারায় ঠিকাদাররাও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। তাঁদের অনেকেই ঠিকমতো কাজ না করেই বিল তুলে নিচ্ছেন। আর ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি বলেন, গত নির্বাচনে স্থানীয়দের অনেক বুঝিয়ে এলাকা থেকে দলকে লিড দিতে পেরেছিলাম। এভাবে ‘পুকুর চুরি’ হলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কী হবে বলা কঠিন। অবিলম্বে দলীয় নেতৃত্বের এব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা উচিত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ