নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুখে ও মাথায় গামছা বাঁধা। কেউ আবার গায়ের গেঞ্জিটা খুলে ভালো করে মুখ ঢেকে নিয়েছে। তারপর একের পর এক আধলা ও গোটা ইট, পাথর রাস্তা থেকে তুলে ছুড়ে মারছে বিডিও ও জয়েন্ট বিডিওর আবাসনের দিকে। লালগোলা ব্লকের কৃষ্ণপুর জলট্যাঙ্ক মোড়ের কাছে সরকারি আধিকারিকদের আবাসনে প্রায়দিন রাতেই চলছে এমন তাণ্ডব। আধিকারিকদের অভিযোগ, গত ২০ দিনে অন্তত চারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। চার-পাঁচজন দুষ্কৃতী মুখে কাপড় বেঁধে এসে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। পুলিসকে বিষয়টি জানানোর পরেও সুরাহা মেলেনি। বুধবার গভীর রাতেও একই ঘটনা ঘটে। বিডিও, জয়েন্ট বিডিও ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে রয়েছেন। ব্লকের শীর্ষ আধিকারিকদের আবাসনে এভাবে হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিডিওদের আবাসনের বাইরের সিসি ক্যামেরায় যে দৃশ্য ধরা পড়েছে, তা শিউরে ওঠার মতো। বুধবার রাত পৌনে ২টো নাগাদ চার যুবক মুখ ঢেকে লাগাতার একের পর এক ইট, পাটকেল ছুড়ে মারছে আবাসনের দিকে। পাঁচিলের বাইরের বড় গেট পেরিয়ে সেসব এসে পড়ছে আবাসনের দেওয়াল গায়ে। বাইরের গেটের তালা ভাঙারও চেষ্টা করা হয়। গত ২০ দিনে চারবার একইরকম ঘটনা ঘটলেও নির্বিকার পুলিস। কারা কী উদ্দেশ্যে এমন হামলা চালাচ্ছে, সে ব্যাপারে পুলিস কিছু জানাতে পারেনি। লালবাগের মহকুমা শাসক বনমালী রায় বলেন, লালগোলার বিডিও ও জয়েন্ট বিডিওর সরকারি আবাসনে বারবার আক্রমণ করা হচ্ছে। গত ২০ দিনে চারবার আক্রমণ করা হয়েছে। তাঁদের পরিবারের লোকজন আতঙ্কে রয়েছে। গভীর রাতে কারা কী উদ্দেশ্যে এটা করছে, তা পুলিস তদন্ত করে দেখুক। আমরা এর আগেও পুলিসকে অভিযোগ জানিয়েছি। এদিন রাতের ঘটনাও পুলিসকে অভিযোগ আকারে জানানো হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিস সুপার (লালবাগ) রাসপ্রীত সিং বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। কী ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লালগোলার বিডিও দেবাশিস মণ্ডল বলেন, গত তিন সপ্তাহ ধরে রাতে আমাদের আবাসনের ক্যাম্পাসের পাঁচিল টপকে কেউ কেউ ভিতরে ঢুকছে। প্রত্যেকের মুখ ঢাকা থাকছে। ক্যাম্পাসের ভিতরে ইট, পাটকেল ছুড়ছে। থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। পুলিস তদন্ত করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, লালগোলায় এই ধরনের ঘটনা আগে কখনই ঘটেনি। এই উপদ্রব মানা যায় না। কারও যদি বিডিও বা জয়েন্ট বিডিওর উপরে কোনও অভিযোগ থাকে তাহলে এভাবে তো তার বহিঃপ্রকাশ ঠিক নয়। পুলিস অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তি দিক। ভগবানগোলার এসডিপিও বিমান হালদার বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ওই ক্যাম্পে দু’জন করে পুলিসকর্মী রাতে পাহারায় থাকবে।