তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: মাত্র এক মাসের মধ্যেই ফের শিলিগুড়িতে এটিএম লুটের ঘটনা ঘটল। মঙ্গলবার রাত প্রায় তিনটে নাগাদ ইস্টার্ন বাইপাসের লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম লুট করে পালায় দুষ্কৃতীরা। গ্যাসকাটার দিয়ে মেশিন কাটায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটার পর বিষয়টি টের পান বাড়ির মালিক ও স্থানীয়রা। পুলিস ও দমকলে খবর দেওয়া হলে সামনে আসে এটিএম লুটের ঘটনা।
এটিএম লুটের জন্য রীতিমতো ছক কষে নেমেছিল দুষ্কৃতীরা। এবারে নিউ জলপাইগুড়ি থানার অধীন অম্বিকানগর থেকে একটি গাড়ি চুরি করেছিল তারা। যদিও লুটের পরে সেই গাড়ি মাটিগাড়া থানার হিমাঞ্চল বিহারের একটি ফাঁকা জায়গায় ফেলে রেখে দুষ্কৃতী দলটি চম্পট দেয়। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা লুট হয়েছে।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, ইস্টার্ন বাইপাসে এটিএম লুট হয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত করছি। আশা করছি, দ্রুত দুষ্কৃতীরা ধরা পড়বে।
জুন মাসেই শিলিগুড়ির চম্পাসারিতে একটি কাউন্টারের জোড়া এটিএম লুটের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনাটি হয়েছিল ১৮ জুন। মাত্র একমাসের তফাতে ফের একটি এটিএম লুটের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা এটিএম কাউন্টারের ভিতরে ঢুকে প্রথমেই সিসি ক্যামেরার লেন্সে কালো রং ছিটিয়ে দেয়। ফলে তারপর আর কোনও ফুটেজ বন্দি হয়নি। এমনকী দুষ্কৃতীরা অম্বিকানগর থেকে সোজাসুজি না এসে অলিগলি দিয়ে এটিএমে পৌঁছেছিল। ইস্টার্ন বাইপাসের কাছে ঘোগোমালি বাজারে টিমের এক সদস্যকে রাখা হয়েছিল। সে সম্ভবত পুলিসের গতিবিধির উপর নজরদারি রাখছিল।
যার গাড়ি চুরি করে দুষ্কৃতীরা এটিএমে লুট করেছিল, অম্বিকানগরের সেই বাসিন্দা গাড়ির মালিক সুমিত শূরের দাবি, ভোরে আমার এক সহকর্মী মাটিগাড়ার পাথরঘাটার বাসিন্দা ফোন করে জানান আমার গাড়িটি হিমাঞ্চল বিহারের পাসপোর্ট অফিসের পিছনে পড়ে আছে। বিষয়টি জানতে পেরে যেখানে রেখেছিলাম, গিয়ে দেখি সত্যিই গাড়ি নেই। এরপর ১২ কিমি দূরে হিমাঞ্চল বিহারে গিয়ে দেখি আমারই গাড়ি। এরই মাঝে প্রচুর পুলিস এলাকায় পৌঁছে যায়।
এদিকে, গাড়ির মালিক সুমিতকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস। হিমাঞ্চল বিহার থেকে পরে কোন গাড়িতে চেপে দুষ্কৃতীরা বাইরে কোথায় গিয়েছে, তা জানতে এলাকার বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখা শুরু করেছেন তদন্তকারী অফিসাররা।