ভিনরাজ্যে বাংলা ও বাঙালির উপর অত্যাচারের আবহেই বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। বুধবার বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জন্য ঘোষিত হল এক সুখবর। এবার থেকে সিনেমা হল কর্তৃপক্ষকে প্রত্যেকটি সিঙ্গল স্ক্রিনের প্রাইম টাইমে অন্তত একটি বাংলা সিনেমা চালাতেই হবে। ফলে বছরে প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহে অন্তত ৩৬৫টি শো পাবে বাংলা সিনেমা। আগে সেই সংখ্যা ছিল ১২০টি। সেটিই প্রায় তিনগুণ বাড়িয়ে দিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। পাশাপাশি প্রাইম টাইমের সংজ্ঞায় বদল আনা হচ্ছে। আগে দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রাইম টাইম ধরা হতো। সেক্ষেত্রে অনেকেই অসুবিধার মুখে পড়তেন। সন্ধ্যায় বাংলা ছবি চলছে না বলে অভিযোগ উঠত। সেই সমস্যারও সমাধান হয়েছে। এবার থেকে দুপুর ৩টে থেকে রাত ৯টা ‘প্রাইম টাইম’ হিসেবে গণ্য হবে। বিজেপি শাসিত একাধিক রাজ্যে যখন বারবার অসম্মানিত বাংলা ভাষা, সেখানে রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী বলেই মনে করছে সংস্কৃতি মহল। এর ফলে রাজ্যে কর্মসংস্থান বাড়বে পাশাপাশি উন্নত হবে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি।
বুধবার রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের তরফে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রাইম টাইমে প্রত্যেকদিন কমপক্ষে একটি করে বাংলা ছবি চলবে। কেবল সিঙ্গল স্ক্রিন নয়, মাল্টিপ্লেক্সের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। যদি কোনও মাল্টিপ্লেক্সে দু’টি স্ক্রিন থাকে, সেক্ষেত্রে সেখানে প্রতিদিন দু’টি করে অর্থাৎ সারা বছর বাংলা ছবির অন্তত ৭৩০টি শো চালাতে হবে। তিনটি স্ক্রিন থাকলে তিনগুণ মানে ১ হাজার ৯৫টি শো চলবে। নন্দনে সাংবাদিক বৈঠকেও এই সিদ্ধান্তের কথা জানান রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ইন্দ্রনীল সেন। উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, প্রযোজক নিসপাল সিং রানে, রানা সরকার, ডিস্ট্রিবিউটর শতদীপ সাহা সহ আরও অনেকে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দর্শক আরও বেশি বাংলা ছবি দেখতে পাবেন। ১৯৫৪ সালের পশ্চিমবঙ্গ চলচ্চিত্র আইন মেনে এই নির্দেশিকা জারি হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করা হবে বলেও জানিয়েছে রাজ্য সরকার। নতুন কোনও নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত এটাই কার্যকর থাকবে।
হিন্দি বা অন্য ভাষার সিনেমার জন্য বাংলা ছবির শোটাইম না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রীকে এই বিষয়ে চিঠিও লিখেছিলেন কলাকুশলীরা। পরে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নেতৃত্বে সব পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকের পরেই এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। অবশেষে মিলল সরকারি সিলমোহর। এদিন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘সবপক্ষকে নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। সর্বসম্মতভাবে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।’