চণ্ডীগড়: বৈষ্ণোদেবীতে ধস, কাশ্মীরে মেঘভাঙা বৃষ্টি থেকে শুরু করে পাঞ্জাব, হিমাচলে বন্যা! উত্তর ভারতের অধিকাংশ রাজ্যই প্রকৃতির তাণ্ডবে বিধ্বস্ত। বৃষ্টিপাতের নিরিখে বিগত দশকের রেকর্ড ভেঙেছে একাধিক জেলা। ঘরবাড়ি, রাস্তা, ব্রিজ ভেঙে ক্ষতি হয়েছে কয়েক লক্ষ কোটি টাকার। এই মুহূর্তে সবচেয়ে ভয়ানক পরিস্থিতি পাঞ্জাবে। জলের তলায় বিঘার পর বিঘা চাষের জমি। হিসেব বলছে, ২৩টি জেলায় মোট ১.৭৫ লক্ষ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। যার প্রভাব শীঘ্রই বাজারে পড়তে চলেছে বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বন্যা এবং বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় রাজ্যে মৃতের সংখ্যা ৪০ ছাড়াল। ঘরছাড়া অন্তত ১৯০০ জন। তাঁদের নিরাপদে সরানোর কাজ চলছে। এতদিন যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়েছে সেনা, রাজ্য পুলিস, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। শুক্রবার তাঁদের সঙ্গে ছিলেন জাতীয় হকি দলের প্রাক্তন সদস্য যুগরাজ সিং, রুপিন্দর পাল সিং এবং গুরবিন্দর সিং চান্ডি।
এদিকে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক হচ্ছে কাশ্মীর। গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে বৃষ্টির দাপট। তার ফলে স্থানীয় নদীগুলোর জল বিপদসীমার নীচে নেমেছে। তবে লাগাতার বৃষ্টির জেরে নদী সংলগ্ন এলাকার মাটি আলগা হয়েছে। তাতে বড় বাড়ি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকছে। ইতিমধ্যেই বিপজ্জনক এলাকা চিহ্নিত করে সেখানকার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে শুক্রবারও খোলা হয়নি স্কুল-কলেজ। এদিন বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে ফের বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার নিয়েছে। জলের তলায় গ্রামের পর গ্রাম। শুক্রবার যমুনা তীরবর্তী বিপদসংকুল এলাকা থেকে ৫৫টি পরিবারকে উদ্ধার করে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। হরিয়ানার হিরাকুন্দ ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার জন্যই সমস্যায় পড়েছেন এখানকার মানুষজন। যমুনার জলে ভাসছে রাজধানী দিল্লির নিচু এলাকা। বন্যাবিধ্বস্ত অমৃতসর। ছবি: পিটিআই