Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মণিপুর থেকে গাঁজার সাপ্লাই লাইন বন্ধ জেলার মাদক চাহিদা মেটাচ্ছে অসম, উত্তরবঙ্গ

মণিপুরী গাঁজা আর আসছে না। এখন অসম, উত্তরবঙ্গের মাদকে মজেছে জেলার যুব সমাজের একটা বড় অংশ।

মণিপুর থেকে গাঁজার সাপ্লাই লাইন বন্ধ জেলার মাদক চাহিদা মেটাচ্ছে অসম, উত্তরবঙ্গ
  • ৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মণিপুরী গাঁজা আর আসছে না। এখন অসম, উত্তরবঙ্গের মাদকে মজেছে জেলার যুব সমাজের একটা বড় অংশ। সেগুলি প্রথম ঢুকছে ঝাড়খণ্ডে। সেখান থেকে চলে আসছে জেলায়। কখনও আবার  সরাসরি নলহাটি, রামপুরহাট হয়ে ঝাড়খণ্ড সীমানাবর্তী গ্রাম বালিয়া, নারায়নপুরে আসছে। সূত্রের খবর, বালিয়া গ্রামের এক যুবক মাদক সামগ্রীর বড় ডিলার। এখান থেকেই লাগোয়া ঝাড়খণ্ড ও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে নেশার দ্রব্য পাচার করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে এটাই অন্যতম রুট। 

Advertisement

নারায়ণপুরে গুঞ্জন, এখানকার নানা গুমটির আড়ালেই মাদকের রমরমা ব্যবসা চলত। গাঁজা, হেরোইন, ব্রাউন সুগার আসত মণিপুর থেকে। কিন্তু ওই রাজ্যে গোষ্ঠীহিংসার জেরে সেই রুট বন্ধ। নারায়ণপুর বাজার সংলগ্ন ওইসব গুমটিও বন্ধ হয়ে যায়। এখন সেই কারবার ফের মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।  ভরসা অসম, উত্তরবঙ্গ থেকে পাচার হওয়া মাদক। নলহাটি হয়ে ব্রাহ্মণী নদীর বৈধরা ব্রিজ পেরিয়ে উদয়নগর হয়ে বালিয়া গ্রামে ঢোকানো হচ্ছে গাঁজা-হেরোইন। আবার কখনও রামপুরহাট হয়ে নারায়ণপুরে পৌঁছয়। বালিয়া গ্রামের ওই ডিলাই জেলার মাদক পাচারে কিংপিন। তার অধীনে ঝাড়খণ্ড ও এলাকায় আরও কয়েকজন যুবক রয়েছে। তাদের মাধ্যমেই মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। একটা সময় দিনমজুর ছিল ওই যুবক। বর্তমানে ফুলেফেঁপে উঠেছে। বালিয়া গ্রামে বিশাল বাড়ির পাশাপাশি বাইপাস রোডেও বিলাসবহুল অট্টালিকা বানিয়েছে সে। বহু নেশাড়ুও মাদক পাচারে অংশ নিচ্ছে বলে খবর। 
স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ, নারায়ণপুরের হাটতলায় রাস্তার ধারে একটি টিনের গুমটিতে গাঁজা, ব্রাউনসুগার, হেরোইন সহ নানা নেশার সামগ্রী প্রকাশ্যেই বিক্রি করা হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই যত্রতত্র বসছে নেশার আসর। নারায়ণপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের গেটের সামনে গভীর রাত পর্যন্ত নেশার আসর চলছে। অন্যদিকে, নেশার টানে ঝাড়খণ্ডের দুষ্কৃতীদের আনাগোনাও বেড়েছে। নারায়নপুরে একটি রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম ভেঙে চুরির চেষ্টার অভিযোগে আটজন স্থানীয় দুষ্কৃতীদের পাশাপাশি মূল পাণ্ডা ঝাড়খণ্ডের গোকুলনগর গ্রামের ভবেশ রায় ওরফে রাহুলকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। একইভাবে রাতের অন্ধকারে খোদ প্রধানের বাড়ি থেকে আস্ত চন্দনগাছ কেটে ঝাড়খণ্ডে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। 
গত ৫ জুলাই ১৭ কেজি গাঁজা সহ পুলিসের জালে ধরা পড়ে নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য লালন শেখ ও তার এক সাগরেদ রবিউল শেখ। গত ২১ জুলাই প্রায় একশো কেজি গাঁজা সহ ধরা পড়ে নারায়ণপুর গ্রামের চঞ্চল শেখ। যদিও এলাকাবাসীরা বলছেন, গ্রামের একের পর এক মাদক কারবারি ধরা পড়ছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, বালিয়া গ্রামের মাদকের ওই ডিলার বহাল তবিয়তেই কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিস অবশ্য জানিয়েছে, ধৃতদের জেরা করে বেশ কিছু তথ্য মিলেছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত জারি রয়েছে। মাদক পাচার রুখতে যথেষ্ট সক্রিয় তাঁরা।  
নারায়ণপুরের বাসিন্দা তথা তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি মিলন শেখ বলেন, কিছুদিন আগেই গ্রামের বয়স্ক, যুব ও মহিলাদের নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় সচেতনতামূলক বৈঠক করেছি। যাতে এই কারবার থেকে দূরে থাকেন বাসিন্দারা। তারপরও লুকিয়ে কারবার চালাচ্ছিল কেউ কেউ। ক’দিন আগে গাঁজা সহ পঞ্চায়েত সদস্য ধরা পড়ে। গ্রামের কেউই তার পাশে দাঁড়ায়নি। দল থেকেও বহিস্কার করা হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ