Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নন্দীগ্রামে জল প্রকল্পে আরও ১৯৫ কোটি টাকা দিল এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক

নন্দীগ্রামের  জল প্রকল্পের জন্য আরও ১৯৫ কোটি টাকা দিল এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক। গত ২৯ অক্টোবর ফিলিপিন্সের ম্যানিলা থেকে এডিবি-র ছ’সদস্যের টিম পূর্ব মেদিনীপুরে এসেছিল।

নন্দীগ্রামে জল প্রকল্পে আরও ১৯৫ কোটি টাকা দিল এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নন্দীগ্রামের  জল প্রকল্পের জন্য আরও ১৯৫ কোটি টাকা দিল এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক। গত ২৯ অক্টোবর ফিলিপিন্সের ম্যানিলা থেকে এডিবি-র ছ’সদস্যের টিম পূর্ব মেদিনীপুরে এসেছিল। প্রতিনিধিরা নন্দকুমারের দনিপুরে ইনটেক পয়েন্ট, বনভেড়ায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং নন্দীগ্রামে বুস্টিং স্টেশন চত্বর পরিদর্শন করেন। ওই টিম ফিরে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার আরও ১৯৫ কোটি টাকা এসেছে। এরফলে তৃতীয় ধাপের কাজের জন্য টেন্ডার ডাকতে চলেছে প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিট(পিআইইউ)। এরফলে নন্দীগ্রামে অতিরিক্ত ১৪টি ওভারহেড রিজার্ভার এবং ৫০০ কিলোমিটার পাইপ লা‌ইন পাতা হবে।

Advertisement

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম-১ ও ২ ব্লকে ৬৪ হাজার বাড়িতে মাথা পিছু দৈনিক ৭০ লিটার পরিস্রুত পানীয় জল সরববরাহ করা হবে। এজন্য এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক(এডিবি) প্রথমে ৫১৩ কোটি এবং দ্বিতীয় ধাপে আরও ৪৩৩ কোটি টাকা দেয়। ২০১৯ সালে ডিসেম্বর মাসে কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু, নানা কারণে সেই কাজ ঠিকমতো এগোয়নি। যেকারণে বার বার প্রকল্প চালুর সময় পিছিয়ে যাচ্ছে। 
নন্দকুমার থানার দনিপুরে রূপনারায়ণ নদ থেকে জল তুলে পাইপলাইনের মাধ্যমে পৌঁছবে নন্দকুমারের বনভেড়ায়। সেখানে ১৬ একর সরকারি জমির উপর তৈরি হচ্ছে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। দীঘা যাওয়ার ১১৬বি জাতীয় সড়কের বাঁ ধারে বনভেড়ায় এনিয়ে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। সেখান থেকে পরিস্রুত জল নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের গড়চক্রবেড়িয়া এবং নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের মনোহরপুর বুস্টিং স্টেশনে পৌঁছবে। ওই দুই স্টোরেজ পয়েন্ট থেকে গোটা বিধানসভার ২৯টি ওভারহেড রিজার্ভারে জল সরবরহ করা হবে। তারপর জল পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে।
জানা গিয়েছে, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক প্রথম ও দ্বিতীয় প্যাকেজে মোট ৯৪৬ কোটি টাকা দিয়েছে। নরঘাটে হলদি নদীর উপর দিয়ে পাইপ লাইন নন্দকুমার থেকে চণ্ডীপুরে যাবে। সেখানেও ভেসেল নামিয়ে কাজ চলছে। গত ২৯ অক্টোবর ম্যানিলায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের হেড কোয়ার্টার থেকে ছ’সদস্যের টিম ওই কাজ দেখতে পূর্ব মেদিনীপুরে এসেছিল। তাদের সঙ্গে পিএইচই দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররাও ছিলেন। এর আগে নন্দীগ্রামে ‌১৫টি রিজার্ভার তৈরির কথা ছিল। কিন্তু, এডিবি-র পক্ষ থেকে আরও ১৪টি ওভারহেড রিজার্ভার এবং ৫০০কিলোমিটার পাইপ লাইন পাতার জন্য টাকা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার জেলাশাসক অফিসে ডিস্ট্রিক্ট লেভেল মনিটরিং কমিটির বৈঠক ছিল।  ওই বৈঠকে নন্দীগ্রামে এডিবি-র আর্থিক সহায়তায় জলপ্রকল্পের কাজকর্ম নিয়েও আলোচনা হয়। তমলুকের মানিকতলায় পুরনো জেলা পরিষদ অফিস বিল্ডিংয়ে শুধুমাত্র ওই প্রজেক্টের জন্য পিআইইউ অফিস গড়ে ওঠেছে। ওই প্রজেক্টের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার সুদীপকুমার সেন প্রকল্পের খুঁটিনাটি বিষয় তুলে ধরেছেন। 
জানা গিয়েছে, এবছর ডিসেম্বর মাসে ওই প্রজেক্ট চালুর কথা ছিল। যদিও তা পিছিয়ে ২০২৬ সালে জুলাই মাস হতে পারে বলে পিআইইউ সূত্রের খবর। তমলুকের তালপুকুর এবং চণ্ডীপুরের মগরাজপুরে ব্যক্তিগত জমির নীচ দিয়ে পাইপলাইন নিয়ে যেতে হবে। ওই জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণ চাইছেন। এছাড়া, বনভেড়ায় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মধ্যে একটি মন্দির নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। মিটিং করেও জটিলতা কাটেনি।
প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন ইউনিটের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ওই প্রকল্পে তৃতীয় দফায় আরও ১৯৫কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে। শীঘ্রই ওভারহেড রিজার্ভার ও পাইপলাইন পাতার টেন্ডার ডাকা হবে।  এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের তরফে জল প্রকল্প পরিদর্শন।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ