জামিরাপাল গড় রাজবাড়িতে অষ্টধাতুর সিংহবাহিনী পার্বতী
  • ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্রাম: ওড়িশা থেকে চারশো বছর আগে অষ্টধাতুর সিংহবাহিনী দুর্গামূর্তি এনে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলগড়ে। নয়াগ্রামে জঙ্গলের ভিতর ওই গড় ছিল ‹পাইকারা তৃষ্ণা›সামন্ত রাজাদের। স্বাধীনভাবে তাঁরা রাজত্ব চালাতেন। জামিরাপাল রাজবাড়িতে দেবী মূর্তি আজও পুজিত হয়ে চলেছে।পুজোর সময় ছাড়াও বিগ্ৰহের নিত্যপুজো হয়। মহালয়া থেকে যষ্ঠী পর্যন্ত ঠাকুরদালানেহয় চণ্ডীপাঠ। শারদোৎসবের চারদিন অষ্টধাতুর সিংহবাহিনীর পাশাপাশি পৃথক মন্দিরে হয় মৃন্ময়ী দেবী প্রতিমার পুজোও।

Advertisement

নয়াগ্ৰাম একসময় দূর্ভেদ্য জঙ্গলে ঘেরা ছিল। জঙ্গলের  ভিতর তিনটি গড় ছিল। আজ আর প্রথম ও দ্বিতীয় গড়ের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায় না। তৃতীয় গড়টি পরে নির্মাণ করা হয়েছিল। যা বর্তমানে জামিরাপাল গড়রাজবাড়ি নামেপরিচিত। অতীতে ময়ূরভঞ্জের রাজারা জামিরাপাল জঙ্গলগড়ের এক সদস্যকে ‹পাইকারা তৃষ্ণা› উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন । সামন্ত রাজারাদীর্ঘসময় ধরে বহিঃশত্রুর আক্রমন থেকে নিজেদের স্বাধীনতা বজায় রাখতে পেরেছিলেন।সৈন্য বাহিনী নিয়ে ময়ূরভঞ্জের রাজাদের হয়েওতাঁরা যুদ্ধ করতেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধেও গড়ের রাজারা যুদ্ধ করেছিলেন। ১৮০৩ সালে দ্বিতীয় মারাঠা যুদ্ধের পর  রাজা ও পরিবারের সদস্যদের গড় ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছিল। শেষপর্যন্ত কোম্পানির সঙ্গেচুক্তি করে শাসন ক্ষমতা বজায় রাখা সম্ভব হয়। দেবীর কৃপাতেই তা সম্ভব হয়েছিল বলে রাজবাড়ির সদস্যরা আজও মনে করেন। জামিরাপাল রাজবংশের বারবার উত্থান পতনেও পুজো বন্ধ হয়নি। জামিরাপাল রাজবাড়ির পুজোর সেই জৌলুস আর নেই।রাজবাড়ীটি ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে। প্রাচীন প্রথা ও রীতি মেনে মন্দিরে আজও দেবীর পুজো করা হয়।  রাজবাড়ির বামদিকে বাংলা রীতিতে তৈরি দুই কক্ষ বিশিষ্ট মন্দিরটি রয়েছে। মন্দিরের এক কক্ষে রাধাকৃষ্ণেরপুজো হয়। অন্য কক্ষে অষ্টধাতুর সিংহবাহিনীর নিত্যপুজো চলে। মন্দিরের গায়ে কৃষ্ণ, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, গরুড় ও নৃত্যরত নারীদের ছবি খোদাই করা আছে। অষ্টধাতুর বিগ্রহ নিয়েনানা কিংবদন্তি ছড়িয়ে আছে। রাজ পরিবারের সদস্যদের দাবি, জাগ্রত দেবীকে মন্দিরের বাইরে নিয়ে গেলে দেবী রুষ্ট হন। মন্দির থেকে অষ্টধাতুর বিগ্রহটি অতীতে চুরি হয়ে গিয়েছিল। দুষ্কৃতীরা বিগ্রহটি কোনোঅজ্ঞাত কারণে ফেলে চলে যায়। রাজবাড়ির সদস্যরা দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে গড় সংলগ্ন নদীঘাট থেকে মূর্তিটি উদ্ধার করে আনেন।মন্দিরের বিগ্রহটি আবার প্রতিষ্ঠা করা হয়। রাজবাড়ির বর্তমান সদস্য সঞ্জীব দাস মহাপাত্র বলেন, চারশো বছর আগে ওড়িশা থেকে এই অষ্টধাতুর মূর্তি এনে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বিগ্রহটিকেসৌভাগ্য ও বংশমর্যাদার প্রতীক বলে মনে করা হয়। অবশ্য মৃন্ময়ী প্রতিমার পুজোর সূচনা হয় আড়াইশো বছর আগে। পুজোয় চারদিন ধরে প্রথা মেনে যজ্ঞ হয়। সূচি বস্ত্র পরিহিত চার জন ব্রাহ্মণ উপস্থিত থাকেন। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মেনে দেবীর পুজো করা হয়। চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয় । পর্যটন ব্যবসায়ী প্রণব মাহাত বলেন, প্রাচীন রাজবংশের এই পুজোয় ঐতিহ্য ও সাবেকিয়ানা এখনও বজায় রয়েছে। ঝাড়গ্রামের রাজবাড়ীগুলির পুজো দেখতে পর্যটকদের এবার নিয়ে যাওয়া হবে। জেলার পর্যটনস্থল ও প্রাচীন রাজবাড়ীর পুজো নিয়ে পর্যটকদের আগ্ৰহ বাড়ছে।