Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিত্যদিন লেট আসানসোল-দুর্গাপুরের লোকাল ট্রেন, সমস্যায় যাত্রীরা, গার্ডকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ

শুক্রবার সকালে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও আসানসোলগামী লোকাল ট্রেন দীর্ঘক্ষণ গলসি স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল। তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন যাত্রীরা।

নিত্যদিন লেট আসানসোল-দুর্গাপুরের লোকাল ট্রেন, সমস্যায় যাত্রীরা, গার্ডকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: শুক্রবার সকালে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও আসানসোলগামী লোকাল ট্রেন দীর্ঘক্ষণ গলসি স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল। তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন যাত্রীরা। তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। ট্রেনের গার্ডের সঙ্গে যাত্রীদের বচসার পরিস্থিতিও তৈরি হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, বর্ধমানগামী ও আসানসোলগামী অধিকাংশ লোকাল ট্রেন সময়ে চলে না। প্রায়ই নির্দিষ্ট সময়ের থেকে লোকাল ট্রেনগুলি দেরিতে চলে। ফলে সমস্যায় পড়ছেন অফিস যাত্রী থেকে পড়ুয়ারা। গলসি স্টেশনের এদিনের ঘটনা নিয়ে আসানসোল ডিভিশনের এক আধিকারিক বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

Advertisement

আসানসোল ডিভিশনের গলসি, পারাজ, মানকর, পানাগড় স্টেশন থেকে বহু মানুষ প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে বর্ধমান ও দুর্গাপুরে যান। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ, আসানসোলগামী ও বর্ধমানগামী অনেক লোকাল সময়ে আসে না। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। এদিন সকালে ৬৩৫০৯ লোকাল ট্রেনটি বর্ধমান থেকে ঝাঝার উদ্দেশে নির্ধারিত সময় সকাল ৭ টা ১৫ থেকে প্রায় ১৫ মিনিট দেরিতে ছাড়ে। গলসি স্টেশনে এসে পৌঁছয় সকাল ৭টা ৫৭মিনিটে। অভিযোগ, প্রায় আধঘণ্টা ধরে এখানেই দাঁড়িয়েছিল ট্রেনটি। তারপর গন্তব্যে রওনা দেয়। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ যাত্রীরা। তাঁদের একাংশ ট্রেন থেকে নেমে গার্ডের কাছে যান। যাত্রীরা জানতে চান, কেন ট্রেনটিকে এভাবে দেরি করানো হচ্ছে। বচসার পরিস্থিতিও তৈরি হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই একই ঘটনা ঘটছে। দেরিতে চলছে ট্রেন। 
এদিন গলসি স্টেশনে উপস্থিত যাত্রী জয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, লোকাল ট্রেনটি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার পরেও ট্রেন ছাড়েনি। তখন অনেকেই গার্ডের কাছে গিয়েছিলেন। লোকাল ট্রেন সময়ে চললে সুবিধা হয়। ট্রেনযাত্রী কুশল নন্দী বলেন, ট্রেনে দুর্গাপুরে নেমে বাঁকুড়াগামী বাস ধরব। এমনিতেই ট্রেনটি বর্ধমান থেকে দেরি করে ছেড়েছে। আবার গলসিতে আধ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকল। এভাবে সময়ের অপচয় হচ্ছে। এর দায় কে নেবে? যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, লোকাল ট্রেনের পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। লোকাল ট্রেনের উপর ভরসা রেখে গন্তব্যে যাওয়া মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। গলসির সঞ্জয় ঘোষ বলেন, শুধু আসানসোলগামী নয়, বর্ধমানগামী লোকাল ট্রেনও প্রায়ই লেট করে। ফলে হাওড়াগামী কর্ড বা মেন লাইন লোকাল সময়ে পাওয়া যায় না। দীর্ঘক্ষণ বর্ধমান স্টেশনে বসে থাকতে হয়। মানকরের বাসিন্দা নিত্যযাত্রী সুরজিৎ গুপ্ত বলেন, আসানসোলগামী লাস্ট লোকাল প্রায়ই সময়ে আসে না। ফলে অফিসের ডিউটি ধরতে দেরি হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। তিনি জানান, ট্রেন দেরি করলে প্রাণ হাতে নিয়ে রাজবাঁধ স্টেশন থেকে নেমে ডিউটি ধরতে যেতে হয়। যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বর্ষাকালে সমস্যা আরও বাড়ে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ