সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: করোনা সংকটে দেশজুড়ে রেল পরিষেবা ব্যাহত হয়েছিল। পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ট্রেনের পরিষেবা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কিন্তু পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ৬৩৫৯২/৬৩৫৯১ আসানসোল-বোকারো মেমু প্যাসেঞ্জার ট্রেনের পরিষেবা তারপরেও বন্ধ ছিল। অবশেষে পুরুলিয়া জেলার মানুষের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ এই ট্রেনের পরিষেবা চালু হচ্ছে। রবিবার এই ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। দীর্ঘ পাঁচবছর বন্ধ থাকার পর এই ট্রেন চালু হতে চলায় যাত্রীরা খুশি। আদ্রা ডিভিশনের সিনিয়র ডিসিএম বিকাশ কুমার বলেন, রবিবার উদ্বোধনের পর ১০ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রেনটি আগের মতোই চলাচল করবে। সেই-সংক্রান্ত একটি নির্দেশিকা এসেছে।
আদ্রা ডিভিশনে মাত্র কয়েকটি লোকাল ট্রেন চলে। এই আসানসোল-বোকারো প্যাসেঞ্জার ট্রেনের উপর পুরুলিয়া জেলার বহু চাকরিজীবী নির্ভর করতেন। ট্রেনটি বন্ধ হওয়ার পর পুরুলিয়ার অনেক চাকরিজীবীকেই বাসে অফিসে যাতায়াত শুরু করতে হয়। সেকারণে ট্রেনটি ফের চালু করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন দীর্ঘ আন্দোলন করেছে। রেল কর্তৃপক্ষকে ডেপুটেশন, স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। অবশেষে দীর্ঘদিন পর এই ট্রেনের পরিষেবা চালু হচ্ছে।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্যাসেঞ্জার ট্রেন আসানসোল, বার্নপুর সহ পুরুলিয়া জেলার প্রায় প্রতিটি স্টেশনে দাঁড়াবে। রবিবার বাদে সপ্তাহে ছ’দিন ট্রেনটি চলাচল করবে। আসানসোল থেকে সকাল ৭টায় ছেড়ে ১১টা ১৫মিনিটে ট্রেনটি বোকারোয় পৌঁছবে। বোকারো থেকে ৩টে ৪০মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ট্রেনটি আসানসোলে পৌঁছবে। স্বাস্থ্যকর্মী বনলতা মণ্ডল, ব্যবসায়ী অজয় সেনগুপ্ত বলেন, এই ট্রেন পুরুলিয়া জেলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ফের ট্রেনটি চালু হবে শুনে ভালো লাগছে। আদ্রা ডিভিশনের প্যাসেঞ্জার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কৌশিক সরকার ও স্বদেশপ্রিয় মাহাত বলেন, আদ্রা ডিভিশনে রেল পরিষেবা সহ যাত্রীদের নানা সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। আসানসোল-বোকারো ট্রেনের পরিষেবা চালুর দাবি জানিয়ে ডেপুটেশন, স্মারকলিপি ও বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। রঘুনাথপুরের বিজেপি বিধায়ক বিবেকানন্দ বাউরি বলেন, রঘুনাথপুরের মানুষের জন্য ট্রেনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই ট্রেন চালু করতে রেলের বিভিন্ন মহলে চিঠি পাঠিয়েছিলাম। ডিআরএমের সঙ্গে একাধিকবার এনিয়ে বৈঠকও করেছি। বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, নির্বাচনে জেতার পর থেকে আদ্রা ডিভিশনের পরিষেবা নিয়ে রেলের প্রতিটি বৈঠকে সরব হয়েছি। সংসদে পর্যন্ত জানানো হয়েছে। এতেই রেল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়েছে। বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি চাপে পড়ে ট্রেন পরিষেবা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে। এই ডিভিশনে রেল পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।