সংবাদদাতা, ঘাটাল: শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘাটাল মহকুমার বিভিন্ন ঝিল ও জলাশয়ে পরিযায়ী পাখিরা আসতে শুরু করেছে। আর সেই পাখিদের চাক্ষুষ করতেই নভেন্বরের দুপুরে ঘাটালের বিভিন্ন বড় জলাশয়গুলিতে ভিড় করছেন মানুষ। কিন্তু পরিযায়ী পাখিরা যাতে নির্বিঘ্নে এই শীতের মরশুমে ঘাটালে থাকতে পারে সে ব্যাপারে বিশেষ পদক্ষেপ করছে বন দপ্তর। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বন দপ্তরের ডিএফও (খড়্গপুর) মণীশকুমার যাদব বলেন, ‘পরিযায়ী পাখিগুলিকে যাতে কেউ বিরক্ত না করে তা নিয়ে আমরা সচেতনতা মূলক প্রচার শুরু করেছি। প্রচারের পরিধি আরও বাড়িয়ে তুলতে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে সঙ্গে নেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা চাইব মিডিয়াও সহযোগিতা করুক।’
ঘাটাল মহকুমার অনেক জায়গাতেই শীতের শুরুতে কম-বেশি পরিযায়ী পাখি চলে আসে। সেসব জায়গার মধ্যে ঘাটাল শহর লাগোয়া হরিসিংপুর ইকো ট্যুরিজম পার্ক ও শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কেঁদুর জলাশয়ে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে বেশি। তবে হরিসিংহপুর পার্ক লাগোয়া ঝিল থাকায় ওখানে পরিযায়ী পাখির খবর অনেকের কাছে থাকলেও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কেঁদুর জলাশয়ে যে প্রতিবছর বেশ কয়েক হাজার পাখি আসে সেই খবর অনেকেরই অজানা।
১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আশিস দে ও সুপ্রিয় বেরা বলেন, ওখানে এক সময় একসঙ্গে পাঁচ থেকে ১০ হাজারেরও বেশি পাখি দেখা যায়। এক একটির ওজন আবার তিন থেকে চার কেজি। স্থানীয়দের কাছে এরা শামুকখোল বা সামখোল নামেই পরিচিত।
ডিএফও বলেন, এসব পাখিগুলো তিন-চার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে আসে। এদের নির্বিঘ্নে বিচরণের সুযোগ করে দেওয়া উচিত।
কিন্তু স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিযায়ী পাখি এলাকায় আসতে শুরু করলেই বেশ কিছু দুষ্কৃতী তাদের ধরে মেরে খাবার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। সামখোল পাখির ওজন যেহেতু বেশি তাই ওই পাখির মাংস খাওয়ার জন্য রাতে কেউ ফাঁদ পেতে রাখছে কেউ বা জলাশয়ের ধারে মাছ ধরার কাঁটায় কীট-পতঙ্গ দিয়ে টোপ ফেলে রাখছে। কীটনাশক দিয়ে পরিযায়ী পাখি মারার ঘটনাও ঘটেছে।
বন দপ্তরের ঘাটাল সোশ্যাল ফরেস্ট্রির রেঞ্জার রতন সরকার জানান, এই ধরনের দুষ্টচক্রের জন্যই আমরা উদ্বেগে রয়েছি। প্রত্যেক বছর পাখি ধরার বহু অভিযোগ বন দপ্তরের কাছে যায়। তাই এবছর তাঁরা আগে থেকেই সতর্ক রয়েছেন। প্রত্যেকটি জায়গায় সতর্কতামূলক প্রচারও চালানো হচ্ছে। পুলিশকে জানিয়ে রাখা হবে। এলাকায় এলাকায় বনদপ্তরের কর্মীদের নিয়মিত পাহারা থাকবে। রেঞ্জার আরও বলেন, যেখানে পরিযায়ী পাখিরা আস্তানা তৈরি করে তার পাশাপাশি এলাকাতেই পিকনিক স্পট গড়ে ওঠে। শীতের সময় পিকনিক করতে গিয়ে অনেকেই ডিজে বাজান, বাজি ফাটান। বিকট শব্দে পরিযায়ী পাখিদের সমস্যা হয়। ধারাবাহিক শব্দ হলে পরিযায়ী পাখি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। বনদপ্তরের আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ, যাঁরা পিকনিক করতে যাবেন তাঁরা এমন কিছু করবেন না যার জেরে পরিযায়ী পাখিদের সমস্যা হয়। পাখিদের ধরলে, তাদের বিরক্ত করলেই যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিজস্ব চিত্র