সংবাদদাতা, মানকর: গ্রীষ্মের ছুটির পর বিদ্যালয় খুললেও দাবদাহ কমেনি। তীব্র গরমের দাপট এখনও রয়েছে। গরম না কমায় চিন্তিত শিক্ষক থেকে অভিভাবকরা। এই পরিস্থিতিতে স্কুল চালু রেখে ‘মর্নিং সেশন’ করার দাবি উঠছে অভিভাবকমহল থেকে। যদিও এক স্কুল পরিদর্শক বলেন, এই বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও নির্দেশ আসেনি। এলেই বিদ্যালয়গুলিকে জানানো হবে। গ্রীষ্মের ছুটির পর বিদ্যালয় খুলেছে। পড়ুয়াদের উৎসাহও রয়েছে। কিন্তু পানাগড়, বুদবুদ, মানকর, সর, গলসি সহ একাধিক জায়গায় তাপমাত্রা গড়ে ৩৪ থেকে ৩৮ ডিগ্রী। বহু পড়ুয়াই এই গরমে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। বুধবার বুদবুদের তিলডাঙা অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে যায়। বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই পড়ুয়া প্রথমে জানায় তার মাথা ঘুরছে। পরে বমিও করে। অসুস্থ বোধ করায় বিদ্যালয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করে আমাদের শিক্ষকরা বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসেন। তিনি জানান, এই গরমে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হারও কম। মর্নিং স্কুল হলে পড়ুয়াদের সুবিধা হবে। বুদবুদের মতো একই পরিস্থিতি কয়েকদিন আগে ঘটেছিল মানকরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানেও পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে বমি করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, গত কয়েকদিনে তাপমাত্রা যেভাবে বেড়েছে তাতে দুপুরে স্কুল চালানো খুব মুশকিল। এই গরমে পড়ুয়ারা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে সকালে স্কুল চালু হলে পড়ুয়াদের সুরাহা হবে। অভিভাবকদের অনেকেই সকালে স্কুল চালু করার কথা বলছেন। গরমে একাধিক স্কুলে মিড ডে মিলের পর পড়ুয়াদের শ্রেণিকক্ষে নিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। সর বৃন্দাবনপুর আদিবাসীপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইন্দ্রনীল কোনার বলেন, পড়ুয়ারা জলপান করছে কিনা লক্ষ্য করছি। ওরা যাতে মাঠে না যায় বা অযথা দৌড়াদোড়ি না করে সেদিকে নজর রাখছি। মানকর ভট্টাচার্যপাড়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালইয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা পারমিতা রজক বলেন, রোদে যাতে পড়ুয়ারা না বেরোয় সেদিক কড়া নজর রাখা হচ্ছে। শরীর খারাপ বুঝলে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি। অভিভাবক নারায়ণ ঘোষ বলেন, গরমে কাহিল হয়ে যাচ্ছে। দুঃসহ গরমে শরীরে জল কমে গিয়ে দেখা দিচ্ছে ‘ডিহাইড্রেশন’-এর সমস্যাও। আমরা চাইছি বিদ্যালয় সম্পূর্ণ বন্ধ না করে মর্নিং স্কুল হোক। এতে ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে, পড়াশোনারও ক্ষতি হবে না। কাঁকসার বিকাশ চৌধুরী বলেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের মাত্রা বাড়ছে। অস্বস্তিকর গরমে রাস্তাঘাটে লোকজনও কম বের হচ্ছেন। এই অবস্থায় বিদ্যালয়গুলিতে পড়ুয়াদের নিয়ে অসুবিধা হচ্ছে। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। তখন অস্বস্তি আরও বাড়ছে। অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের পক্ষে পার্থসারথী ঘোষ বলেন, আমরা জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। অতিরিক্ত গরমের জন্য বর্ষা না আসা পর্যন্ত মর্নিং স্কুলের আবেদন জানিয়েছি। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া এক পড়ুয়া।-নিজস্ব চিত্র



