Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিকেল গড়াতেই আলোর ফুলঝুরি, হুগলির রাস্তায় কালো মাথার ঢল

বিকেল গড়ানোর আগেই জ্বলে উঠল আলো। হুগলির পরিচিত, আধাপরিচিত সমস্ত জনপদে আলোকসজ্জা তখনও রোশনাই ছড়াতে পারেনি।

বিকেল গড়াতেই আলোর ফুলঝুরি, হুগলির রাস্তায় কালো মাথার ঢল
  • ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ১৬:১০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বিকেল গড়ানোর আগেই জ্বলে উঠল আলো। হুগলির পরিচিত, আধাপরিচিত সমস্ত জনপদে আলোকসজ্জা তখনও রোশনাই ছড়াতে পারেনি। তার আগেই পথে নামল ভিড়। সুবেশ, সুসজ্জিত সেই ভিড় যখন পথঘাট দখল করে ফেলেছে, তখন দীপাবলির আলোও তীব্র হতে শুরু করে। কোথাও পুজো দেওয়ার ভিড়, কোথাও পুজো দেখার। আবার কোথাও নিখাদ আনন্দনগরীর প্রবাহে ভেসে যাওয়ার অফুরন্ত চাহিদায় শ্রীরামপুর থেকে চুঁচুড়া, পাণ্ডুয়া থেকে বেগমপুরের পথেঘাটে শুধুই কলরব। তখনও রাত নামেনি। শুধু ভিড় আর কালো মাথার দাপটেই নেমে এসেছিল অন্ধকার। দীপাবলির আকাশ তখন প্রতিনিয়ত জ্বলে উঠছে আলোর ফুলঝুরির সঙ্গে। পথঘাট আলোর উৎসবে বাড়তি চমক ছড়াতে শুরু করেছে।

Advertisement

গত কয়েকদিন ধরেই ভিড়ের ওই বাঁধভাঙার নীরব প্রস্তুতি চলছিল। সোমবার প্রসন্ন আবহাওয়া, মন্দিরে আর মণ্ডপে মঙ্গলশঙ্খের আওয়াজেই যেন তার ঘুম ভাঙল। কোথাও জনস্রোত গড়াল থিম পুজোর মণ্ডপ সফরে তো কোথাও সুপ্রাচীন কালীমন্দিরের দেবদেউলে উপচে এল ভক্তসমাগম। ততক্ষণে শহর থেকে গ্রাম, নগর থেকে সাবেক বন্দরের পথে পথে ফুটে উঠেছে আলোকমালা। আলোর ঝরনাধারায় ধুয়ে গিয়েছে মসৃণ পিচরাস্তা থেকে গ্রামের মেঠো পথ। পাণ্ডুয়ার পথঘাট হয়ে উঠেছে আলোকমালার চলমান প্রদর্শনী। ট্রেন থেকে চারচাকা গাড়িতে করে থিকথিকে ভিড় জমতে শুরু করেছে পাণ্ডুয়ার বিভিন্ন এলাকায়। থিমপুজোর মনোরম পরিবেশে মুগ্ধ হয়েছে নাগরিক মহল্লা, আবালবৃদ্ধবনিতা। রাত গড়ানোর আগেই পাণ্ডুয়া দেখে ফেলেছে অমানিশাকে মুছে দেওয়া এক বিরল আলোকসমাবেশ এবং জনজোয়ার। রাত যত গড়িয়েছে গর্জন বেড়েছে সেই জনস্রোতের। হাজার এক প্রশাসনিক বিধিনিষেধের পরেও ভিড়ের দাপট চমকে দিয়েছে উদ্যোক্তাদের। পাণ্ডুয়া কেন্দ্রীয় কালীপুজো কমিটির কর্তা তথা অন্যতম বিগবাজেটের পুজো উদ্যোক্তা সঞ্জয় ঘোষ বলেন, প্রত্যাশার বেশি ভিড় হয়েছে। ভিড় তো নয়, যেন বাঁধভাঙা জনস্রোত। ভিড়ের দাপটে নাজেহাল হয়েছে হুগলির প্রান্তিক জনপদ বেগমপুর। সেখানেও থিমের পুজো দেখতে বিকেল গড়ানোর আগেই ভিড় নেমেছিল পথে। পুজো উদ্যোক্তা কাঞ্চণ রিট বলেন, স্থানীয় থেকে দূরদূরান্তের মানুষ বেগমপুরের আনাচকানাচ চষে ফেলেছিলেন।
থিম নেই চুঁচুড়া, শ্রীরামপুর, মণ্ডলাই, বৈঁচিতে। কিন্তু ছিল মানুষের ভিড়। বলা ভালো ভক্তসমাগম আর দীপাবলির রাতের প্রতিটা পরত উপভোগ্য করার আবেগ। চুঁচুড়ার রাজপথ এদিন বারবার অবরুদ্ধ হয়েছে। বুনোকালী মন্দির থেকে দয়াময়ী কালীমন্দির, জমাট ভিড়ের দাপটে বারবার স্তব্ধ হয়েছে নাগরিক চলাচল। পুজো দেওয়ার ও পুজো দেখার ঢল নেমেছিল শ্রীরামপুর, চুঁচুড়ার বিভিন্ন প্রাচীন শ্যামা-মন্দিরে। বৈঁচিগ্রামের বুড়িমা, মণ্ডলাইয়ের পথের মা’য়ের পুজো দেখতেও নাগরিক উচ্ছ্বাস ছিল অনাবিল। সিঙ্গুর থেকে ত্রিবেণী, ডাকাতকালী মন্দিরগুলিতে ভিড় ছিল দেখার মতো। রাত যত গড়িয়েছে উৎসব মরশুমের অন্তিমপর্বের আনন্দ শুষে নিতে মাতোয়ারা হয়েছে নাগরিক মহল।   নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ