সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা প্রকট। গ্রীষ্ম পড়তেই বিধানসভা এলাকায় পানীয় জলের জন্য রাস্তা অবরোধ থেকে শুরু করে প্রশাসনিক দপ্তরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী এবার সেই পানীয় জলের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়েছেন। তাঁর সাংসদ তহবিলের প্রায় ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা দিয়ে রঘুনাথপুর বিধানসভাজুড়ে পানীয় জলের কাজ করতে চলেছেন। কাজের খতিয়ান সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য তথা সুপারিশ পত্র ইতিমধ্যে পুরুলিয়া জেলা শাসককে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের কাজ হলে রঘুনাথপুর শহর সহ দু’টি ব্লক এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা মিটবে।
অরূপবাবু বলেন, বর্তমানে রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকার রঘুনাথপুর শহর সহ ব্লক এলাকাগুলিতে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। শহরের জন্য বর্তমান সরকার একটি নলবাহিত পানীয় জল প্রকল্প রূপায়ন করেছে। গ্রামগুলিতেও চলছে প্রকল্পের কাজ। তাই সেই প্রকল্পের পাশাপাশি স্থানীয় স্তরের প্রকল্প থাকা প্রয়োজন। পুরুলিয়া জেলায় পানীয় জলের সঙ্কট রয়েছে। তাই জলের সমস্যার সমাধানের আগাম চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, সাংসদ তহবিলে মোট ১৩টি সোলার চালিত সাবমার্সিবল এবং ১০টি গভীর নলকূপ তৈরি করা হবে। প্রতিটি সোলার সাবমার্সিবলের জন্য ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিটি গভীর নলকূপের জন্য বরাদ্দ হয়েছে দেড় লক্ষ টাকা। রঘুনাথপুর শহরের জন্য ৩২ লক্ষ, নিতুড়িয়া ব্লকে ৪২ লক্ষ ৫০ হাজার এবং সাঁতুড়ি ব্লকে ৫১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। যার ফলে কয়েক হাজার মানুষ উপকৃত হতে চলেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুর শহরের ১ এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডে দু’টি সোলার সাবমার্সিবল হচ্ছে। এছাড়া নিতুড়িয়া ব্লকের দীঘা গ্রাম পঞ্চায়েতের হেড্ডি, নামো- দীঘা, গোয়ালাডি, সড়বড়ির বাসুধাওড়া, শালতোড়ের সিটিং ধাওড়ায় নিয়ে মোট পাঁচটি এবং সাঁতুড়ি ব্লকের প্রতিটি পঞ্চায়েতে একটি করে মোট ছয়টি সাবমার্সিবল বসবে। অন্যদিকে, রঘুনাথপুর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সহিস পাড়া, ভগৎ পাড়া, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শেখরা পাড়া, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মালিগলি পাড়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঝান্ডা পাড়া (কেউট বস্তি), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আমবাগান রোড, ৯ নম্বর ওয়ার্ডে জাতি কুলি, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মিশ্র পাড়া, বাউরি পাড়া, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে রঘুনাথ শিশু উদ্যানে গভীর নলকূপগুলি করা হবে। রঘুনাথপুর শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কংগ্রেস কাউন্সিলার দেবযানী পরামানিক বলেন, সাংসদ তহবিলের রঘুনাথপুর শহরে কাজ হবে সেটা খুবই ভালো। আগেও প্রাক্তন সাংসদ সুভাষ সরকার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে তিনটি সোলার লাইট এবং একটি সোলার সাবমার্সিবল দিয়েছিলেন। অরূপবাবুও শহরে পানীয় জলের জন্য সক্রিয় হয়েছেন। শুনে ভালো লাগলো। সাঁতুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তথা ব্লক তৃণমূল সভাপতি রামপ্রসাদ চক্রবর্তী বলেন, অরূপবাবু রঘুনাথপুর এলাকার মানুষের অত্যন্ত কাছের মানুষ। যে কোনও সময় তাঁকে ডাকলে পাওয়া যায়। মানুষের অসুবিধার কথা ফোনে জানালেও তিনি কাজ করে দেন। তিনি পানীয় জলের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় হয়েছেন। অনেক মানুষ উপকৃত হবেন। -নিজস্ব চিত্র