Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

অরুণাচল প্রদেশ চীনের অংশ! সাংহাই বিমানবন্দরে ভারতীয় তরুণীকে হেনস্তা

অরুণাচল প্রদেশ চীনের অংশ! সাংহাইয়ের পুডোং বিমানবন্দরে এমনই শুনতে হল ভারতের অরুণাচল প্রদেশের কন্যা প্রেমা ওয়াংজম থংডককে।

অরুণাচল প্রদেশ চীনের অংশ! সাংহাই বিমানবন্দরে ভারতীয় তরুণীকে হেনস্তা
  • ২৪ নভেম্বর, ২০২৫ ১৩:১১
Prefer us on Google

সাংহাই, ২৪ নভেম্বর: অরুণাচল প্রদেশ চীনের অংশ! সাংহাইয়ের পুডোং বিমানবন্দরে এমনই শুনতে হল ভারতের অরুণাচল প্রদেশের কন্যা প্রেমা ওয়াংজম থংডককে। তাঁর জন্ম অরুণাচল প্রদেশে, বর্তমানে প্রেমা থাকেন ব্রিটেনে। তবে ভারতীয় পাসপোর্ট রয়েছে তাঁর। গত ২১ নভেম্বর লন্ডন থেকে ভায়া সাংহাই হয়ে জাপানে যাচ্ছিলেন প্রেমা। কিন্তু সাংহাই পুডং বিমানবন্দরে পৌঁছতেই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন তিনি। ইমিগ্রেশন কাউন্টারে তাঁর পাসপোর্ট অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। কারণ হিসেবে জানানো হয়, তাঁর ভারতীয় পাসপোর্টে জন্মস্থল হিসেবে অরুণাচল প্রদেশের নাম লেখা রয়েছে। কিন্তু ইমিগ্রেশন কাউন্টারে থাকা আধিকারিকরা মনে করেন অরুণাচল প্রদেশ ভারতের নয় চীনের অংশ। তাই ওই তরুণীকে বলে দেওয়া হয় তাঁর পাসপোর্ট অবৈধ।

Advertisement

এক সংবাদমাধ্যমে প্রেমা জানিয়েছেন, ‘ইমিগ্রেশনের পর আমার পাসপোর্ট জমা দিয়ে সিকিউরিটি কাউন্টারে অপেক্ষা করছিলাম। তখনই এক আধিকারিক এসে আমাকে দেখে ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া বলে চিৎকার করতে থাকেন। তখন আমি তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করতে তিনি আমাকে নিয়ে ইমিগ্রেশন কাউন্টারে যান। আর বলেন অরুণাচল লেখা পাসপোর্ট অবৈধ। আমি পাল্টা প্রশ্ন করি কেন এটা বলছেন? তখন উনি বলেন, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের নয় চীনের অংশ। তাই আপনার পাসপোর্ট অবৈধ।’ প্রেমা বলেন, এটা শুনে আমি অবাক হয়ে যাই। তাঁকে বলি, গত বছরেও এই এয়ারপোর্ট দিয়ে অন্য দেশের বিমান ধরেছি। লন্ডনে থাকা চীনের দূতাবাসে আগেই কথা বলেছিলাম, যে সাংহাই হয়ে অন্য দেশে ভারতীয়দের যেতে কোনও অসুবিধা হবে কিনা। দূতাবাস থেকে জানানো হয়, কোনও অসুবিধা হবে না। তারপরেও এটা কেন বলা হচ্ছে। 

প্রেমার অভিযোগ, চীনের ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের স্টাফ ও ইমিগ্রেশনের আধিকারিকরা তাঁর খিল্লি ওড়াতে থাকে। হাসতে হাসতে বলে, চীনের পাসপোর্টের জন্য আবেদন জানান। এইসব বিষয় নিয়ে টানা ১৮ ঘণ্টা লড়াই চলতে থাকে প্রেমার। তাঁর অভিযোগ, সেই সময়ে তাঁকে খারাপ খাবার দেওয়া হয়। কেন এই হেনস্তা করা হচ্ছে, তার উত্তর দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁর পাসপোর্ট আটকে রাখা হয়েছিল ও জাপানে যাওয়ার জন্য বিমান ধরতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। যদিও প্রেমার কাছে জাপানের পর্যাপ্ত ভিসা ছিল।

প্রেমার অভিযোগ, তাঁকে খাবার কিনতে দেওয়া হচ্ছিল না, টিকিট বুকিংয়ে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। তখন বাধ্য হয়েই প্রেমা, ব্রিটেনে তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যাঁর মাধ্যমে সাংহাইতে থাকা ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করতে পারেন তিনি। এয়ারপোর্টে পৌঁছে ভারতীয় আধিকারিকরা তাঁকে সাহায্য করেন। পরে গভীর রাতে সাংহাই থেকে রওনা দেন প্রেমা। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ