নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মাইক্রোসফট থেকে গুগল। ওপেন এআই কিংবা মেটা। বিশ্বের ৩০ টি দেশ থেকে আসা প্রযুক্তিবিদ, প্রতিনিধি এবং কর্পোরেট কর্তাদের মহাকুম্ভ শুরু হয়েছে দিল্লিতে। আন্তর্জাতিক আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স ইমপ্যাক্ট সামিট ভারত মন্ডপমে চলবে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সোমবার এআই ইমপ্যাক্ট এক্সপোর উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি অংশগ্রহণকারী স্টার্টআপগুলির সঙ্গেও মতামত বিনিময় করেন। বিভিন্ন স্টলও ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের বাতাবরণ প্রধানত শুরু হয়েছে কর্মহীনতার আশঙ্কাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু সেই শঙ্কা যে সম্পূর্ণ সত্য নয়, এআই সম্মেলনের শুরুতেই এমনই আশ্বাস শোনা গিয়েছে বিশ্বের প্রথম সারির এআই সংস্থা ও প্রযুক্তিবিদদের গলায়। তাঁরা বলেছেন, এটা যেমন ঠিক যে, এআই বহু কর্মসংকোচন ঘটাবে। কিন্তু একই সঙ্গে কাজের সুযোগও বাড়বে বহগুণ।
ইনফোসিসের এআই সংক্রান্ত সংস্থার কর্তা সতীশ সীতারামাইয়া বলেছেন, কাজ কোথাও চলে যাচ্ছে না। তবে ধরণ পালটে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, বস্তুত একটি কাজের মধ্যে অনেকগুলি অংশ জড়িয়ে থাকে। এআই সেই অংশগুলির পৃথকীকরণের মাধ্যমে প্রত্যেকটি কাজকেই আরও সহজ করে দিচ্ছে। তাই কাজের সংকোচন নয়, কর্মীর প্রয়োজনীয়তাও বহুগুণ বেড়ে যাবে বিভিন্ন সেক্টরেই। কারণ, এআইকে ব্যবহারের জন্যও কিন্তু দক্ষ কর্মীর দরকার।
মাইক্রোসফট ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুনীত চার্ণক বলেছেন, এআই কাজের প্রকৃতিকে বদলে দেবে। একজন হয়ত একটি পদে থেকে একাধিক প্রযুক্তির কাজ করছে। সেরকম করার দরকার হবে না আর। নিত্যনতুন কাজের জন্ম হবে। আর সেজন্য কর্মীরই দরকার হবে। এতদিন যে বিপ্লব এসেছে সেগুলি প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অগ্রগতির হাত ধরে। ইন্টারনেট,মোবাইল, ক্লাউড তৈরি হয়েছে এতদিন। এবার বুদ্ধিবৃত্তিকে তৈরি করা হচ্ছে। সেটা তৈরি করবে উন্নত এবং আরও উন্নততর কর্মীরাই। সুতরাং এআই টেকনোলজিতে পাল্লা দিয়ে যারা নিজেদের উন্নত করবে, তাদের কাজের সুযোগ উত্তরোত্তর বাড়বে। তিনি বলেন, গোটা বিশ্বে এখন এআই ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা তুঙ্গে। ভারতের ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তিবিদদের চাহিদা তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুতরাং ভয়ের কারণই নেই। এই সম্মেলনে প্রথমবার বিশ্বের ১৩টি দেশ এআই নিয়ে সমন্বয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করবে। গুগল, মাইক্রোসফট, ওপেন এআই ছাড়াও থাকবে দক্ষিণ এশিয়ার একঝাঁক সংস্থা। পাশাপাশি আসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টরাও।