নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বিয়ের জন্য কেউ পুরোহিত বা নাপিতদের ডাকলে আগে তাঁদের পাত্র বা পাত্রীর সম্পর্কে তথ্য নিতে হবে। পাত্রীর বয়স ১৮ বছরের নীচে হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের জানাতে হবে। একই নিয়ম কার্যকর হবে ডেকরেটরস বা ক্যাটারিংয়ের ক্ষেত্রেও। সরকারের নির্দেশ অমান্য করে কেউ নাবালিকার বিয়ে দিলে তাঁকে শ্রীঘরে যেতে হবে। প্রতিটি ব্লকের আধিকারিকরা বৈঠক করে এমন বার্তা সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দিচ্ছে। মঙ্গলবার মেমারি ব্লক প্রশাসন বৈঠকে বসে। সেখানে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ হাঁসদা, বিডিও শতরূপা দাস সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, সব ব্লকেই এধরনের বৈঠক হচ্ছে। যে বা যারা বিয়েতে উৎসাহ দেবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সম্প্রতি আধিকারিকরা কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করায় অনেক অভিভাবক অন্য কৌশল নিচ্ছে। তাঁরা মেয়েদের নিজেদের গ্রামে বিয়ে না দিয়ে দূরে কোনও আত্মীয়র বাড়িতে ছাতনাতলা তৈরি করছে। নির্দিষ্ট কিছু আত্মীয়স্বজন ছাড়া অন্য কেউ জানতে পারছে না। পুরোহিত বা নাপিত বিষয়টি জানতে পারছেন। তাঁদের ছাড়া বিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। সেই কারণে তাঁদেরকে সতর্ক করা হচ্ছে। প্রতিটি এলাকার নাপিত এবং পুরোহিতদের নিয়ে আলাদাভাবে সচেতনতামূলক প্রচার করা হবে। তাঁদের প্রয়োজনে শপথবাক্য পাঠ করানো হতে পারে। নাপিত বা পুরোহিত না থাকলে অনেক বিয়েই আটকে যাবে। একইভাবে মুসলিম সমাজেও বিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে যাঁদের বড় ভূমিকা থাকে তাঁদেরকে সতর্ক করা হবে। মেমারি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশ হাঁসদা বলেন, সমাজের সবস্তরে নাবালিকাদের বিয়ে বন্ধ করার জন্য প্রচার চালানো হবে। এটা আমাদের শপথ। এরপরও যারা লুকিয়ে মেয়েদের বিয়ে দেবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের সমীক্ষা অনুযায়ী খণ্ডঘোষ, কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট, আউশগ্রাম এলাকায় নাবালিকদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেশি। তবে সব সময় বাড়ির লোকজন বিয়ে দিচ্ছে এমন নয়। অনেক নাবালিকা নিজেরাও প্রেমিকের ডাকে ঘর ছাড়ছে। তারা বাইরের রাজ্যে গিয়ে বিয়ে করছে। পরে অবশ্য অনেকেই সমস্যায় পড়ছে। জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, অল্প বয়সে বিয়ে দিলে মেয়েদের কী ক্ষতি হতে পারে তা নিয়ে লাগাতার প্রচার করা হচ্ছে। তারপরও অনেক বাবা এবং মা মেয়েদের বিয়ে দিচ্ছে। নাবালিকারা বিয়ে করায় প্রসূতি মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। নাবালিকারা গভবর্তী হয়ে পড়লে তাদের জীবন সংশয় হতে পারে। প্রসব করানোর সময় জীবনহানি পর্যন্ত হতে পারে। এটা প্রত্যেক বাবা এবং মায়ের বোঝা উচিত।