নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: স্ত্রীকে পর্দার নায়িকা বানাতে জলের মতো টাকা উড়িয়েছেন। প্রযোজক থেকে পরিচালকদের অফিসে দৌড়ঝাঁপ করেছেন। তবুও স্ত্রীকে পর্দার নায়িকা বানানোর স্বপ্নপূরণ হয়নি প্রতারণার অভিযোগে পুলিসের হাতে ধৃত হলদিয়ার প্রভাবশালী প্রমোটার মনোজকুমার ভৌমিকের। কয়েক কোটি টাকার পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে। হলদিয়া শিল্পশহরে হোটেল থেকে প্রমোটার ব্যবসায় একডাকে তাঁকে সকলে চেনেন। টাউনশিপে তাঁদের বিরাট আবাসন প্রকল্পে কয়েক কোটি টাকার বিজনেস। কিন্তু, জলের মতো টাকা ওড়ানোয় একটা সময় তিনিও ঋণের ফাঁসে জড়িয়ে যান। ব্যাঙ্ক থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নেন। মর্টগেজ রাখা সম্পত্তি বিক্রি করে সস্ত্রীক পালিয়ে বেরিয়েছেন। কিন্তু, হাইকোর্টের নির্দেশে শেষপর্যন্ত সোমবার পুলিসের হাতে ধরা পড়েছেন হলদিয়া শহরের এই দাপুটে প্রমোটার।
স্বামীর পাশাপাশি প্রতারণার ঘটনায় অভিযুক্ত তাঁর স্ত্রী লিপিকা ভৌমিককে খুঁজছে পুলিস। হলদিয়া টাউনশিপে আবাসন বানিয়ে বুকিং করার পর প্রচুর মানুষকে ঠকানোর অভিযোগ উঠেছে এই দম্পতির বিরুদ্ধে। পরপর মোট চারটি আবাসন প্রজেক্ট বানানো হয়। প্রথম দু’টি নিয়ে সেভাবে অভিযোগ নেই। কিন্তু, যাবতীয় অভিযোগ তিন ও চার নম্বর আবাসন নিয়ে। চার নম্বর প্রজেক্টের জন্য বুকিং হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অপরদিকে, তৃতীয় প্রজেক্টে একজনের বুক করা ফ্ল্যাট অপরজনকে বিক্রি করার ঘটনা ঘটেছে। এটা একজন কিংবা দু’জন নয়, এরকম অনেকগুলি ঘটনা ঘটেছে। পেশায় ইন্ডিয়ান অয়েলের কর্মচারী সুব্রত মাইতি তৃতীয় আবাসন প্রজেক্টে দু’টি ফ্ল্যাটের জন্য বুক করেছিলেন। একটি ফ্ল্যাট হস্তান্তর হলেও অপরটি অন্যজনকে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সুব্রতবাবুর স্ত্রী অপর্ণা মাইতি বলেন, আমরা ৩৭লক্ষ টাকা প্রতারণার শিকার হয়েছি। এনিয়ে উপভোক্তা বিষয়ক আদালতে মামলা করেছি।
পেশায় মেরিন ইঞ্জিনিয়ার রামদেব রায় মনোজদের কাছ থেকে টাউনশিপে চতুর্থ প্রজেক্টে জোড়া ফ্ল্যাট নেওয়ার জন্য ১৪লক্ষ টাকা দিয়ে বুক করেছিলেন। সেই প্রজেক্টের ইট গাঁথা হয়নি। ওই টাকা ফেরত না পেয়ে একবার মনোজকে নিজের বাড়িতে দিনভর আটকে রেখেছিলেন রামদেববাবু। তারপর একটি চেক পান। তাতে পাঁচ লক্ষ টাকা আদায় হলেও বাকি টাকা পাওয়া যায়নি। রামদেববাবু বলেন, আমার মতো অনেককে ফ্ল্যাট দেওয়ার নামে ওই প্রমোটার ঠকিয়েছেন। হোটেল থেকে প্রমোটারি ব্যবসায় ওদের নামডাক ছিল। সেই সুবাদে মানুষজন ফ্ল্যাট বুক করে এখন হা-হুতাশ করছেন।
ধৃত মনোজদের হলদিয়া শহরের মঞ্জুশ্রী মোড়ে বড় হোটেল রয়েছে। তিন ভাই ও তাঁর বাবা দেখভাল করেন। এছাড়া, মনোজদের বিরাট প্রমোটারি ব্যবসা রয়েছে। টাউনশিপে আবাসন প্রজেক্টে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করার ঘটনা ঘটেছে। হলদিয়া টাউনশিপে মধুসূদনচকে একসময় নিজের ও তাঁর পরিবারের ব্যবহৃত মর্টগেজ রাখা ফ্ল্যাট বিক্রি করে প্রতারণার ঘটনায় আপাতত পুলিসের হেফাজতে মনোজ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতারণার কয়েক কোটি টাকা স্ত্রীকে নায়িকা বানাতে গিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন ওই প্রমোটার। তারপর হলদিয়া ছেড়ে কলকাতায় গিয়ে ওই দম্পতি আত্মগোপন করে থাকেন। থানায় এফআইআর সত্ত্বেও পুলিস তাঁকে গ্রেপ্তার করেনি। হাইকোর্ট প্রতারণায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিতে টনক নড়ে পুলিসের।