Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেরায় ছিনতাইয়ের ঘটনা কবুল, ধর্ষণের কথা অস্বীকার ধৃতদের

দুর্গাপুরে গণধর্ষণ কাণ্ডে ধৃত পাঁচজনই জেরায় নির্যাতনের কথা স্বীকার করছে না। ছিনতাই এবং ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের বিষয়টি মেনে নিলেও ডাক্তারি পড়ুয়াকে ধর্ষণ করেনি বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছে তারা।

জেরায় ছিনতাইয়ের ঘটনা কবুল, ধর্ষণের কথা অস্বীকার ধৃতদের
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর: দুর্গাপুরে গণধর্ষণ কাণ্ডে ধৃত পাঁচজনই জেরায় নির্যাতনের কথা স্বীকার করছে না। ছিনতাই এবং ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের বিষয়টি মেনে নিলেও ডাক্তারি পড়ুয়াকে ধর্ষণ করেনি বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছে তারা। তবে, ধৃতদের এই দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই। পাশাপাশি, ঘটনার সময় ও ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর নির্যাতিতার পুরুষ বন্ধুর ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। ফলে, কে বা কারা ওই ছাত্রীটির উপর নির্যাতন চালিয়েছে, তা জানতে মেডকেল পরীক্ষার উপরই বেশি ভরসা রাখতে হচ্ছে পুলিশেকে। যত দ্রুত সম্ভব সেই রিপোর্ট হাতে আসে, তারজন্য তোড়জোড় শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। তবে, ধৃত পাঁচজনের অতীত মোটেও ভালো নয় বলে তদন্তে উঠে আসছে। সোমবারে ধরা পড়া দু’জনের পরিবারের বিরুদ্ধে খুন ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধমূলক কাজকর্ম সংগঠিত করার অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

Advertisement

অভিযুক্তদের পাঁচজনই বিজড়া গ্রামের বাসিন্দা। ওই গ্রামের আদি বাসিন্দাদের অভিযোগ, এদের বেশির ভাগই এই গ্রামের পুরনো বাসিন্দা নন। ভিন জেলা, ভিন রাজ্য থেকে বিভিন্ন কারণে তারা এখানে এসে বসতি স্থাপন করেছে। তাদের মধ্যে এদিন পুলিশ এদিন গ্রেফতার করেছে সম্রাট ও সফিককে। তারা পরস্পরের আত্মীয়। অভিযোগ, তাদের আগের প্রজন্ম বাঁকুড়া জেলায় একটি খুনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তারপরই সেখান থেকে তারা চলে এসে এখানে বসবাস করতে শুরু করে। এলাকাবাসীর আক্ষেপ, বাইরের লোকরা এভাবে এলাকার সুনাম নষ্ট করছে। স্বাভাবিকভাবেই অভিযুক্তদের অতীত ঘাঁটতে শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। কারণ, পুলিশের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্চ গণধর্ষণে ঠিক কারা কারা যুক্ত ছিল। অভিযুক্তদের জেরা জেরা করে একাধিক তথ্য সংগ্রহ করেছে পুলিশ। আগের তথ্যের সঙ্গে আবার ডাক্তারি পড়ুয়ার পুরুষ বন্ধুর বহু তথ্যের গড়মিল পাওয়া যাচ্ছে। পুরুষ বন্ধুর ভূমিকা আতস কাঁচের তলাতেই রয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, এই পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে অভিযুক্তদের আগে কোনও পরিচয় ছিল কি না। পুলিশের কাছে এটা স্পষ্ট, অভিযুক্তদের সকলেরই বেসরকারি মেডিকেল কলেজে যাতায়াত ছিল। তাদের অনেকেই ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও নারী নির্যাতনের অভিযোগ এই প্রথম। এদিন ধৃত নাসিরুদ্দিন শেখ ওরফে সম্রাট ২৩ বছরের যুবক। বাড়ি বিজড়া গ্রামেই। পেশায় দুর্গাপুর পুরসভার অস্থায়ী ঠিকা শ্রমিক। স্ট্রিট লাইট সারানোর কাজ করে।  দুর্গাপুর পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলীর চেয়ারম্যান অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘২০২১ সালে পুরসভা একটি বেসরকারি সংস্থাকে পথবাতী রক্ষণাবেক্ষণের বরাত দেয়। সেই সংস্থা কাকে নিয়োগ করবে, তা পুরসভার এক্তিয়ারে পড়ে না। খবর পেয়ে আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি ছেলেটি সেই সংস্থার হয়ে পুরসভার পথবাতি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করত। আমরা পুরো বিষয়টি ওই সংস্থার নজরে এনেছি।’ অন্য অভিযুক্ত সফিক শেখ বেসরকারি কারখানার কর্মী। 
পুলিশ পাঁচ অভিযুক্তকে দ্রুত চিহ্নিত করে ধরলেও উত্তেজনা কমেনি দুর্গাপুরে। এদিন সকাল থেকেই শোভাপুরের বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সামনে নিরাপত্তার বজ্রআঁটুনি দেখা যায়। গার্ডরেল দিয়ে পুরো রাস্তা আটকে দেন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা। হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বৈধ নথি দেখিয়েই রোগী ও রোগীর আত্মীয় পরিজন, এমনকী পড়ুয়ারা মেডিকেল কলেজে ঢুকতে পেরেছেন। সিকিউরিটি ইনচার্জ নবারুন চৌধুরী বলেন, তিনদিন বিভিন্ন বিভিন্ন সংগঠন দলবদ্ধ ভাবে এসে ইমার্জেন্সি অবরুদ্ধ করে রেখে দিয়েছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তারজন্যই এই অবস্থা। অন্যদিকে, এসইউসির সদস্যরা নারী নিগৃহ বিরোধী কমিটির ব্যানারে হাসপাতালের গার্ডরেল ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়।  এসইউসিআই নেতা,কর্মীদের বিক্ষোভ।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ