Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তমলুক পকসো আদালতে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলা: গাড়ির অভাবে ধৃতকে পেশ করা গেল না কোর্টে, পিছল রায়দান

গাড়ির অভাবে খুন ও ধর্ষণের মামলায় ধৃতকে হলদিয়া সংশোধনাগার থেকে তমলুকে পকসো কোর্টে হাজিরই করানো গেল না।

তমলুক পকসো আদালতে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলা: গাড়ির অভাবে ধৃতকে পেশ করা গেল না কোর্টে, পিছল রায়দান
  • ২০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: গাড়ির অভাবে খুন ও ধর্ষণের মামলায় ধৃতকে হলদিয়া সংশোধনাগার থেকে তমলুকে পকসো কোর্টে হাজিরই করানো গেল না। যে কারণে শনিবার ওই গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায়দান হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে গেল। আগামী ২৪ জুলাই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা ও দায়রা আদালতে পকসো কোর্টে মামলার পরবর্তী দিন ধার্য হয়েছে। সেদিন আদালত ওই মামলার রায়দান করবে। ২০১৮ সালে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লক এলাকায় ১৪ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল এলাকা। বিচার চেয়ে রাস্তায় নেমেছিল নাগরিক সমাজ। পুলিস ওই ঘটনায় ২১ বছরের যুবক শেখ হামিদুলকে গ্রেপ্তার করে। এই মুহূর্তে হামিদুল হলদিয়া উপসংশোধনাগারে রয়েছে। শনিবার দুপুর ২টোয় মামলার রায়দান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ হামিদুলকে কোর্টে হাজির করাতে পারেনি। কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকার রিপোর্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement

২০১৮ সালের ৩০ মে ১৪ বছরের ওই নাবালিকা নিখোঁজ হয়। পরেরদিন তমলুক থানায় এনিয়ে মিসিং ডায়েরি করে পরিবার। ২ জুন গ্রামেরই একটি খড়িবনে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। ওই ছাত্রীর দেহ পচে গিয়েছিল। নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল হয় গোটা এলাকা। পথে নামে নাগরিক সমাজ। ৫ জুন পুলিস ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শেখ হামিদুলকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সংশোধনাগারে রয়েছে। 
ওই মামলায় ১৮জনের সাক্ষ্যদান হয়ে গিয়েছে। বহু প্রতীক্ষিত ওই মামলার রায়দানের অপেক্ষায় ছিলেন গ্রামের বাসিন্দারা। শনিবার রায়দান উপলক্ষ্যে ওই এলাকা থেকে অনেকেই আদালতে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু, ধৃতকে আদালতে হাজির না করানোয় এদিন মামলার রায়দান স্থগিত হয়ে যায়। জেলবন্দিদের আদালতে হাজির করানোর জন্য জেল কর্তৃপক্ষ পুলিসের কাছ থেকে গাড়ি নেয়। জেলা কর্তৃপক্ষের রিক্যুইজিশনে জেলা পুলিসের অধীনে থাকা কারপুল থেকে গাড়ি সাপ্লাই দেওয়া হয়। কিন্তু, শনিবার পুলিসের পক্ষ থেকে সেটা দেওয়া সম্ভব হয়নি। যেকারণে ধৃতকে আদালতে পেশ করা যায়নি। করোনার পর আদালতে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন অভিযুক্তকে জেল থেকে হাজির করানোর ঘটনা কমে গিয়েছে। অধিকাংশ সময়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির করানো হয়। কিন্তু, রায়দানের দিন অভিযুক্তকে হাজির না করানোয় অনেকেই অবাক হন। শনিবার ওই এলাকার অনেকেই হতাশ হন। তাঁরা বলেন, তমলুক থানায় এই কেস হয়েছিল। ধৃতকে তমলুক উপসংশোধনাগারের পরিবর্তে কেন হলদিয়ায় রাখা হল, তা বোধগম্য হচ্ছে না।
মামলার সরকারি আইনজীবী সুতপা সামন্ত বলেন, পকসো আদালতে বিচার চলছে। ১৮জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। শনিবার রায়দান হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, এদিন হলদিয়া সংশোধনাগার থেকে অভিযুক্তকে কোর্টে পেশ করা যায়নি। কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত গাড়ি না থাকার বিষয় উল্লেখ করে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৪ জুলাই পরবর্তী দিন ধার্য হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ