সুখেন্দু পাল বর্ধমান
সুখেন্দু পাল বর্ধমান
প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা দামি গাড়ির সামনে বড় করে লেখা থাকত ‘অ্যান্টি ট্রাফিকিং কমিটির চেয়ারম্যান’। এলাকার অনেককে শেখ জিন্নার আলি বলেছিল, এটা কেন্দ্রীয় সংস্থার দপ্তর। তাকে ওই দপ্তরের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। আমজনতার পাশাপাশি বহু প্রভাবশালীকেও এমন ভাঁওতা দিয়ে সে সমীহ আদায় করেছিল। পাশাপাশি এই কমিটিকে ঢাল করে সে পৌঁছে গিয়েছিল বিদেশ মন্ত্রকে। মানব পাচার আটকানোর জন্য সে কাজ করে। এমনটাই সে আধিকারিকদের বুঝিয়েছিল। কোনও পরিযায়ী শ্রমিক বিদেশে আটকে গেলে তাকে ফেরানোর জন্য সে বিদেশ মন্ত্রকে চিঠি করত। সেই চিঠির জেরে প্রথম দিকে কয়েকজনকে বিদেশ থেকে ফিরিয়ে আনতে সে সক্ষম হয়। সেটাকেই সে সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে প্রচারের আলোয় চলে আসে। এমনভাবে সে প্রচার করতে থাকে, যে তার মতো বড় সমাজসেবী আর নেই।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, সে কতটা মানব পাচার রোধে সক্রিয় ছিল তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে সে বিদেশে মানব পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। মোটা টাকা বেতনে কাজ পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে সে অনেককে বিদেশে পাঠিয়েছে বলে অভিযোগ। তার ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি বলেন, জিন্নার উপস্থিত বুদ্ধি ছিল তুখোর। সে ভালোভাবেই জানত রায়নার মতো গ্রামীণ এলাকায় পড়ে থাকলে কারবারে সুদিন ফিরবে না। সেই কারণে সে কলকাতায় ডেরা বাঁধে। সেখানে গিয়ে ছোট কোনও কাজ করে বৃহৎভাবে প্রচার করতে থাকে। বিভিন্ন অছিলায় প্রভাবশালীদের কাছে সে পৌঁছে যেত। সেক্ষেত্রে তার তাস ছিল দামি গিফট। অনেকের কাছেই সে দামি গিফট পৌঁছে দিত। কারও কারও জন্য আবার বিশেষ পার্টির আয়োজন করত। বছরের পর ধরে তার ভালোভাবেই দিন চলছিল। অ্যান্টি ট্রাফিকিং কমিটির চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে কারবার চালাতে তার অসুবিধা হয়নি। ইডি অফিসার সাজতে গিয়েই বিপত্তি হয়। কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিক পরিচয় দিয়ে এক ঠিকাদারের কাছে থেকে দেড় কোটি টাকা হাতানো তার কাল হয়ে ওঠে। ওই ঠিকাদারের অভিযোগে ইডি তার উপর নজর রাখে। তার অ্যাকাউন্টগুলিতেও নজরদারি চালানো হয়। এরপরই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিকরা তাকে জালে তুলে নেয়। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, রায়না, বর্ধমান, বিষ্ণপুর এবং কলকাতার একাধিক জায়গায় জিন্নার আস্তানা গড়ে তোলে। তার কলকাতার ফ্লাটে বহু প্রভাবশালীর আনাগোনা ছিল বলে অভিযোগ। তার ঘনিষ্ঠর তালিকায় কয়েকজন জনপ্রতিনিধিও রয়েছেন। তাঁরা এখন অবশ্য দায় ঝেড়ে ফেলছেন।