নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে অস্ত্রের কারবার চালাত হাসান শেখ! সোমবার মালদহের মোজমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কিসমতপুরের ‘সাদাসিধে’ ওই যুবক শিয়ালদহ স্টেশনে কলকাতা পুলিসের এসটিএফের হাতে ধরা পড়ার পর গ্রামবাসীরা অবাক। তাঁদের একাংশের দাবি, ফেরি করার বাহানায় মাসের পর মাস ভিনরাজ্যে থাকত হাসান। সম্ভবত সেখানেই অস্ত্র কারবারীদের র্যাকেটে যুক্ত হয়ে যায়। মূলত বিহার, ঝাড়খণ্ডেই বেশি যাতায়াত ছিল বলে তার পরিবার জানিয়েছে। দিন দশেক আগে সে কালিয়াচকের মোজমপুরের বাড়িতে ফিরেছিল। কিন্তু তিনদিন আগেই সে বিহারের মধুপুরে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এদিন সকালে অস্ত্র সহ পুলিসের জালে ধরা পড়ার খবর আসতেই চমকে উঠেছে গোটা গ্রাম। হাটেবাজারে এক্সপ্রেস এদিন শিয়ালদহ স্টেশনে থামতেই এসটিএফ অভিযান চালিয়ে ওই যুবককে পাকড়াও করে।
তৃণমূলের স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য সাইদুর রহমানের কথায়, আমাদের বাড়ির পাশেই হাসানের বাড়ি। বিহারে ফেরিওয়ালার কাজ করে বলেই জানতাম। সকালে অস্ত্র সহ ধরা পড়ার পর প্রকৃত বিষয়টা জানতে পারলাম। ভাবতেই পারছি না হাসান এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছে।
মালদহের কালিয়াচক থানার মোজমপুর পঞ্চায়েতের কিসমতপুর গ্রামে হাসানের বেড়ে ওঠা। খাসজমিতে ইটের গাঁথনি করা টালির চালের বাড়ি। সেখানেই স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে থাকে।
কলকাতায় স্বামীর আগ্নেয়াস্ত্র সহ পুলিসের জালে ধরা পড়ার ঘটনা প্রসঙ্গে স্ত্রী মারুফা বিবির মন্তব্য, স্বামী বিহারে বিভিন্ন ধরনের মাল ফেরি করত। ওখানে মাসতিনেক থাকত। দিনদশেক আগেই সে বাড়িতে আসে। তিন, চারদিন আগে বিহারের মধুবনীতে আবার ফেরি করতে যায়। আমার স্বামীকে কেউ ফাঁসিয়েছে, না কি করেছে ঠিক জানি না।
গ্রামের সাদাসিধে ছেলে বলেই পরিচিত ছিল হাসান শেখ। তার এই কর্মকাণ্ডে হতবাক প্রতিবেশীরা। মহম্মদ মারিউন বলেন, এতদিন জানতাম ও ভিনরাজ্যে ফেরি করে। এদিন সকালে প্রথম জানতে পারি যে অস্ত্র সহ ধরা পড়েছে। ভাবতেই পারছি না, গ্রামের ছেলেটা এমন একটা কাজ করবে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে ভালো করে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা। বিষয়টি নিয়ে মালদহ পুলিসও নড়েচড়ে বসেছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিয়াচক, হরিশ্চন্দ্রপুর, চাঁচলে বেশকিছু সন্দেহজনক বাসিন্দা আছে। তারা একটা সময় অস্ত্রের কারবার করত। কেউ আবার নতুন করে বিভিন্ন পেশার আড়ালে বেআইনি অস্ত্রের কারবার শুরু করেছে। এই র্যাকেট ভাঙতে নতুন করে পরিকল্পনা শুরু করেছে জেলা পুলিস। হাসান শেখের বাড়ি। - নিজস্ব চিত্র।