নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: বিহার থেকে মুর্শিদাবাদ জেলার সীমান্ত এলাকায় লাগাতার আগ্নেয়াস্ত্র ঢুকছে। ওই প্রতিবেশী রাজ্য থেকে প্রথমে রেলপথে ফরাক্কায় আগ্নেয়াস্ত্র আনা হচ্ছে। তারপর ফরাক্কা থেকে মুর্শিদাবাদের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামে তা পৌঁছে যাচ্ছে। রবিবার রাতে ফরাক্কা থেকে রানিনগর সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র পাচার করার সময় বহরমপুর থানার পুলিসের হাতে একজন ধরা পড়ে। মাসুম শেখ নামে ওই অস্ত্র কারবারির কাছ থেকে পুলিস তিনটি সেভেন এমএম পিস্তল, ছ’টি ম্যাগাজিন ও ১০রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। ওই যুবকের বাড়ি সাগরপাড়া থানার পূর্ব কাজিপাড়ায়। ধৃতকে সোমবার বহরমপুর আদালতে তুলে সাতদিনের হেফাজতে নেয় পুলিস। এই আগ্নেয়াস্ত্র রানিনগর সীমান্ত থেকে বাংলাদেশে পাচারের কোনও চক্রান্ত ছিল কি না, তা জানতে ধৃত যুবককে পুলিস জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
বহরমপুরের ডেপুটি পুলিস সুপার(ডিঅ্যান্ডটি) সুশান্ত রাজবংশী বলেন, গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে মুর্শিদাবাদ পুলিস জেলার স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ(এসওজি) এবং বহরমপুর থানার পুলিস অভিযান চালিয়েছিল। সেই অভিযানেই এই অস্ত্র কারবারি গ্রেপ্তার হয়েছে। সে জেরায় স্বীকার করেছে, ওই সমস্ত আগ্নেয়াস্ত্র রানিনগরে ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল। সে কার কাছ থেকে এই আগ্নেয়াস্ত্র কিনেছে, কাদের হাতে তা তুলে দিত, তার তথ্য জানতে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছি।
পুলিস জানিয়েছে, বহরমপুর থানার শিলপুকুর এলাকা থেকে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ফরাক্কা থেকে বাসে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসেছিল। রানিনগরে ডেলিভারি দেওয়ার জন্য একটি টোটোয় চেপে যাচ্ছিল। শিলপুকুর এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারী আধিকারিকরা ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছেন।
সীমান্তের গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার পথে বারবার অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় পুলিসের উদ্বেগ বাড়ছে। এবছর জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ পুলিস জেলায় সবমিলিয়ে ৮৭টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২৮৪রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে।
জেলা পুলিসের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, আমরা প্রতিটি থানা এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে জোর দিয়েছি। বিভিন্ন রাস্তায় নাকা তল্লাশিও চলছে। এসওজি এবং বিভিন্ন থানার পুলিস যৌথভাবে অপারেশন চালিয়ে লাগাতার আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন ও কার্তুজ উদ্ধার করছে। এই সমস্ত অস্ত্র কোথায় পাঠানো হচ্ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।