নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: আজ, সোমবার থেকে ভারতীয় সেনার পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তর ফোর্ট উইলিয়ামে শুরু হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনীর ‘কম্বাইন্ড কমান্ডার কনফারেন্স’। এই অনুষ্ঠানের সূচনা করবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই উপলক্ষ্যে রবিবার সন্ধ্যাতেই তিনি অসম থেকে কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছেন। রাতে থাকছেন রাজভবনে। আজ, ফোর্ট উইলিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওই কনফারেন্সে উপস্থিত থাকবেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, সেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী, বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং, নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল দীনেশ কে ত্রিপাঠী-সহ তিন বাহিনীর উচ্চ পদাধিকারীরা। তাঁরাও রবিবার শহরে চলে এসেছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনদিন ব্যাপী কলকাতার ফোর্ট উইলিয়াম বা বিজয় দুর্গে এই কম্বাইন্ড কমান্ডার কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে। এটি দেশের সর্বোচ্চ স্তরের একটি কনফারেন্স। প্রতি দু-বছর অন্তর দেশের বিভিন্ন জায়গায় এই কনফারেন্স হয়। এবার কলকাতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এবারের কনফারেন্সে দেশের প্রতিরক্ষায় সংস্কার, ভবিষ্যতের জন্য রূপান্তর এবং অপারেশনাল প্রস্তুতির উপরে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। আজ, সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ প্রধানমন্ত্রী ১৬তম কম্বাইন্ড কমান্ডার কনফারেন্সের সূচনা করবেন। তিনি বক্তব্যও রাখবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ করে দুপুরে তিনি বিহারে উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে শহরজুড়ে নিরাপত্তাও আঁটোসাঁটো করা হয়েছে।
এদিকে নরেন্দ্র মোদির বাংলায় সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি অব্যাহত। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনটি রাজনৈতিক সমাবেশ করে ফেলেছেন মোদি। আলিপুরদুয়ার, দুর্গাপুর, দমদমে সভা করেছেন তিনি। প্রতিটি সভা থেকেই বাংলায় তৃণমূল সরকারকে পরিবর্তনের আওয়াজ তুলেছিলেন মোদি। তবে এবারে তাঁর বঙ্গ সফরে কোনও রাজনৈতিক সমাবেশের কর্মসূচি নেই। যদিও ঘন ঘন বাংলায় মোদির আসা নিয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েনি তৃণমূল। রাজ্যের শাসক দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, নরেন্দ্র মোদির প্রতিরক্ষা বিষয়ক বৈঠক নিয়ে কিছু বলার নেই। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ঘন ঘন নরেন্দ্র মোদির বাংলায় আসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। উনি ডেইলি প্যাসেঞ্জার হয়ে এলেও বাংলা তৃণমূলের হাতেই থাকবে। পাল্টা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির প্রতি বাংলার মানুষের আস্থা প্রতিদিন বাড়ছে, এতে রাজ্য থেকে তৃণমূলের বিদায়ের রাস্তা আরও মসৃণ হচ্ছে।