সংবাদদাতা, কান্দি: বর্ষা শুরুর আগে থেকেই এলাকা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। তিনমাস ধরে খড়গ্রাম ব্লকের নগরগ্রামের কয়েকটি পাড়ার ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তাই মঙ্গলবার ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ফরাক্কা-হলদিয়া বাদশাহি সড়ক অবরোধ করলেন। অবরোধের জেরে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সমস্যা মেটাল খড়গ্রাম ব্লক প্রশাসন। পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে আর্থমুভার দিয়ে মাটি কেটে জমা জল বের করা হয়েছে।
খড়গ্রামের বিডিও বলেন, সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। তবে ওই এলাকায় আমরা দু’টি প্রকল্প তৈরি করতে চলেছি। তা হলে জমা জল ভূগর্ভে পাঠানো যাবে।
নগরগ্রামের ঘোষপাড়া, মিরপাড়া ও হালদার পাড়া এলাকায় হাজারের বেশি পরিবার বসবাস করে। প্রতিবছর বর্ষায় ওই এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়লেও আগে একটি নিকাশিনালা দিয়ে সেই জল বের হয়ে যেত। কিন্তু অভিযোগ, কয়েকমাস আগে গ্রামের একপক্ষ ওই নালা লাগোয়া জমি কেনার পর সেই নিকাশিনালা বন্ধ করে দেয়। ফলে তিনমাস ধরে ওই এলাকা জলমগ্ন ছিল। স্থানীয়রা এনিয়ে বারবার প্রশাসনের কাছে দরবার করেছেন। খড়গ্রাম বিডিও অফিসে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। তবে সম্প্রতি জমা জলের পরিমাণ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, স্থানীয়দের বাড়ি থেকে বেরনোই মুশকিল হয়ে পড়ে। প্রায় ৩০০টি বাড়ির একেবারে দোরগোড়ায় জল জমে ছিল। স্থানীয় বধূ অসীমা ঘোষ বলেন, বাড়ি থেকে বেরলেই জলে নামতে হতো। যেন আমাদের এলাকায় বন্যা হয়েছে। ছেলেমেয়েদের জ্বর-জ্বালা লেগেই রয়েছে।
অপর বাসিন্দা বনমালী ঘোষ বলেন, যারা জমি কিনেছে, তাদের ওই নিকাশিনালার অংশ ছেড়ে মাটি ভরাট করার কথা বলেছিলাম। কিন্তু সেই দাবি না মেনে নালা বন্ধ করে দেওয়ায় এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এদিন সকাল ১১টা নাগাদ ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করলে ব্যাপক যানজট দেখা দেয়। ব্যস্ত রাস্তার দু’পাশে গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। খড়গ্রাম থানার পুলিস সেখানে পৌঁছয়। কিন্তু বাসিন্দারা অবরোধে অনড় থাকেন। পরে কান্দির এসডিপিও শাশ্রেক আম্বারদার ও খড়গ্রামের বিডিও মিলনী দাস সেখানে পৌঁছন। দীর্ঘ আলোচনার পর তৎক্ষণাৎ সমস্যা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
এরপর ব্লক প্রশাসন আর্থমুভারের সাহায্যে ভরাট হওয়া নালার মাটি কেটে দেয়। ফলে ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই জমা জল পুরোপুরি বের হয়ে যায়। অবরোধকারী মহাদেব ঘোষ বলেন, জমা জলের কারণে বাড়ি থেকে বের হওয়া মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবশেষে সেই জল বের করায় হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম।