নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিহারের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন একমাস ধরে চলবে। আগামী দিনে অন্য রাজ্যেও ভোটের আগে শুরু হবে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন। যা নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের প্রবল সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের সম্মিলিত অভিযোগ, এভাবে নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে ভোটে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে। অসংখ্য গরিব ও অনগ্রসর মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। সর্বশক্তি দিয়ে এই চক্রান্ত প্রতিরোধ করা হবে বলে ইন্ডিয়া জোটের পক্ষ থেকে ডাক দেওয়া হয়েছে। এই রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে বৃহত্তর প্রশ্ন উঠেছে সেন্সাস নিয়ে। ভোটার তালিকা রিভিশনের পর যথাযথ নথির অভাবে যাদের নাম খসড়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে কিংবা সন্দেহজনক তালিকায় রাখা হবে, সেন্সাসের সময় তাদের কী হবে? কী স্টেটাস থাকবে তাদের?
কমিশন আগেই জানিয়েছে, যথাযথ প্রমাণ ও নথি দেখাতে না পারলে যাদের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ যাবে, তারা একটি আবেদনপত্র জমা দিতে পারবে এবং জেলাশাসকের কাছে নির্দিষ্ট নথিপত্র জমা দিয়ে পুনরায় রিভিউ করার আবেদন করবে। যারাই আবেদন করবে, তাদের নাম আবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। কারণ, ভোটার তালিকা রিভিশনের সময় জন্ম তারিখ এবং জন্মস্থান, এই দু’টিই জানতে চাওয়া হবে। যাদের কাছে নির্ধারিত নথি কিংবা পরিচয়পত্র নেই, তাদের স্টেটাস নিয়েই সবথেকে বেশি বিতর্ক। সেন্সাস দপ্তরে এই নিয়ে জোরদার চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ, সেন্সাসের সময় ন্যাশনাল পপুলেশন রেজিস্টার গঠন প্রক্রিয়াতেও এই একই প্রশ্ন করা হবে। অর্থাৎ জন্ম তারিখ এবং জন্মস্থান।
নির্বাচন কমিশন বিহারের ক্ষেত্রে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে সকলকে একটি পূরণ করা আবেদনপত্র জমা দিতে বলেছে। নচেৎ খসড়া তালিকায় নাম থাকবে না। খসড়া তালিকায় নাম বাদ গেলে দ্বিতীয়বার আবেদন করা যাবে। কিন্তু যাদের নির্দিষ্ট নথি নেই, অথচ ভারতীয় নাগরিক, তাদের নাম বাদ গেলে পরবর্তী পর্বে সেন্সাসের সময় তাদের নাগরিকত্ব স্টেটাস কী হবে? এই প্রশ্নে ধন্দে পড়েছে সেন্সাস দপ্তরও।