নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: উৎসবের মরশুমের আগে ভাড়াটিয়া বেশে ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীরা কোথাও ঘাঁটি বানাচ্ছে না তো! জানতে মরিয়া জলপাইগুড়ি জেলা পুলিস। ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জোগাড়ে পুলিসের তরফে ইতিমধ্যে ওয়েবসাইট খোলা হয়েছে। যে ব্যক্তি ঘরভাড়া দিয়েছেন, তাঁকেই ওই ভাড়াটিয়া সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য আপলোড করতে হবে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে। এনিয়ে জেলার প্রতিটি থানার তরফে একপ্রস্থ মাইকিং করা হয়েছে। সেইসঙ্গে পুলিস আধিকারিকরা বিভিন্ন এলাকায় ঢুঁ দিয়ে কোন বাড়িতে কারা ভাড়াটিয়া হিসেবে রয়েছেন, তাঁরা কোথাকার বাসিন্দা, নথিপত্র সব সঠিক কি না, এসব খতিয়ে দেখেছেন। ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে তথ্য আপলোডের জন্য প্রতিটি থানায় নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের কিউআর কোড দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই কোড স্ক্যান করে পৌঁছে যাওয়া যাবে ওয়েবসাইটে।
যদিও এতকিছুর পরও ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনও পর্যন্ত খুব বেশি এগয়নি। ফলে এবার জলপাইগুড়ি জেলা পুলিসের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এব্যাপারে বার্তা দেওয়া হয়েছে। যেসব ব্যক্তি এখনও পর্যন্ত বাড়িতে থাকা ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য পুলিসের ওয়েবসাইটে আপলোড করেননি, তাঁদের দ্রুত ওই কাজ সেরে ফেলতে বলা হয়েছে। এনিয়ে খোদ পুলিস সুপার সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত জেলাবাসীর কাছে আবেদন রাখছেন। শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে প্রতিটি থানার তরফে বিশেষ অভিযানে নামা হবে বলে পুলিস সূত্রে খবর।
জলপাইগুড়ির পুলিস সুপার খণ্ডবাহলে উমেশ গণপত রবিবার বলেন, এখনও পর্যন্ত জেলায় ৮০০ জন ভাড়াটিয়ার তথ্য পুলিসের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। একজন ভাড়াটিয়ার তথ্যও যাতে আমাদের নজরের বাইরে থেকে না যায়, সেটা দেখা হচ্ছে।
পুলিস সূত্রে খবর, অতীতে দেখা গিয়েছে ভিনরাজ্যের দুষ্কৃতীরা কয়েকদিন এলাকার কোথাও ঘাঁটি গেড়ে তারপর অপরাধ সংঘটিত করে চম্পট দিয়েছে। এক্ষেত্রে দুষ্কৃতীরা হোটেলে যেমন উঠতে পারে, আবার কোনও বাড়ি ভাড়া নিয়েও থাকতে পারে। সেকারণে হোটেলে কারা আসছে, কারা যাচ্ছে, তার উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে। পুজোর মুখে বাইরের রাজ্য থেকে দুষ্কৃতীরা যাতে জেলায় এসে ভাড়াটিয়া পরিচয়ে কোথাও আত্মগোপন করে থাকতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করাই জলপাইগুড়ি পুলিসের অন্যতম লক্ষ্য।
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পরই ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড়ের কাজে নামে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিস। তৈরি করা হয় ওয়েবসাইট। সেখানে ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কিত কী কী তথ্য আপলোড করতে হবে, তার ফরম্যাট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, কেউ যদি সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তথ্য আপলোড করতে না পারেন, সাহায্য করার জন্য থানায় হেল্প ডেস্ক রয়েছে। ভাড়াটিয়ার নথিপত্র নিয়ে বাড়ির মালিক থানায় গিয়ে সমস্ত তথ্য ওয়েবসাইটে আপলোড করিয়ে নিতে পারবেন।