নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘শুধু ভিডিয়োতেই (রিল) ক্ষমা করবেন? নাকি মামলাও প্রত্যাহার করবেন?’ শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর ইনস্টাগ্রাম রিল বা ভিডিয়ো বার্তা নিয়ে শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র কটাক্ষ করলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকে। বিরোধীরা অবশ্য এই ইস্যুতে সুর আরও চড়িয়ে বলল, ‘দেশের ছাত্র-যুবদের তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন একথা বলে, প্রধানমন্ত্রী আরও বেশি অপমান করলেন তাদের। গোটা দেশই অপমানিত।’ কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর সাফ বক্তব্য, ‘প্রধানমন্ত্রীর উচিত পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমা চাওয়া।’
শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় আবারও একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিয়ো প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমার সম্পর্কে অকথ্য অপশব্দ ব্যবহার করা হয়েছে যন্তরমন্তর থেকে। যারা এরকম শব্দ ও বাক্য বলেছে, তারা বিপথগামী। তাদের আবার সঠিক রাস্তায় ফিরিয়ে আনা আমাদের সকলের কর্তব্য। তাদের বোঝানো দরকার যে, অপমান, অসম্মান করে কোনো বদল আনা যায় না। এই সব ছাত্র-যুব আমাদের সকলের কাছে আপন। তাই আমি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের বিপক্ষে আমি। বরং এসো, আমরা সকলে একসঙ্গে দেশ গঠন করি।’ যন্তরমন্তর এবং তৎপরবর্তী গোটা দেশে নিট সংক্রান্ত প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছিল। তার জেরেই শেষপর্যন্ত ইস্তফা দিতে বাধ্য হন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এরপরই দেখা যাচ্ছে, ‘জেন জি’র সঙ্গে সমন্বয় সাধনের মরিয়া প্রয়াস করছেন মোদি। বেশি রাতে মোবাইলে সেলফি মোডে ভিডিয়ো করছেন বার্তা দিতে। কংগ্রেস নেতা এমপি জয়রাম রমেশ এই প্রবণতাকে এদিন আখ্যা দিয়েছেন, ‘ইনস্টাগ্রাম সভা’। অর্থাৎ জনসভার পরিবর্তে আজকাল প্রধানমন্ত্রী ইনস্টা সভা শুরু করেছেন। কংগ্রেস এমপির দাবি, ‘প্রধানমন্ত্রী যতই চেষ্টা করুন, ইনস্টা সভায় এখন আর কাউকে বোকা বানানো যাবে না।’
তবে মোদির ওই ভিডিয়ো বার্তার জবাবে ককরোচদের শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দিপকে তুলে এনেছেন আসল প্রশ্ন, ছাত্র-যুবদের উপর থেকে মামলাগুলো কি তুলে নেওয়া হবে? ককরোচ জনতা পার্টির অভিযোগ, সরকার যতই আশ্বাস, প্রতিশ্রুতি দিক যে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সেটা সম্পূর্ণ দ্বিচারিতা। বিক্ষোভকারীদের চিহ্নিত করে করে বিজেপির আইটি সেল অনলাইনে লাঞ্ছনা করছে। প্রাণহানির হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ মামলা করছে, এফআইআর করে থানায় ডেকে পাঠানো চলছে। এমনকি, এদিনই নয়ডার ১৫ বছরের এক কিশোরীকে অনলাইনে ভিডিয়ো পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করতে দেখা গিয়েছে। নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে সে অপশব্দ বলেছিল যন্তরমন্তরে। বিরোধী ও ককরোচ জনতা পার্টির বক্তব্য, ওই কিশোরীর ভিডিয়ো থেকে স্পষ্ট যে, তাকে ও তার পরিবারকে ভয় দেখিয়ে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছে। এই ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে এখন প্রধানমন্ত্রী বলছেন, ক্ষমা করে দিচ্ছেন তিনি!
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এদিন প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে বলেছেন, ‘আপনি ক্ষমা করে দেওয়ার কথা বলেছেন কেন? গোটা দেশ অপেক্ষা করছে আপনি কখন ক্ষমা চাইবেন। ছাত্র-যুবকে যেভাবে মারধর করা হয়েছে, যেভাবে তাদের হেনস্থা করা চলছে সেজন্য ক্ষমা চান। রামমন্দিরে প্রণামী চুরির জন্য ক্ষমা চান। হিন্দুদের আস্থাকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য ক্ষমা চান। নোটবাতিলের জন্য ক্ষমা চান।’ কালীঘাট তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যত বেশি এই ইনস্টা সভা করবেন মোবাইলে, তত বেশি ছাত্র-যুবদের ক্ষোভ বাড়বে। অতএব আমরা চাই, তিনি এই ভিডিয়ো বার্তা চালিয়ে যান।’