নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: দিল্লিতে দূষণ। দোষ কৃষকদের! মোদি সরকারের কোপের মুখে পড়তে চলেছে কৃষকরা। শীতকাল আসছে। দিল্লিতে ফের দূষণের আশঙ্কাও শুরু হয়েছে। অধিকাংশ সময়ই পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে ফসলের অবশিষ্টাংশ বা গোড়া পোড়ানোর কারণেই রাজধানী দিল্লির বায়ু দূষণ ঘন হয় বলেই অভিযোগ। তাই এবার রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানায় চাষের জমিতে ফসল তোলার পর তার গোড়া পোড়ানোর উপর নজরদারি বাড়াচ্ছে কেন্দ্র। নেওয়া হচ্ছে কড়া ব্যবস্থা। সেই মতো প্রস্তাব দিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রক।
কোনো কৃষকের জমিতে বার বার ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ঘটনা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট জমির ভূমি-রেকর্ডে ১৫ মাসের জন্য ‘রেড এন্ট্রি’ বা লাল দাগ দেওয়ার ভাবনাচিন্তা চলছে। অর্থাৎ ওই জমিকে ১৫ মাসের জন্য কালো তালিকায় ফেলা হবে। সেই জমি কেনাবেচা আটকে যাবে। একইসঙ্গে আর্থিক জরিমানা ৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর জন্য দায়ী কৃষকদের দুই একরের কম জমির জন্য পাঁচ হাজার, দুই-পাঁচ একর জমির জন্য ১০ হাজার এবং পাঁচ একরের বেশি জমির জন্য ৩০ হাজার টাকা জরিমানার উদ্যোগ নিচ্ছে মোদি সরকার। নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ না দিলে তা ভূমি-রাজস্বের বকেয়া হিসেবে আদায় করা যেতে পারে। এখানেই শেষ নয়। যে জমিতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর খবর মিলবে, তার কৃষককে সরকারি নানা সুবিধা থেকেও কিছুদিনের জন্য বাদ দেওয়া হতে পারে। তার থেকে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে সরকার ফসলও কিনবে না। কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রকের জারি করা খসড়া নিয়মে ‘কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্টে’র বর্তমান কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থা দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানার পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের কিছু এলাকায় কার্যকর হবে। খসড়া প্রস্তাবেই উল্লেখিত ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে বলেই খবর।
চূড়ান্ত নিয়ম জারি করার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের থেকে মতামত চেয়েছে কেন্দ্র। জানা গিয়েছে, কৃষকদের থেকে থেকে আর্থিক জরিমানা করা হবে তার অর্থ সংশ্লিষ্ট রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ বা দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই অর্থ ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনার যন্ত্রপাতি, বায়োমাস সংরক্ষণ, তার ব্যবহার, ফসলের বৈচিত্র্যকরণ, গবেষণা এবং কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।