সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: বিদ্রোহী ২০ তৃণমূলির সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য থাকার সুযোগ একপ্রকার হাতছাড়া হতে চলেছে। লোকসভা হোক বা রাজ্যসভা, প্রত্যেক সাংসদ কোনো না কোনো ‘ডিপার্টমেন্ট রিলেটেড স্ট্যান্ডিং কমিটি’ সদস্য হন। যা বিভিন্ন মন্ত্রক সংক্রান্ত। ওই কমিটির বৈঠকে যোগ দিলেই মেলে আড়াই হাজার টাকা। এমনিতে সাংসদরা এখন বেতন সহ অন্যান্য খাতে প্রতি মাসে পান ২ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা। এর বাইরে কমিটি বৈঠকের টাকা। বৈঠকে যোগ দিতে আসা-যাওয়ার জন্য বিমান-রেল ভাড়া। এছাড়া কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, কমিটির নানান স্টাডি ট্যুরে যাওয়ার সুযোগ। বিনামূল্যে।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে ২৪টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির মেয়াদকাল। এক বছর করে হয় কমিটির মেয়াদ। লোকসভার ১৬টি কমিটি গঠন করেন স্পিকার। রাজ্যসভার ৮টি কমিটি গঠন করেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা দেশের উপরাষ্ট্রপতি। কে কোন কমিটির সদস্য কে হবেন, তার জন্য রাজনৈতিক দলগুলির কাছে নাম চাওয়া হয়। ফলে এবার যে সুদীপ-কাকলিদের মতো ২০ বিদ্রোহীর নাম তৃণমূলের সংসদীয় দল প্রস্তাব করবে না, তা বলাই বাহুল্য। আবার এদিকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এখনো পর্যন্ত সুদীপ-কাকলিদের এনসিপিআই বলে স্বীকৃতিই দেননি।
ফলে এনসিপিআই সদস্যদের সংসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া প্রশ্নের মুখে। একইভাবে তৃণমূলও হারাতে পারে সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যানের পদ। বর্তমানে লোকসভা ও রাজ্যসভার বিভিন্ন স্থায়ী কমিটি মিলিয়ে তৃণমূলের হাতে দুটি চেয়ারম্যানের পদ রয়েছে। সার ও রসায়ন সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান কীর্তি আজাদ। বাণিজ্য সংক্রান্ত কমিটির চেয়ারপার্সন দোলা সেন। রাজ্যসভায় তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা এখন ন’জন। লোকসভায় খাতায় কলমে ২৮ হলেও সুদীপ-কাকলিরা এনসিপিআই হওয়ায় তৃণমূলের আদতে আট। ফলে মোট ১৭ সাংসদের তৃণমূলের কি আদৌ কোনো সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের পদ মিলবে?
এদিকে, ফের সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল সুদীপ-কাকলিদের মামলা। গত ২৫ আগস্ট প্রথম শুনানির দিন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেঞ্চ লিখিত নির্দেশে জানিয়েছিল, মামলার পরবর্তী দিন ১৮ সেপ্টেম্বর। কিন্তু সেদিন শুনানি হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রি থেকেই দিন বদলে করে দেওয়া হয় ২১ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ আজ সোমবার। কিন্তু এখন সেটিও পিছিয়ে গেল। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রেই জানা গিয়েছে, মামলা হবে আগামী বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর। এদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বিদ্রোহী তৃণমূলের যে ২০ সদস্যকে জবাব দিতে বলেছিল, তা আগামী কাল ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা। সুপ্রিম কোর্টও তাঁদের নোটিস ইস্যু করেছিল। সেই জবাবও তৈরি হচ্ছে।