সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ‘বাড়িতে গয়নার মতো ইনিউমারেশন ফর্মের রিসিভ কপিও রেখে দেবেন। কারও নাম বাদ গেলে সেটা নিয়েই আন্দোলনে নামব।’ রবিবার ময়ূরেশ্বর বিধানসভার ষাটপলশায় দলের বিএলএ-২ ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এভাবেই বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের জেলা কোর কমিটির আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘এই মাটিতেই আমাদের জন্ম। এখান থেকে তাড়ানোর ক্ষমতা কারও নেই। তোমরা পারলে এসআইআরে নাম বাদ দিয়ে দিও। আর আমরা পারলে রুখে নেব।’
এদিন সভার শুরুতে অঞ্চলভিত্তিক বুথের বিএলএ-২দের কাছ থেকে এসআইআরের কাজের অগ্রগতি জেনে নেন অনুব্রত। ষাটপলশা, উলকুণ্ডা, কুণ্ডলা সহ একাধিক অঞ্চলে কাজে তিনি ক্ষুব্ধ। ষাটপলশায় ৪০ ও উলকুণ্ডা অঞ্চলে ৫৮ শতাংশ ফর্ম ফিলআপ হয়েছে। অনুব্রত বিএলএ-২দের দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার জন্য বলেন। ময়ূরেশ্বর-২ ব্লক সভাপতি প্রমোদ রায়কে তিনি বলেন, আমি সব তথ্য নিয়ে এসেছি। পার্টি অফিসে বসে ঘাস কাটি না। কমিশন সময় বাড়াল তাই। না হলে কী হত? একটি বুথের ৬০ শতাংশ ভোটার বাদ গেলে কী হবে বুঝতে পারছেন? কেঁদে কুল পাবেন না। ধান, আলু বেরিয়ে যাবে। জেলের ভাত খেতে হবে। আইন জানা আছে তো? এনিয়ে মামলা চলে না। বেল দেয় না। দেখতে দেয় না। মারা গেলে দেহ দেয় না। দয়া করে দেখুন, সাধারণ মানুষের যেন ক্ষতি না হয়।
অনুব্রত বলেন, ময়ূরেশ্বর-১ ও ২ ব্লকে এসআইআর এর কাজ খারাপ হয়েছে। এই করে অসমে ১৪-১৫ লক্ষ হিন্দু ও পাঁচ লক্ষ মুসলিম জেল খাটছে। জনসধারণের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাড়িতে যেমন গয়না যত্ন করে রাখেন সেভাবেই ইনিউমারেশন ফর্মের রিসিভ কপি রেখে দেবেন। বিএলওরা আপলোড করুক না করুক। যখন ভোটার তালিকা বের হবে তখন নাম বাদ গেলে এই রিসিভ কপি নিয়ে আন্দোলনে নামব।
বিজেপিকে নিশানা করে অনুব্রত বলেন, বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এমনিতে কিছু করতে পারছে না। তাই এসআইআর দিয়ে জব্দ করতে চাইছে। কিন্তু পারবে না। বিএলএরা ভালোভাবে কাজ করুন। ২৬সালে আবার মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন মমতা। এখান থেকে তাড়ানোর ক্ষমতা কারও নেই। তারজন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। দেখে নেব।
এব্যাপারে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, উনি আগে হুঙ্কার দিতেন, কেউ তাঁর চুল স্পর্শ করতে পারবে না। আড়াই বছর জেল খেটে এলেন। নির্বাচন শেষ হলেই উনি বুঝতে পারবেন কত ধানে কত চাল। ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলকে বিসর্জন দিতে মানুষ প্রস্তুত।