সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ‘যত বড়ই ঝড় আসুক, একসঙ্গে আটকাব। সাবাই মিলে এক হয়ে রাস্তায় নেমে ওদের রুখে দেব।’ মঙ্গলবার হাসন বিধানসভার নলহাটি-২ ব্লকের কাঁটাগড়িয়ায় জনসভায় এভাবেই বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তৃণমূলের জেলা কোর কমিটির কনভেনর অনুব্রত মণ্ডল। পাশাপাশি তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে পারবে না। কী করবে? জেল খাটাবে। আড়াই বছর তো জেল খাটিয়েছে। ভয় পাইনি। সিপিএমকে তাড়িয়েছি, ওদেরও তাড়াব। হাসন বিধানসভায় ৬০-৬৫ হাজার ভোটে তৃণমূল জয়ী হবে বলে জানান অনুব্রত।
এসআইআর পর্বের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূল। মঙ্গলবার ব্লকভিত্তিক জনসভা শুরু করল তারা। এবার নির্বাচনে এসআইআর ‘ষড়যন্ত্র’ যে মূল হাতিয়ার তা বুঝিয়ে দিল তৃণমৃল নেতৃত্ব। সভায় মানুষের ভিড়ও জানান দিয়েছে, এসআইআর বুমেরাং হতে চলেছে বিজেপির কাছে। সভায় মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে অনুব্রত বলেন, বিজেপি মুসলিমদের নাম বাদ দিতে চায়। কারণ, মুসলিম মানেই নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোটার। তাই ওরা ৭নম্বর ফর্ম জমা করে অধিকাংশ মুসলিমের নাম বাদ দিতে চাইছিল। কিন্তু পারেনি। তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট ভালো রায় দিয়েছে। বিএলএ-২ শুনানিতে থাকতে পারবেন। শুধু ব্লকে নয়, পঞ্চায়েতেও শুনানি হবে। ওরা ভেবেছিল, এক একটা বিধানসভায় ৩০-৫০হাজার ভোটারের নাম বাদ দিতে পারলে জিতে যাবে। আর আমরা আঙুল চুষব? আমরা সিপিএমকে তাড়িয়েছি, বিজেপিকেও তাড়াব। এবার নির্বাচনে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়জয়কার হবে। হাসন বিধানসভায় ৬০-৬৫ হাজার ভোটে জয়ী হব আমরা।
এসআইআরে শুনানির নামে মানুষের হয়রানি নিয়েও সোচ্চার হন অনুব্রত। তিনি বলেন, সকাল ১০টায় ডাকা হচ্ছে, বিকেলে ছাড়ছে। দিনমজুরদের কথা ভাবা হচ্ছে না। ওরা হিন্দিভাষী, বাংলাকে দেখতে পারে না। মহিলাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই ভোটে মা-বোনেদের বড় ভূমিকা থাকবে। পাড়ার মহিলাদের একজোট করে বুথে নিয়ে যাবেন। ওরা আমাদের সঙ্গে লড়াইয়ে পারছে না। তাই বাংলার মানুষকে জব্দ করার কৌশল নিচ্ছে। এই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে হবে। এসআইআর আতঙ্কে বহু মানুষের আত্মহত্যা নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করেন অনুব্রত। পাশাপাশি তিনি বলেন, এসআইআর আতঙ্কে কেউ আত্মহত্যা করবেন না। আপনাদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন।
তৃণমূলের বীরভূম জেলার চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। এব্যাপারে সজাগ থাকতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন। তাতে সবাইকে শামিল হতে হবে। চতুর্থবার জন্য ওঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার শপথ নিন। এদিন সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা কোর কমিটির সদস্য অভিজিৎ সিংহ, বিধায়ক অশোক চট্টোপাধ্যায়, প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক প্রমুখ।