সংবাদদাতা, বহরমপুর: বহরমপুরে পরিত্যক্ত জেলা সদর হাসপাতাল এবং তার পাশের মাতৃসদন এখন অসামাজিক কাজকর্মের ‘তীর্থক্ষেত্রে’ পরিণত হয়েছে। অন্ধকার নামলেই সম্পূর্ণভাবে সমাজবিরোধীদের দখলে চলে যায় ওই দুই হাসপাতাল এলাকা। অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার আড়ালে পরিত্যক্ত জায়গায় রাতভর চলে মদ, গাঁজা হেরোইন ও জুয়ার আসর। এছাড়া বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে একাধিক অপকর্ম চলে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সমাজবিরোধীদের দৌরাত্ম্যে কার্যত অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন খাগড়া এলাকার মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, স্বাস্থ্য পরিষেবার কোনও বিভাগ এখানে চালু করা হলে তবেই এইসব অপকর্মের অবসান হবে।
প্রসঙ্গত, লালগোলার রাজা যোগীন্দ্রনারায়ণ রাওয়ের দান করা জমিতে গড়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদ সদর হাসপাতাল। দানের চুক্তিপত্রে উল্লেখ ছিল, কোনদিন হাসপাতাল বন্ধ হয়ে গেলে বা উঠে গেলে ওই জমি রাজ পরিবারের কাছেই ফিরে আসবে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা বন্ধ হওয়ার পর রাজপরিবার ওই জমি ফেরত নিতে তৎপর হয়েছে।
শুরু থেকে এখানে মেডিসিন, শিশুবিভাগ, যক্ষাবিভাগ, আইসোলেশন ওয়ার্ড সহ একাধিক বিভাগে চিকিৎসা হতো। সদর হাসপাতালের সামনেই মাতৃসদন নামে চালু ছিল প্রসূতি বিভাগ। কিন্তু, মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চালু হওয়ার পর সদর হাসপাতালের সমস্ত বিভাগ মেডিক্যালে তুলে আনার তোড়জোড় শুরু হয়। সদর হাসপাতাল বাঁচাও কমিটির বাধায় সে সময় বিভাগগুলি স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি। ২০১৬ সালে সদর হাসপাতাল ফাঁকা করে সমস্ত বিভাগই তুলে আনা হয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। মাতৃসদন বিভাগও চলে আসে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে মাতৃমা ভবনে। তারপর থেকেই পরিত্যক্ত সদর হাসপাতাল সমাজবিরোধীদের দখলে চলে যেতে শুরু করে।
২০১৯ সালে এখানে কোভিড বিভাগ চালু হলে সমাজবিরোধী দৌরাত্ম্য কিছুটা কমেছিল। কিন্তু, কোভিড আতঙ্ক কাটতেই ফের সদর হাসপাতাল পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। তারপরেই সম্পূর্ণভাবে সমাজবিরোধীদের দখলে চলে গিয়েছে। এনিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয়রাও। অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পান না। স্থানীয় এক বাসিন্দার অভিযোগ, সম্প্রতি সমাজবিরোধীদের উৎপাতে এলাকায় টেকা দায় হয়ে উঠেছে। খাগড়া এলাকার বাসিন্দা অনুপম মুখোপাধ্যায় বলেন, রাতে ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করতে ভয় লাগে। অধিকাংশই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকে। কখন কে কি কাণ্ড ঘটাবে কেউ জানে না। সদর হাসপাতালে যেকোনও একটি বিভাগ চালু হলে সমাজ বিরোধী দৌরাত্ম্য কমত। -নিজস্ব চিত্র