নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নাম গোলাপবাগ। কিন্তু, সন্ধ্যা নামলে এখানে গোলাপ নয়, গাঁজার গন্ধ ভেসে আসে। রাস্তার পাশে বাতি রয়েছে। কিন্তু, তা জ্বলে না। অন্ধকারে প্রেমিক-প্রেমিকারা অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ডুব দেয়। রাতে পথচলতি লোকজনদের কার্যত চোখে হাত চাপা দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এখনও বড় ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি ঠিকই, তবে যে কোনও দিন হতে পারে। পথবাতিগুলি জ্বলে উঠলে হয়তো পরিবেশটা বদলে যেত। কিন্তু, বাতি আর জ্বলে না। শহরের বিভিন্ন প্রান্তের প্রেমিক-প্রেমিকারা সন্ধ্যায় হাজির হচ্ছে সেখানে। প্রেম নিবেদন পর্ব চললে অসুবিধা হওয়ার কথা ছিল না। তবে, ‘গোপন কম্মই’ এলাকার বাসিন্দাদের অস্বস্তিতে রেখেছে।
শহরের বাসিন্দা আইনজীবী অনীশ দাস বলেন, গোলাপবাগ বর্ধমানের গর্ব। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আসা ছাত্রছাত্রীরা এখান থেকে নানা স্মৃতি নিয়ে ফিরে যান। কিন্তু, এই এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পথবাতি বন্ধ থাকায় যে কোনও দিন বড় ধরনের অপরাধ ঘটতে পারে। প্রকাশ্যে নেশার আসর বসছে। এসব আগে ছিল না। স্থানীয়রা বলেন, উল্লাস এলাকাতেও কয়েক মাস আগে এই ছবি দেখা যেত। প্রকাশ্যে প্লাস্টিকের গ্লাস হাতে যুবক-যুবতীদের ‘চিয়ার্স’ বলতে শোনা যেত। এখনও সন্ধ্যার পর এই এলাকায় ভিড় হয়। তবে নেশার ঠেকের সেই ছবি আর নেই। চুপিসারে কেউ কেউ গলায় দু’পাত্র ঢালেন। আগে সেটাই ছিল খুল্লমখুল্লা। স্থানীয় বাসিন্দারা আরও বলেন, গোলাপবাগ এলাকার রাস্তাও বেহাল রয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল যাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতেও এই রাস্তা ধরতে হয়। অথচ সেই রাস্তাই খানাখন্দে ভরে রয়েছে। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার বলেন, শহরে রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। কোথাও পথবাতি খারাপ হয়ে থাকলে সেটা সারানো হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।