Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

অন্য যুদ্ধ অন্য ভারত

অক্টোবর, ১৯৪৭। উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের গভর্নর জর্জ কানিংহাম জানতে পারলেন খুরশিদ আনোয়ার নামক এক ব্যক্তি হাজারা সীমান্তের কাছে নিয়ম করে বহু পাঠান আদিবাসী জড়ো করছে।

অন্য যুদ্ধ অন্য ভারত
  • ১১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত: অক্টোবর, ১৯৪৭। উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের গভর্নর জর্জ কানিংহাম জানতে পারলেন খুরশিদ আনোয়ার নামক এক ব্যক্তি হাজারা সীমান্তের কাছে নিয়ম করে বহু পাঠান আদিবাসী জড়ো করছে। এই আনোয়ার লোকটা মুসলিম ন্যাশনাল গার্ডের কিছু একটা হবে। কানিংহ্যাম মুখ্যমন্ত্রী খান আবদুল কায়ুম খানকে ডেকে পাঠালেন। কায়ুমকে কানিংহাম বললেন, ঝিলম নদী পেরিয়ে আসা একঝাঁক পাঠান পাঞ্জাবের এক নেতার নেতৃত্বে যে প্রভিন্সিয়াল রিপাবলিকান গভর্নমেন্ট জাতীয় কিছু একটা ঘোষণা করেছে। তারা প্রচার করছে, এবার থেকে কাশ্মীরে রাজা হরি সিংয়ের কোনও নির্দেশ বা তাঁর রাজ্যের অফিসারদের কথা গ্রাহ্য করবে না। এটা আপনি শুনেছেন? খুরশিদ আনোয়ার নিয়ম করে অস্ত্র সাপ্লাই পাচ্ছে কোনও সাপ্লায়ায়ের থেকে। এগুলো আপনার রা঩জ্যেই হচ্ছে। আপনি জানেন না? এরা কী চাইছে?

Advertisement

আবদুল কায়ুম খান চতুর রাজনীতিবিদ। ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত ছিলেন কংগ্রেসে। খান আবদুল গফফর খানকে মনে মনে পছন্দ করতেন না। কিন্তু যেই বুঝলেন পাকিস্তান নামক ব্যাপারটা হবেই, তখনই নিঃশব্দে জিন্নার অনুগামী হয়ে গেলেন দলবদল করে।
কায়ুম চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, আমার জানা নেই। এমনিতে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব খুশি হব যদি কাশ্মীরের মধ্যে আমাদের উপজাতি ভাই ও সাধারণ মুসলিম ভাইরা ঢুকে গিয়ে দখল করে নেয়। তবে এটাও আপনাকে বলছি, আমরা সরকারিভাবে এরকম কোনও জেহাদে কোনওরকম সমর্থন করব না। সহানুভূতিও দেখাব না। এমনকী এভাবে কাশ্মীর দখলের চেষ্টা হলে সর্বতোভাবে প্রতিরোধ করব।
কানিংহামের বিশ্বাস হল না। তিনি সরাসরি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ফ্র্যাঙ্ক মেসেরভিকে ফোন করলেন। বললেন, কাশ্মীরে কি পাকিস্তানি সেনা কোনও অ্যাডভেঞ্চার করতে যাচ্ছে?
মেসেরভি বললেন, আমার তো জানা নেই। এখনও এরকম কোনও অর্ডার বা মুভমেন্ট নেই। তবে তিনি কানিংহামকে বললেন, আমি প্রা‌ইম মিনিস্টারের সঙ্গে কথা বলছি। প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের গত সপ্তারে করোনারি থ্রম্বোসিস হয়েছে। তিনি শয্যাশায়ী। সবেমাত্র হাসপাতাল থেকে বাসভবনে ফিরেছেন। লিয়াকত মেসেরভিকে বললেন, এরকম কিছু হয়নি। হবেও না। আমাদের দিক থেকে অন্তত এসব করার প্রশ্নই নেই।
২০ অক্টোবর জর্জ কানিংহাম নিজেই ফোন করলেন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানকে। বললেন, স্যর, হাজার হাজার পাঠান কাশ্মীর বর্ডারের দিকে যাচ্ছে। লিয়াকত বললেন, সরকারিভাবে এসবের সমর্থন করি না আমরা। কিন্তু আপনি এই কথা জনসমক্ষে কিছু বলবেন না। সংবাদমাধ্যমকেও না। আর নর্থ ওয়েস্ট গভর্নমেন্টকে এটা ঠেকানোর জন্য কোনও নির্দেশও দেবেন না। এখানে সরকারের ভূমিকা নেই।
কানিংহাম বিস্মিত হয়ে ভাবলেন, এসব কী হচ্ছে? কানিংহাম ২২ অক্টোবর লিয়াকত আলি খানের সচিবকে ফোন করার পর সেই সচিব শুধু দু’টি প্রশ্ন করলেন—কতজন আছে ওই পাঠান উপজাতিদের দলে? ওরা সব সাপ্লাই ঠিকঠাক পাচ্ছে তো? কানিংহাম বললেন, কীসের সাপ্লাই? সচিব বুঝলেন, কানিংহাম কিছু জানেন না। দ্রুত বললেন, না, কিছু না!
পাকিস্তানের ডিফেন্স সেক্রেটারি ইস্কান্দার মির্জার উপর দায়িত্ব পড়ল মহম্মদ আলি জিন্নাকে সব জানিয়ে রাখার। জিন্নার সঙ্গে দেখা করে ইস্কান্দার সবকিছু বললেন। সেকথা শুনে জিন্নার উত্তর, ‘আমাকে আর কিছু বলবে না। আমি কিছু শুনতে চাই না। আমি যেন কিছুই জানি না। আমার বিবেক তাহলে পরিষ্কার থাকবে।’
২২ অক্টোবর। প্রায় ৩০০ লরিতে চেপে মুজফফরাবাদের সীমান্তদ্বারে  হাজির হয়েছে এক বাহিনী। একটু আগেই তারা দখল করেছে গড়হি এবং দোনেল জনপদ। দলে যারা আছে, তাদের মধ্যে আফ্রিদি, ওয়াজির, মাসুদ, সোয়াতি উপজাতি। আর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী থেকে আচমকা বিগত ১৫ দিনে ছুটি নেওয়া সেনা অফিসার এবং জওয়ান। 
মুজফফরাবাদের রাজ্য পুলিস ব্যাটালিয়নে দুই ধরনের ফোর্স আছে। মুসলিম এবং ডোগরা। ওই লরিগুলো যেইমাত্র এসে দাঁড়াল তৎক্ষণাৎ সিংহভাগ মুসলিম ফোর্স আক্রমণকারীদের সঙ্গে যোগ দিল। কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল নারায়ণ সিং বিস্মিত হয়ে দেখলেন, তাঁর ফোর্স অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। নারায়ণ সিংকে হত্যা করা হল। ঝিলম রোড হয়ে ভারতে ঢোকার পর এবার সেই পাকিস্তানি বাহিনী অগ্রসর হল বারামুলার দিকে। লক্ষ্য শ্রীনগর।
দিল্লি। শনিবার। ২৫ অক্টোবর। ক্যাবিনেট কমিটি অন ডিফেন্স বৈঠক শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব ভি পি মেনন বললেন, কাশ্মীরের মহারাজা ভারতের সাহায্য চাইছেন। প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বল্লভভাই  প্যাটেল দ্বিধায়। অবশ্যই তাঁরা দু’জনেই ফোর্স পাঠানোর পক্ষে। কিন্তু কাগজে কলমে একটা অফিসিয়াল ডকুমেন্ট থাকা দরকার। মেনন বললেন, কাশ্মীর ভারতের সঙ্গে শর্তহীনভাবে যুক্ত হোক। এটাই আমাদের অফার হওয়া দরকার। নচেৎ কাশ্মীরের এখন যা স্টেটাস অর্থাৎ কোনওদিকেই নেই, স্বাধীন স্বশাসিত একটি রাষ্ট্র, এরকম অবস্থায় আমরা সেনাবাহিনী পাঠালে পাকিস্তানও পাঠাবে। 
যুদ্ধকালীন তৎপরতায় স্থির হল ভি পি মেনন যাবেন শ্রীনগর। মেনন গেলেন। কিন্তু সেই রাতেই পাকিস্তানি উপজাতি হামলা করছে শ্রীনগরে, এই জল্পনায় জিপে করে মহারাজা পরিবার সহ দ্রুত চলে যান জম্মু। মেনন দিল্লি ফিরে সব রিপোর্ট করার পর ২৬ অক্টোবর ভোরেই জম্মু পৌঁছলেন। মহারাজা হরি সিং তখন ঘুমোচ্ছেন। মেনন ঘুম ভাঙিয়ে বললেন, আপনি ভারতে যোগ দিন। ভারত সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে কাশ্মীরকে রক্ষা করবে। মহারাজা স্বাক্ষর করলেন। ভারতের সেনাবাহিনী আরআইইএফ এবং ডাকোটা এয়ারক্র্যাফ্টে ২৭ অক্টোবর নামল শ্রীনগরে। ৮ নভেম্বর পাকিস্তানের ডন সংবাদপত্র যখন শিরোনাম করেছে, ‘ভারতের শত বাধা সত্ত্বেও সাহসী স্বাধীনতা যোদ্ধারা শ্রীনগর দখল করে নিয়েছে,’ তখন আসলে পাকিস্তানের বাহিনীকে বিপর্যস্ত ও ধ্বংস করে ভারতীয় আর্মি বারামুলা দখল করছে! একের পর এক দখল হওয়া এলাকা ভারত পুনরুদ্ধার করল। কিন্তু যুদ্ধবিরতি নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপে কাশ্মীরের একাংশ রয়ে গেল পাকিস্তানের হাতে। জন্ম হল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের!
২৬ নভেম্বর দিল্লিতে দেখা গেল একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য। ভারত-পাকিস্তান জয়েন্ট ডিফেন্স কাউন্সিল বৈঠকে অসুস্থ লিয়াকত আলি খান চেয়ারেও বসতে পারছেন না। তাঁকে একটি আরামকেদারা দেওয়া হয়েছে। সমস্ত  পাকিস্তানি ফোর্সকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং তাহলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কে থাকা অর্থসম্পদের মধ্যে পাকিস্তানের শেয়ার ৫৫ কোটি টাকা পাবেন। লিয়াকত রাজি হয়ে স্বাক্ষর করলেন কাউন্সিলের দলিলে। সামনে তখন গম্ভীর মুখে বসে নেহরু-প্যাটেল জুটি!
সেই শুরু পাকিস্তানের পরাজয়ের ইতিহাসের। কিন্তু পাকিস্তান বদলায়নি।  ১৯৬৫ সালে অপারেশন জিব্রাল্টার। এবং অপারেশন গ্র্যান্ড স্লাম। প্রথমে পাকিস্তানের মিলিটারি শাসক আয়ুব খান ১৯৬২ সালে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে একটি ফোর্স গঠন করেন। নাম—রাজাকার বাহিনী। ঠিক হয়, এদের প্রশিক্ষণ দেবে পাকিস্তানের সেনা। তারপর আবার কাশ্মীরে প্রবেশ করিয়ে কাশ্মীর দখল হবে। ১৯৬৫ সালে সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য ৩০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে তৈরি রাখা হয়েছে। মেজর জেনারেল আখতার হোসেন মালিকের নেতৃত্ব। সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান পূর্ণ উদ্যমে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার ২০ দিন পর আয়ুব খান জানতে পারলেন, তাঁর সেনবাহিনীর হাতে মাত্র পাঁচ সপ্তাহের অস্ত্র ও যুদ্ধ-সরঞ্জাম আছে। পক্ষান্তরে ভারতের কাছে তখনও যা অস্ত্র ও রসদ রয়েছে, তা দিয়ে আরও চারমাস একটানা যুদ্ধ করা যাবে! গুপ্তচর এবং বন্ধু আমেরিকা মারফত এই সংবাদ জানার পরই আয়ুব খান আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণ করে বললেন, যেভাবে হোক যুদ্ধ থামান। আমেরিকার গোপন উদ্যোগে রাষ্ট্রসঙ্ঘ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করল। ১৯৬৬ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের তাখসন্দে (বর্তমান উজবেকিস্তান) ছোটখাটো চেহারার লাল বাহাদুর শাস্ত্রীকে দেখে আয়ুব খানের লজ্জা আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছিল। তিনি জনান্তিকে বলেছিলেন, এই লোকটির কাছেও হেরে গেলাম! কারণ যুদ্ধ চলাকালীন ভারত দখল করেছিল প্রায় ৪ কিলোমিটার পাকিস্তানি জমি। হারিয়েছিল ৬২৮ কিলোমিটার। যদিও হাজি পীর দখল করেও ফেরত দিতে হয়। সেটাই ছিল আফশোস।
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের লজ্জাজনক পরাজয়ের ইতিহাস সর্বজনবিদিত। প্রশ্ন হল, পাকিস্তানের এই পরাজয় প্রবণতার এবার কি পাঁচে পঞ্চবাণ হতে চলেছে? অর্থাৎ ১৯৪৭ থেকে ১৯৯৯ সালের কার্গিল। ভারতের সঙ্গে অযথা উপযাচক হয়ে পাকিস্তান যুদ্ধ করেছে এবং চারবারই বিপর্যস্ত হয়েছে। এবার পঞ্চম প্রয়াস। কিন্তু কেন?
পাকিস্তান বিলক্ষণ জানে, সামরিক শক্তিতে ভারত এখন বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ। ফলে পাকিস্তানকে পর্যুদস্ত করতে আর ২২ দিন বা ২৩ দিন লাগবে না। সব ফ্রন্টেই পাকিস্তানের তুলনায় ভারতের সামরিক সরঞ্জাম এবং বাহিনী দ্বিগুণ ক্ষমতাসম্পন্ন। ভারতের আর্মিই প্রায় ১১ লক্ষ। রিজার্ভ ফোর্স আরও ১১ লক্ষ। পাকিস্তানের ৬ লক্ষ। পাকিস্তানের প্যারা মিলিটারি সংখ্যা ৫ লক্ষ। ভারতের ২৫ লক্ষ। ভারতীয় আর্মির কাছে রয়েছে ৪২০১ ট্যাঙ্ক। পাকিস্তানের আছে ২৬২৭। ভারতের নিউক্লিয়ার ওয়ারহেড ক্ষমতাসম্পন্ন অগ্নি সিক্সের রেঞ্জ ৫২০০ কিলোমিটার। গোটা পাকিস্তান ভারতের পরমাণু অস্ত্রের আওতায়। পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পরমাণু নিক্ষেপকারী মিসাইল শাহিন থ্রির রেঞ্জ মাত্র ২৭৫০ কিলোমিটার। রাফাল তো আছেই। মিরাজ ২০০০, তেজা, সুখোই, এম টু কে ফাইটার জেটেও রাশিয়া, আমেরিকা, চীন ও ইজরায়েলের মতো দেশের সমান ভারত। সেখানে পাকিস্তানের সবথেকে বড় ভরসা এফ ১৬ এবং জে এফ ১৭ থান্ডার।
কিন্তু এসবের থেকেও ২০২৫ সালের রণক্ষেত্র অনেক বেশি এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম, সুইসাইড ঩ড্রোন, প্রিসিশন স্ট্রাইক নির্ভর। কারণ সীমান্ত পেরিয়ে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে যাওয়ার আগে যে প্রক্সি কনফ্লিক্ট পর্ব, সেটাই একটি দেশের সামরিক শক্তি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। আর ঠিক সেটাই শুরু হয়েছে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে।
মঙ্গলবার মধ্যরাতের নায়কের নাম ছিল রাফাল ফাইটার জেট। যোগ্য সঙ্গী মিরাজ ২০০০। তাদের প্রধান হাতিয়ার ছিল এয়ার টু সারফেস ক্রুজ মিসাইল স্কালপ। এবং হ্যামার এয়ার টু গ্রাউন্ড বম্ব। পাশাপাশি ছিল সুইসাইড ড্রোন। যা ৩০ কিলোমিটার উচ্চতায় উড়বে। শত্রুপক্ষের র‌্যাডার এড়িয়ে টার্গেট খুঁজে নিয়ে সুইসাইড ড্রোন ঝাঁপিয়ে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটাবে। ইজরায়েলের হ্যারপ ড্রোনের বৈশিষ্ট্য হল, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম জ্যামিং করে একে ঠেকানো যাবে না। এই সুইসাইড ড্রোন কার্যকরী থাকে রিয়াল টাইম ডেটা লিঙ্কের মাধ্যমে। পাকিস্তানের যাবতীয় জঙ্গি ঘাঁটিতে কী আছড়ে পড়ল? ৩০০ কিলোমিটার রেঞ্জ সম্পন্ন স্কালপ মিসাইল। কোডনেম—স্টর্ম শ্যাডো। প্রবল বৃষ্টি এবং মাত্রাছাড়া সাইক্লোনের সময়ও স্টর্ম শ্যাডো মিসাইল ব্যবহার করা যায়। 
হ্যামার শব্দের অর্থ হাতুড়ি। পুরো নাম হাইলি অ্যাজাইল মডিউলার মিউনিশন এক্সটেন্ডেড রেঞ্জ। হ্যামারের কোডনেম গ্লাইড বম্ব। এই বোমার বৈশিষ্ট্য হল, একটি বোমায় আসলে লুকিয়ে থাকবে চারটি পৃথক চরিত্রের বোমা। 
বুধবার ৭ মে থেকে লাগাতার পাকিস্তান নিজেদের মুখরক্ষায় ভারতের ৫টি শহরে ড্রোন আক্রমণ করেছে। প্রতিটি আক্রমণ প্রতিরোধ করেছে অত্যাধুনিক এস ৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। পাল্টা জবাবে ব্যবহার করা হয় আকাশ সারফেস টু এয়ার মিসাইল। কীভাবে কাজ করে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম? ডিটেকশন, ট্র্যাকিং, ইন্টারসেপশন। সিস্টেমের মধ্যে থাকা র‌্যাডার কোনও অবজেক্ট লক্ষ্য কর঩লেই ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক ওয়েভ পাঠায়। সেই বার্তা পেয়ে অ্যাক্টিভ হবে ইন্টারসেপ্টর। দু’টি প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। সি-থ্রি। কমান্ড কন্ট্রোল কমিউনিকেশন। এবং স্যাম। সারফেস টু ওয়ার মিসাইল।
ভারতের ট্যাঙ্ক বাহিনী, সুখোই থার্টি ফাইভ, মিগ ২৯, হ্যাল তেজস, মিগ ২১ বাইসন অথবা আইএনএস বিক্রান্ত যুদ্ধজাহাজ বা অরিহন্ত সাবমেরিনরা তো এখনও মাঠেই নামেনি! রেডি হচ্ছে! তার আগেই শুরুতেই এই সি থ্রি, স্যাম এবং মার্ক টু সুইসাইড ড্রোনেই পাকিস্তান বার্তা পেয়ে গেল এ এক অন্য যুগ। অন্য ভারত। অন্য যুদ্ধ।
করাচি বন্দরে হানা, লাহোরে এয়ার ডিফেন্স ধ্বংস, রাওয়ালপিন্ডি আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকে শোনা যাওয়া বিস্ফোরণের শব্দ। যুদ্ধের প্রথম পর্বেই পাকিস্তানের কাছে ভারত যেন জানতে চাইল—হাউ’জ দ্য জোশ!
গ্রাফিক্স : সোমনাথ পাল
সহযোগিতায় : সত্যেন্দ্র পাত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ