Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ট্রাম্পের চাপানো শুল্ক নিয়ে কটাক্ষ আরও এক মার্কিন অর্থনীতিবিদের, ‘যেন হাতিকে ঘুসি মারছে ইঁদুর’

ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশের চড়া হারে শুল্ক চাপানো নিয়ে আমেরিকাতেই রোজ কড়া সমালোচনা হজম করতে হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে

ট্রাম্পের চাপানো শুল্ক নিয়ে কটাক্ষ আরও এক মার্কিন অর্থনীতিবিদের, ‘যেন হাতিকে ঘুসি মারছে ইঁদুর’
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ১৫:০৮
Prefer us on Google

ওয়াশিংটন: ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশের চড়া হারে শুল্ক চাপানো নিয়ে আমেরিকাতেই রোজ কড়া সমালোচনা হজম করতে হচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে। এবার ট্রাম্প-ট্যারিফের মুণ্ডপাত করলেন বিশিষ্ট মার্কিন অর্থনীতিবিদ রিচার্ড উল্ফ। তাঁর কটাক্ষ, ভারতের প্রতি আমেরিকা ‘বিশ্ব মোড়লে’র মতো আচরণ করছে। তবে আদতে নিজের পায়েই কুড়ুল মারছে। কারণ, এর ফলে পশ্চিমী দেশগুলির বিকল্প অর্থনীতি হিসেবে ব্রিকস গোষ্ঠীর হাতই শক্ত হচ্ছে। ভারত কী করবে, তা নিয়ে আমেরিকার ফরমান জারি বাস্তবে হাতিকে ইদুঁরের ঘুসি মারার শামিল! আমেরিকার বাজার বন্ধ হলে ভারত তাদের পণ্য অন্যত্র বিক্রির জায়গা খুঁজবে। রাশিয়ার মতো ভারতও আমেরিকার বদলে ব্রিকস গোষ্ঠীর বাকি দেশগুলিতে তাদের পণ্য রপ্তানি করবে। আমেরিকার এই পদক্ষেপে ব্রিকস শক্তিশালী হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাণিজ্য সংক্রান্ত প্রবীণ পরামর্শদাতা পিটার নাভারো বলেছেন, ভারতের সঙ্গে এই দ্বন্দ্বের সঙ্গে বাণিজ্য নেই। এটি একান্তই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত লড়াই। এরমধ্যে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে মার্কিন ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্ক ও ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস সংস্থা জেফেরিস। তারা জানিয়েছে, ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধের সময় ট্রাম্পকে মধ্যস্থতা করতে দেওয়া হয়নি। সেকারণেই শুল্ক চাপানো হয়েছে। 

Advertisement

ব্রিকস গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে ১০ হয়েছে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফিকার পাশাপাশি এই গোষ্ঠীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মিশর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। পশ্চিমী দেশগুলির আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিকল্প অর্থনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্যে এগচ্ছে তারা। ডলারের বিকল্প বিনিময় মুদ্রা নিয়েও চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। এই আবহেই রিচার্ড উল্ফ ট্রাম্প প্রশাসনকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, চীন, রাশিয়া, ভারত ও ব্রিকসের বাকি দেশগুলি একত্রে বিশ্বের মোট উৎপাদনের ৩৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। জি-৭ গোষ্ঠীর মিলিত উৎপাদন কমে হয়েছে ২৮ শতাংশের আশপাশে। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অবশ্য পাল্টা যুক্তির ধারা অব্যাহত রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসনও। এবার আসরে মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট। তাঁর ঠেস, ডলারকে টেক্কা টেওয়ার সাধ্য ভারতীয় মুদ্রার নেই। ভারতীয় টাকার আন্তর্জাতিক বিনিময় মুদ্রা হয়ে ওঠার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি। ভারত ডলারের বদলে রুপিতে বাণিজ্য করলে কি তা উদ্বেগের হবে? বেসেন্টের জবাব, আমার উদ্বেগের আরও অনেক বিষয় রয়েছে। রুপির আন্তর্জাতিক বিনিময় মুদ্রা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা সংক্রান্ত ভাবনা সেই তালিকায় নেই। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ