নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ফের কৃষ্ণনগর শহরে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব! সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত শক্তিনগরের মণীন্দ্রপল্লি এলাকায় একাধিক বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালাল দুষ্কৃতীরা। এমনকী বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিও চালায় বলে অভিযোগ। ওই এলাকায় রাস্তার ধারে পোস্টের আলো নিভিয়ে কার্যত দাপিয়ে বেড়াল দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। মঙ্গলবার সকালে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ জানান স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর তরফ থেকে মাস পিটিশন করা হয়। প্রসঙ্গত, বছরখানেক আগে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের একজন নিরাপত্তাকর্মীর উপর হামলায় অভিযুক্ত অধরা তৃণমূল কর্মী প্রসেন দাসের নেতৃত্বেই সোমবার রাতে তাণ্ডব চালানো হয় শহরে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় একদল দুষ্কৃতী তোলাবাজি করে। এলাকার কোনও বাসিন্দা টাকা দিতে অস্বীকার করলে এইভাবেই তাঁদের উপর অত্যাচার করা হয়। অতীতেও দুষ্কৃতীরা এলাকার বাসিন্দাদের একাধিকবার মারধর করেছে। পুলিসকে জানিয়েও কোনও সুরাহা হয় না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। শাসকদলের ছত্রছায়াতেই তাদের এই বাড়বাড়ন্ত বলে দাবি স্থানীয়দের। মাসখানেক আগেই চকেরপাড়াতেও বোমা ও গুলি চলেছিল। কৃষ্ণনগর শহরে একের পর এক দুষ্কৃরী তাণ্ডবের ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পুলিসের ভূমিকাও। যদিও কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাত ১টা নাগাদ বাহিনী নিয়ে এলাকায় ঢোকে প্রসেন। প্রথমে তারা এলাকার সমস্ত রাস্তার লাইট নিভিয়ে দেয়। তারপর ভোর ৫টা পর্যন্ত বাড়িগুলিতে ভাঙচুর চালায়। প্রথমে তারা অনিল ভৌমিক নামে একজনের বাড়ি ভাঙচুর করে। টিনের দরজা ভেঙে ঘর ওই বাড়ির সদস্যদের বের করে এনে বেধড়ক মারধর করে। তখনই বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিও চালায়। তারপর একে একে আলপনা সিকদার, মান্তু দেবনাথ, অলোকা সরকার সহ অন্যান্যদের বাড়িতে চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। পুলিসকে খবর দেওয়া হলেও, তারা অনেক দেরিতে ঘটনাস্থলে আসে।
উল্লেখ্য, এই প্রসেনের বিরুদ্ধে এক বছর আগে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালের একজন নিরাপত্তারক্ষীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। সেসময় প্রসেন ওই এলাকায় তৃণমূলের বুথ সভাপতি পদে ছিল। বর্তমানে সে তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী বলেই পরিচিত। সম্প্রতি তৃণমূলের রাখীবন্ধন কর্মসূচিতেও তাকে সামনের সারিতে দেখা গিয়েছে। এবার মণীন্দ্রপল্লির ঘটনায় প্রসেনের নাম জড়ানোয় অস্বস্তিতে শাসকদল।
স্থানীয় বাসিন্দা, মান্তু দেবনাথ বলেন, রাত ১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ওরা টানা তাণ্ডব চালিয়েছে। বহু বাড়িতে ওরা ভাঙচুর চালিয়েছে। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিও চালায়। ওদের অত্যাচারে এলাকায় বাস করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় এক মহিলা বলেন, আমি ঘরে মেয়েকে নিয়ে ঘুমাচ্ছিলাম। ওরা দরজায় লাথি মারে। সেইসঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিল। ভয়ে মা-মেয়ে সিঁটিয়ে ছিলাম। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, কেউ অপরাধ করলে পুলিস প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নিক। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির মুখপাত্র সন্দীপ মজুমদার বলেন, তৃণমূলের মদতেই এলাকায়
দুষ্কৃতীরা দাপাদাপি করে বেড়াচ্ছে। সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র