সংবাদদাতা, বহরমপুর: বহরমপুরের সাংসদের দাবি মানল রেল। ঈদ উপলক্ষ্যে মুর্শিদাবাদ জেলা পেল পরপর দু’দিন আরও একজোড়া স্পেশাল ট্রেন। শনিবার ও রবিবার হাওড়া-আজিমগঞ্জ শাখায় আপ ও ডাউনে ট্রেন দু’টি চলবে। এর আগে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় দু’জোড়া স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা করেছিল রেলমন্ত্রক। শুক্রবার হাওড়া-আজিমগঞ্জ শাখায় ঈদের আগে পরপর দু’দিন আরও একজোড়া ট্রেনের ঘোষণা করায় জেলার পরিযায়ী শ্রমিকরা উচ্ছ্বসিত। ভাগীরথীর দু’পাড়ের দুই শাখায় স্পেশাল ট্রেনে তাঁরা বাড়ি ফিরতে পারবেন। শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার পাশাপাশি রেলমন্ত্রকের কাছে হাওড়া-আজিমগঞ্জ শাখায় স্পেশাল ট্রেনের জোরাল দাবি তুলেছিলেন বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান। দু’দিন আগে জেলার এক ইফতার পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনি বলেছিলেন, হাওড়া-আজিমগঞ্জ শাখায় ঈদে স্পেশাল ট্রেনের দাবি জানিয়েছি। রেলমন্ত্রক থেকে শীঘ্রই ট্রেনের ঘোষণা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
মুর্শিদাবাদের ১০ লক্ষেরও বেশি শ্রমিক বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের সিংহভাগ ঈদ উৎসবে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু এত সংখ্যক মানুষ একটি উৎসবকে কেন্দ্র করে ঘরে ফেরায় ট্রেনে অতিরিক্ত চাপ বাড়ে। বহু শ্রমিক ট্রেনে উঠতে না পারায় তাঁদের স্টেশনেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হয়। শ্রমিকদের দাবি, ঈদের দু’দিন আগে থেকে শিয়ালদহ-লালগোলা ও হাওড়া আজিমগঞ্জ শাখায় স্পেশাল প্যাসেঞ্জার ট্রেন চালানো হলে যাতায়াতের সমস্যা অনেকটা মেটে। ২৬ মার্চ রেলমন্ত্রক শিয়ালদহ লালগোলা শাখায় ৩০ মার্চ ও ১ এপ্রিল দু’জোড়া স্পেশাল ইএমইউ ট্রেনের ঘোষণা করে। তাতে পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্ষোভ কমেনি। তাঁদের ঐক্য মঞ্চের তরফে রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তারপরই বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হন প্রাক্তন ক্রিকেটার। স্পেশাল ট্রেন চেয়ে লাগাতার রেলমন্ত্রকে আর্জি জানিয়ে এসেছেন তিনি।
মুর্শিদাবাদে ভাগীরথীর পূর্বপাড়ে রয়েছে শিয়ালদহ-লালগোলা শাখা। নদীর পশ্চিমপাড় দিয়ে গিয়েছে হাওড়া-আজিমগঞ্জ শাখা। শিয়ালদহ ডিভিশন থেকে স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণায় পূর্বপাড়ের পরিযায়ী শ্রমিকদের স্বস্তি মিলেছিল। এবার হাওড়া-আজিমগঞ্জ শাখায় স্পেশাল ট্রেন ঘোষিত হওয়ায় দু’পাড়ের বাসিন্দারা খুশি।
জানা গিয়েছে, ০৩০১৭ আপ স্পেশাল হাওড়া থেকে দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে ছেড়ে বিকেল ৫টায় আজিমগঞ্জ পৌঁছবে। ০৩০১৮ ডাউন ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টায় আজিমগঞ্জ থেকে ছেড়ে রাত ১১টায় হাওড়া পৌঁছবে। ২৯ মার্চ ও ৩০ মার্চ একই সময়ে আপ ও ডাউনে ট্রেন দু’টি চলবে। ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পরিযায়ী শ্রমিকরা ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। ইন্তাহার শেখ, রজব আলি, খুরশিদ বিশ্বাসরা বলছিলেন, ‘ইউসুফ পাঠানের চেষ্টাতেই এবার অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে ঘরে ফিরতে পারলাম। সাংসদকে ধন্যবাদ।’