নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর সভা। সকাল সকাল যেতে হবে সেখানে। যদি না যান তাহলে আগামী দিনে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে সমস্যা হতে পারে। তখন আমাদের কিছু বলতে পারবেন না। অভিযোগ, উত্তর দমদম পুরসভার কর্মীরা ফোন করে এমনই হুমকি দিয়েছেন অন্নপূর্ণা যোজনার বহু গ্রাহককে। ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত একটি অডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে শহরজুড়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মহিলাদের অভিযোগ, সরকারি টাকা পাই বলে এভাবে আমাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। যদিও পুরসভার তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
গত ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর উত্তর দমদম পুরসভার নাম করে শহরের প্রচুর মহিলাকে ফোন করা হয়েছে। ভাইরাল হওয়া অডিয়োয় শোনা গিয়েছে, পুরসভার কর্মী পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি বলছেন, ‘আমি উত্তর দমদম পুরসভা থেকে বলছি। আপনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন? হ্যাঁ সূচক মন্তব্য শোনা মাত্র ওই ব্যক্তি বলেন, এই মাসের টাকা কি অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে? এরপরেই তাঁকে বলতে শোনা যায়, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর সল্টলেকে মুখ্যমন্ত্রীর বইমেলা সংক্রান্ত অনুষ্ঠান আছে। সকাল ৮টায় বণিক মোড়ে আসতে হবে। ওখানে বাস থাকবে। ওই বাসে চেপে সল্টলেকে যেতে হবে। সকালে টিফিন ও দুপুরে লাঞ্চ দেওয়া হবে।’ এই নির্দেশ শোনার পর ওই মহিলা বলেন, ১৭ তারিখ বাড়িতে বিশ্বকর্মা পুজো রয়েছে। ওইদিন যাওয়া হবে না। তখন ওই ব্যক্তি বলেন, ‘ঠিক আছে। অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে আগামী দিনে কোনো সমস্যা হলে আমাদের কাছে আসবেন না।’ তখন মহিলা পালটা বলেন, আপনি হুমকি দিচ্ছেন? আমি আপনার নামে পুরসভায় অভিযোগ করব।
শুধু এই ফোন নয়, এমন বহু ফোন গিয়েছে একাধিক মহিলার কাছে। কাউকে বণিক মোড়, কাউকে পাঠানপুর মোড়ে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল। কাউকে আবার বলা হয়েছিল, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্যই সল্টলেকে যেতে হবে। যদিও পরে মহিলাদের বাসে করে নিয়ে যাওয়ার কর্মসূচি বাতিল করা হয়। যাঁরা যেতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাঁদের পরে ফোন করে না বলা হয়। পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স বিভাগের এক কর্মী ফোন করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের দপ্তর থেকে মহিলাদের ফোন নম্বর দিয়ে কল করতে বলা হয়েছিল। তাই আমরা ফোন করেছি। নাহলে আমরা ফোন নম্বর কোথায় পাব? কেনই বা আমরা ফোন করব? এর বেশি আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। যদিও পুরসভার আধিকারিকরা একথা অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, পুরসভার তরফে কাউকে ফোন করতে বলা হয়নি। এই চাপানউতোরের মধ্যে উত্তর দমদম পুরসভা এলাকার অন্নপূর্ণা যোজনার গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভের পারদ চড়তে শুরু করেছে।