নয়াদিল্লি: অঙ্কিতা ভান্ডারি খুনের মামলায় উত্তাপ দিল্লিতে। উত্তরাখণ্ডে ১৯ বছরের ওই রিসেপশনিস্টের হত্যাকাণ্ডে নাম জড়িয়েছিল বিজেপি নেতা দুষ্যন্ত গৌতমের। সোমবার সেই গৌতমকেই সিকিমের রাজ্যপাল পদে নিয়োগ করেছে কেন্দ্র। এর প্রতিবাদে বুধবার দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে ধরনায় বসেন অঙ্কিতার মা-বাবা। তাঁরা দাবি করেন, সিবিআই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যপাল পদে গৌতমের নিয়োগ স্থগিত রাখতে হবে। কিন্তু রাতভর প্রতিবাদের পর বৃহস্পতিবার ভোর চারটেয় তাঁদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। আটক করা হয় ধরনায় শামিল কংগ্রেসের পবন খেরা, সুপ্রিয়া শ্রীনেতকেও। তালিকায় ছিলেন যুব কংগ্রেস সভাপতি উদয়ভানু চিবও। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার প্রতিবাদে মোদি সরকারকে একহাত নিয়েছেন রাহুল গান্ধী। বুধবারই ইন্ডিয়া গেটে গিয়ে অঙ্কিতার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি।
এদিন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রাহুল বলেছেন, সন্তানহারা বাবা-মা প্রশ্ন তোলায় দিনের আলো ফোটার আগেই তাঁদের আটক করা হয়েছে। অত্যাচারিতদের কণ্ঠরোধ, প্রশ্নকারীকে সরিয়ে দেওয়া— এটাই এই সরকারের হলমার্ক। কিন্তু বিচারের দাবিতে এই লড়াই থামানো যাবে না। একইসঙ্গে গৌতমের নিয়োগ পুনর্বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে আরজি জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের তোপ, অঙ্কিতার বাবা-মাকে আটক করা মোদি সরকারের অসংবেদনশীলতার চরম নিদর্শন।
উল্লেখ্য, উত্তরাখণ্ডে ঋষিকেশের একটি রিসর্টে ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর খুন হন অঙ্কিতা। চার দিন পর খাল থেকে উদ্ধার হয় দেহ। রিসর্টের মালিক পুলকিত আর্য ও তার বাবা তথা প্রাক্তন বিজেপি নেতা বিনোদ আর্যের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। অভিযোগ উঠেছিল, রিসর্টের এক ভিআইপি অতিথিকে ‘বিশেষ পরিষেবা’ দিতে অস্বীকার করার খেসারত দিতে হয় চরম পরিণতি হয় তরুণীর। কিন্তু সেই ভিআইপি অতিথিটি কে? অঙ্কিতার মা-বাবা ও সমাজকর্মীরা দুষ্যন্ত গৌতমের দিকে আঙুল তোলেন। গৌতম অভিযোগ অস্বীকার করে অঙ্কিতার মা-বাবার বিরুদ্ধে পালটা মানহানির মামলা করেন।



