নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও দিল্লি অবরুদ্ধ কেন? সতর্কতামূলক ব্যবস্থার নামে রাজধানীকে স্তব্ধ করার ‘অপরাধে’ আদালত অবমাননার মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইল কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতে একের পর এক ধাক্কা খেলেন মোদি-শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহনের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা দিয়ে তা শুরু হয়। সেই সঙ্গে বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র দায়ের করা মামলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নোটিস, যন্তরমন্তরে আন্দোলন বন্ধে দিল্লি পুলিশের নিষেধাজ্ঞার ব্যাখ্যা তলব—পরের পর মামলায় প্রশ্নের মুখে পড়ল মোদি সরকার।
দিল্লিকে অবরুদ্ধ করা নিয়ে এদিন আদালতে জমা দেওয়া বক্তব্যের গোড়াতেই ক্ষমা চেয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব। আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই অস্বস্তি বাড়ে মোদি-শাহের। কী করে সেই খবর প্রকাশ আটকানো যায়, তার চেষ্টা চলে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, কেন্দ্রের প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরোর (পিআইবি) তরফে বিবৃতি দেওয়া হয়। এমনকি শুনানিতেও সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘আদালত অবমাননার মামলার জবাবি বক্তব্যের গোড়ায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়াই রীতি। অথচ সেটা নিয়েই বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানো হচ্ছে।’
এসআইআরের মাধ্যমে ভোট চুরির অভিযোগে রাহুল গান্ধী সহ বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র ১৩ জন নেতানেত্রীর দায়ের করা মামলাও এদিন গ্রহণ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তা নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের জবাব তলব করে নোটিস জারি করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। আগামী ২ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি। তার আগেই দিতে হবে জবাব। অন্য দুই কমিশনার সুখবিন্দর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশিকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই মামলায় মোদি সরকারকে বিবাদী করেননি রাহুল গান্ধীরা। রাজনৈতিক ময়দানে ভোট চুরির জন্য মোদি-শাহ মূল টার্গেট হলেও আদালতের কাঠগড়ায় তাঁরা দাঁড় করাতে চান জ্ঞানেশ কুমারকেই। সেই মামলা গ্রহণ করলেও গত সোমবার ১২ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়েরের নামে যেভাবে সদলবলে মিছিল করেছিল ‘ইন্ডিয়া’, তা মোটেই ভালোভাবে নেননি দেশের প্রধান বিচারপতি। আদালতকে তিনি রাজনীতির ময়দান বানানোর বিপক্ষে। তাই এব্যাপারে রাহুল গান্ধীর জবাব চেয়ে নোটিস ইস্যুর নির্দেশও দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। শুনানির পর্যবেক্ষণে প্রধান বিচারপতির ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘বিচারবিভাগকে কেউ চোখ রাঙাতে পারে না।’ একইসঙ্গে যন্তরমন্তরে ধরনায় নিষেধাজ্ঞার মামলায় সরকারের সমালোচনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সাফ জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দিল্লি পুলিশ কি সবদিক বিচার-বিবেচনা করেছিল? জবাব দিতে হবে।
৬ অক্টোবর থেকে ‘জ্ঞানেশ হটাও’ অভিযানে উত্তাল রাজধানী। তারই মধ্যে ১০ অক্টোবর দিল্লিকে দুর্গ বানিয়ে, মেট্রো স্টেশন বন্ধ, দিল্লিগামী মেল-এক্সপ্রেস বাতিল করে দেওয়ার মতো নজিরবিহীন কড়াকড়ি করেছে মোদি সরকার। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে মহিলা সাংবাদিককে পুলিশি হেনস্তা, সাধারণ মানুষকে প্রবল অসুবিধায় ফেলায় ক্ষিপ্ত সুপ্রিম কোর্ট। তাই এদিন একসঙ্গে ৪৬টি মামলার শুনানির প্রতিটিতেই জবাবদিহির নোটিস ইস্যু হয়েছে। দিল্লি পুলিশকে প্রশ্ন করা হয়েছে, কেন জারি হয়েছে ১৬৩ ধারা? বিক্ষোভের দিনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ নষ্ট করা যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পুলিশের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তোলা সাংবাদিককে দেওয়া হয়েছে রক্ষাকবচ। কোনো মামলাতেই এদিন মুখ খুলতে না পেরে রীতিমতো কোণঠাসা কেন্দ্র।



