নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভোটচুরির মতো গুরুতর অভিযোগ। ২ অক্টোবর থেকে উত্তাল দিল্লি সহ গোটা দেশ। ফুঁসছে তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু পদত্যাগ তো দূর-কি-বাত! এখনও পর্যন্ত মুখই খোলেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। উলটে তাঁর ইস্তফার দাবিতে আছড়ে পড়া প্রতিবাদ-আন্দোলনের ঢেউয়ের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের অভিযোগ উঠছে বিজেপি সরকারের পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এই প্রেক্ষাপটেই আজ, শুক্রবার দিল্লিতে ‘তিরঙ্গা অভিযান’ কর্মসূচিতে নামছে ‘ককরোচ’। জেন জি ইতিমধ্যেই হুংকার দিয়েছে, ‘স্বেচ্ছাচার চলতে পারে না। সহ্যের সমস্ত সীমা অতিক্রম করে গিয়েছে মোদি সরকার। এরপর নরেন্দ্র মোদির ইস্তফার দাবিতে পথে নামলে ভালো হবে তো?’ দেশের রাজধানী শহরের প্রাণকেন্দ্র দিল্লির ‘ধর্মতলা’ কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে আজ বিকাল ৫টায় ককরোচ জনতা পার্টির ‘তিরঙ্গা অভিযান’ হবে। এর ফলে আজ, শুক্রবার মহাষষ্ঠীতে আবারও স্তব্ধ হতে পারে দিল্লি। সেই আশঙ্কায় অবশ্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেই বিজ্ঞপ্তি জারির মাধ্যমে জনসাধারণের জন্য কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। শুক্র ও শনিবারের জন্য এই ‘পদক্ষেপ’। লক্ষ্য একটাই—প্রতিবাদ দানা বাঁধতে দেওয়া যাবে না।
‘ককরোচ’দের এই ‘লেহরা দো তিরঙ্গা’ কর্মসূচির বিরোধিতা করে বৃহস্পতিবার দুপুরেই দিল্লি আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন কনট প্লেসের পালিকা বাজার ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য অনিলকুমার গুপ্তা। তাঁর অভিযোগ, এই কর্মসূচি পালন হলে উৎসবের মরশুমে তাঁদের ব্যবসা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও ককরোচ জনতা পার্টির ঘোষিত কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য এদিন কোনো নির্দেশ জারি করতে চায়নি দিল্লি আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নীতিন বাসুদেও সামব্রে এবং বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ। তবে পুলিশকে সব পক্ষের কথা মাথায় রেখেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছিল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এদিন আদালতে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ‘সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ করতে সবরকম পদক্ষেপ করা হবে।’ তারপরই সন্ধ্যায় সেন্ট্রাল পার্ক ‘বন্ধে’র বিজ্ঞপ্তি। পুলিশের হুমকি, কনট প্লেস প্রতিবাদ বিক্ষোভের স্থান নয়। নিয়ম ভাঙলে আইনি পদক্ষেপও হবে। সিজেপিও জানিয়ে দিয়েছে, তারা পিছু হটবে না। অর্থাৎ, আজ, শুক্রবার ফের দিল্লি পুলিশের সঙ্গে ‘ককরোচ’দের সংঘাতের আবহ তৈরি হতে চলেছে।
এদিন প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনও করেন অভিজিৎ দিপকে, নেহা বোরা, ঐশী ঘোষ, প্রশান্ত ভূষণরা। সেখানে দিপকে সাফ জানিয়েছেন, ‘শুক্রবারের কর্মসূচি হচ্ছেই। নরেন্দ্র মোদির আমলে দেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানোও অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধুমাত্র জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতে এত কিছু! ওরা যা পারে করে নিক। কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে শুক্রবার তিরঙ্গা উড়বেই।’ এদিন সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্যেই অবশ্য দিপকে, নেহার উদ্দেশে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। তা নিয়ে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। যদিও বিষয়টি বেশি দূর গড়ায়নি।



