সৈয়দ নিজাম, নাগরাকাটা: জিম করবেটের কলমে রুদ্রপ্রয়াগের ‘ম্যান ইটারের’ কথা হয়তো জানেন না সাবির, সুদীপ্তারা। কিন্তু গত বেশকিছুটা সময় ধরে শতবর্ষ আগের রুদ্রপ্রয়াগের বাসিন্দাদের মতোই অবস্থা তাঁদের। একইভাবে ডুয়ার্সের নাগরাকাটা ব্লকে চিতাবাঘের আতঙ্ক জাঁকিয়ে বসেছে। গত আড়াই মাসে দু’জনকে খুবলে খেল চিতাবাঘ। শুধু তাই নয়, গত এক সপ্তাহে দু’জনকে মুখে করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেছে। অন্যদিকে, একটি বালক তিনদিন ধরে নিখোঁজ। এমন অবস্থায় সিঁটিয়ে আছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও বনদপ্তর জানিয়েছে, চিতাবাঘ বন্দি করতে বিভিন্ন চা বাগানে খাঁচা বসানো হয়েছে। গ্রামবাসীরা বলছেন, ‘মানুষ খেকো’ চিতাবাঘ সন্ধ্যা হলেই চলে আসছে গ্রামে। গত জুন মাসে আংরাভাসা-১ পঞ্চায়েতের কলাবাড়ি চা বাগান থেকে এক শিশুকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুবলে খয়েছিল চিতাবাঘ। সেই আতঙ্কের মাঝেই গত বুধবার পাশের আংরাভাসা-২ পঞ্চায়েতের কুঠাবাড়িতে বারো বছরের এক বালককে চিতাবাঘ তুলে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিনদিনে গ্রামের একাধিক বাড়িতে হানা দিয়েছে বাঘ। মূলত একা ঘুরে বেড়ানো শিশুদের টার্গেট করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কুঠাবাড়িরই তেরো বছরের বালক অয়ন মুন্ডা তিনদিন ধরে নিখোঁজ। ইতিমধ্যেই তার পরিবার থানায় মিসিং ডায়েরি করেছে। বুধবার করিমুল হক নামে কুঠাবাড়ির এক বালককে বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায় চিতাবাঘ। পরবর্তীতে বেগুন খেতে তার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। বুধবারের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দিনভর গ্রামের পরিস্থিতি ছিল থমথমে। কুঠাবাড়ির মোক্তার হোসেন বলেন, তিনদিন আগে সন্ধ্যায় বাড়ির বারান্দায় দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে মুরগি কাটছিলাম। হঠাৎই চিতাবাঘ উঠোনে চলে আসে। দুই সন্তানকে ঘর ঢুকিয়ে দেই। চিতাবাঘ মুরগিটি নিয়ে যেতে আমার সামনে আসতেই ঘুসি মেরে দিই মুখে।



