Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদের প্রসাদপুরে বেহাল রাস্তায় ধানের চারা পুঁতে ক্ষোভ

মুর্শিদাবাদ থানার প্রসাদপুর পঞ্চায়েতের রামভদ্রপুর কালীমন্দির থেকে দারাপনগর পর্যন্ত দু’কিমি রাস্তা প্রায় দু’দশক ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

মুর্শিদাবাদের প্রসাদপুরে বেহাল রাস্তায় ধানের চারা পুঁতে ক্ষোভ
  • ৪ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:০৮
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ: মুর্শিদাবাদ থানার প্রসাদপুর পঞ্চায়েতের রামভদ্রপুর কালীমন্দির থেকে দারাপনগর পর্যন্ত দু’কিমি রাস্তা প্রায় দু’দশক ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। রাস্তাজুড়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্ষার শুরু থেকে জল জমে রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। একমাস ধরে এলাকার মানুষজন কার্যত ঘরবন্দি হয়ে রয়েছেন। ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রবিবার সকালে ওই রাস্তায় ধানের চারা পুঁতে বিক্ষোভ দেখালেন।

Advertisement

প্রসাদপুর পঞ্চায়েতের প্রধান জেসমিনা বিবি বলেন, ওই রাস্তা পথশ্রী প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। বর্ষার জন্য কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি সেই কাজ শুরু হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দু’দশক আগে মাটির রাস্তাটি মোরামের করা হয়। কিন্তু, তারপর আর কোনও কাজ হয়নি। অথচ এই রাস্তা দিয়ে রামভদ্রপুর, মথুরাপুর, দারাপনগর, বেলিয়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ লালবাগ হয়ে বহরমপুরে যাতায়াত করেন। এখন তাঁরা অনেকেই পাঁচ কিলোমিটার ঘুরপথে যাতায়াত করছেন।
রামভদ্রপুরের বাসিন্দা রাজেশ শেখ বলেন, শুখা মরশুমেও টোটো এই পথে আসতে চায় না। ফলে রোগী বা আসন্নপ্রসবাকে লালবাগ হাসপাতালে নিয়ে যেতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। এই রাস্তা পিচের বা ঢালাই করা দরকার।
অপর বাসিন্দা মজ্জেম শেখ বলেন, বর্ষার এই সময়ে হেঁটেও যাতায়াত করা যাচ্ছে না। বিভিন্ন গ্রামের মানুষকে কার্যত ঘরবন্দি হয়ে থাকতে হচ্ছে। কাজে যেতে না পেরে অনেক গরিব মানুষ অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছে। দারাপনগরের বাসিন্দা তথা লালবাগ কলেজের পড়ুয়া রাজা শেখ বলেন, ভাঙাচোরা রাস্তায় প্রায়শই দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে। সেই জন্য এদিন বিক্ষোভ দেখানো হয়।
স্থানীয় বধূ গীতা মজুমদার বলেন, নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় এই রাস্তায় জল জমে থাকে। জল শুকাতে শুকাতে শীতকাল চলে আসে। জল জমে থাকায় সাপখোপের উৎপাতও দেখা যায়।
রামভদ্রপুরের পঞ্চায়েত সদস্য আবদুল আলিম মিঠু বলেন, বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় দু’হাজার পরিবারকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। আপাতত ভাঙা ইট বা রাবিশ ফেলে সেটি যাতে চলাচলের যোগ্য করা হয়, সেই জন্য ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’-এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ