নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: অণ্ডাল বিমানবন্দরের পরিষেবায় নতুন পালক জুড়ল। এবার মহাদেবের আবাসস্থল কাশীর সঙ্গে আকাশপথে জুড়তে চলেছে দক্ষিণবঙ্গ। অক্টোবর মাসেই অণ্ডাল-বারাণসী বিমান পরিষেবা চালু হচ্ছে। এমনটাই জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। সূত্রের খবর, অণ্ডাল থেকে লখনউ ও জয়পুরেও উড়ান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে খুশি ব্যবসায়ী ও ভ্রমণপিপাসুরা।
আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, এমপি তহবিলের টাকা থেকে এয়ারপোর্টে একটি অ্যাম্বুলেন্স দেব। একাধিক নতুন বিমান পরিষেবা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অণ্ডালকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করতে চেয়েছেন। সেজন্য বিমানবন্দরের উন্নয়নে জোর দেওয়া হয়েছে।
অণ্ডাল বিমানবন্দর ইতিমধ্যেই শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে নীলাচলধাম ও কামাখ্যা মন্দিরকে যুক্ত করেছে। অণ্ডাল থেকে ভুবনেশ্বর ও গুয়াহাটি বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে। এবার অণ্ডাল থেকে কাশীর বিশ্বনাথ মন্দিরেও কয়েকঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যাবে। অক্টোবর থেকে পরিষেবা চালু হওয়ার কথা থাকলেও সপ্তাহে ক’দিন, কোন সময়ে এই বিমান পরিষেবা মিলবে-তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
সোমবার অণ্ডাল বিমানবন্দরে এই গুরুত্বপূর্ণ কোঅর্ডিনেশন মিটিং হয়। আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা সেই মিটিংয়ে সভাপতিত্ব করেন। সেখানে জেলাশাসক পোন্নমবলম এস ও এয়ারপোর্টের ডিরেক্টর কৈলাশ মণ্ডল উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরের পরিকাঠামো ও পরিষেবা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চলতি বছরে অতিবৃষ্টিতে অণ্ডাল বিমানবন্দরে সমস্যা হয়েছিল। তা রুখতে কী পরিকাঠামো হচ্ছে-সেবিষয়ে সাংসদ বিস্তারিত খোঁজ নেন। আমেদাবাদে বিমান দুর্ঘটনার বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। অণ্ডালে কোনও অঘটন ঘটে উদ্ধারকাজের কী ব্যবস্থা রয়েছে-তা নিয়ে চর্চা হয়। সাংসদ বৈঠকে জানতে পারেন, বিমানবন্দরে কোনও অ্যাম্বুলেন্স নেই। হাজার হাজার যাত্রীর সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে সাংসদ তহবিল থেকে অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিমানবন্দরের বাইরে যাত্রী ও তাঁদের সঙ্গে আসা মানুষের জন্য শৌচালয় তৈরিতে জোর দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের পাশাপাশি বিমাননগরীর পরিকাঠামো নিয়েও চর্চা হয়। বৈঠকে পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ার ক্ষেত্রে জোর দেওয়া হয়েছে।
পরিষেবা নিয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাংসদ নিজেই অণ্ডাল থেকে দিল্লি যাওয়ার জন্য আরও বেশি উড়ানের চাহিদার কথা তুলে ধরেন। সেইসঙ্গে অণ্ডালের সঙ্গে বিমান পরিষেবার মাধ্যমে লখনউ ও জয়পুরকে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এয়ার ইন্ডিয়া, এয়ার এশিয়ার মতো সংস্থার বিমান পরিষেবা যাতে অণ্ডাল থেকে চালু করানো যায়-তা নিয়েও একপ্রস্থ আলোচনা হয়।