সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: তখন রাত সাড়ে ন’টা। অধিকাংশ এলাকাবাসীই ঘরের দরজা এঁটে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। স্থানীয় যুবকের চিৎকারে ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। এলাকাবাসী লক্ষ্য করেন চাচণ্ড কালীমন্দির সংলগ্ন নদীর পাড়ে অনেকটা অংশ বসে গিয়েছে। জলের ধাক্কায় অনবরত ভেঙে পড়ছে বড় বড় চাঙড়। মাটি ক্ষয়ে পিছনের দিকে হেলে গিয়েছে কালীমন্দিরের মূল অংশ। নদী থেকে কয়েক হাত দূরেই একাধিক বসতবাড়ি। এমন দৃশ্য চাক্ষুষ করে দু’ চোখের পাতা এক করতে পারেনি চাচণ্ডবাসী। আতঙ্কে খোলা আকাশের নীচে রাত কাটিয়েছেন তাঁরা। রবিবার রাতে এই ঘটনায় সামশেরগঞ্জের উত্তর চাচণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়ায়। ভাঙন রোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় রীতিমতো ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী। পাকাপাকি ভাবে ভাঙন রোধের দাবি তুলেছেন তাঁরা। সকাল থেকেই বালির বস্তা ফেলছে সেচদপ্তর।
সামশেরগঞ্জ ব্লকের বিডিও সুজিতচন্দ্র লোধ বলেন, বেশ কয়েক মিটার এলাকা নদীতে চলে গিয়েছে। প্রাচীন কালীমন্দিরটি হেলে পড়েছে। সেচদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চলছে, মন্দিরটি রক্ষার চেষ্টা চলছে। এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, মাস খানেক আগেই চাচণ্ডের অন্তত ১০টি বাড়ি নদী গর্ভে চলে গিয়েছে। আরও কয়েকটি পরিবার শেষ সম্বলটুকু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গিয়েছে। ওইদিন সকাল থেকেই ছোট ছোট পাড় ভেঙে নদীতে পড়তে থাকে। তা দেখার পর থেকেই বড় ভাঙনের আশঙ্কা করছিলেন এলাকাবাসী। রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ কালীমন্দিরের আশপাশের জমি আচমকাই বসতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েক মিটার জমি জলে তলিয়ে যায়। বিষয়টি স্থানীয় এক যুবকের নজরে এলে তিনি চিৎকার করে গ্রামবাসীকে সজাগ করেন। চিৎকার শুনে তড়িঘড়ি সকলেই ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। শতাধিক বছরের প্রাচীন কালীমন্দিরটি তলিয়ে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। মন্দিরের লোহার মূল গেটটি রাতেই খুলে নেন গ্রামবাসীরা। মাস খানেক আগেই ভাঙনের কবল থেকে মন্দিরটি রক্ষা পায়। এবার সেটিও তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রৌঢ়া মায়া সিংহ বলেন, সারারাত জেগে বাইরে বসে রয়েছি, ভয়ে কেউ ঘরে যেতে পারছি না। দেখতে দেখতেই নদীতে বসে যাচ্ছে। কী করে ঘরে থাকব। নেতা, মন্ত্রী ও সরকার কেন নদী পাকা করে বাঁধায়নি। বালির বস্তা ফেলে কী লাভ হচ্ছে? ছেলেপিলে নিয়ে এখন আমরা কোথায় যাবো?
প্রসঙ্গত, চলতি বছরে বর্ষার মরশুম থেকে সামশেরগঞ্জের উত্তর, মধ্য চাচণ্ড, শিকদারপুর, শিবপুর সহ একাধিক এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। বহু পাকাবাড়ি, চাষের জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পাথর দিয়ে নদীর পাড় বাঁধানোর দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। সামশেরগঞ্জে গঙ্গা ভাঙন। -নিজস্ব চিত্র