সংবাদদাতা, কাটোয়া: শৈশবে শিশুদের অআকখ শেখার কথা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। অথচ সেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রেই পঠনপাঠন শিকেয় উঠেছে। কাটোয়ার পানুহাটে ১৫ বছর ধরে ২৪৩ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চলছে ভাড়া বাড়িতে। রান্না হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। ঘরের অভাবে আগেই পঠনপাঠন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কাটোয়র পানুহাট বোয়ালিয়া পাড়ার এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রসূতি ও শিশু নিয়ে মোট ৫৬ জনের রান্না হয়। একটা ছোট্ট ভাঙাচোরা ঘর। চাল ফুটো। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভিতরে জল পড়ে। বর্ষাকালে নাকাল হতে হয় অভিভাবকদের। আর এই ঘরের ভাড়া নিজের বেতন থেকে মেটান অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীই। এ নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী চায়না দেবনাথ বলেন, বৃষ্টি হলেই চাল-ডাল-জ্বালানি সব ভিজে যায়। ঘরের চারদিক দিয়ে জল ঢোকে। ভিতরে এত ধোঁয়া হয় যে রান্না করা যায় না। আমার নিজের বেতন থেকে ৪০০ টাকা ভাড়া দিয়ে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালাতে হয়। আমি প্রশাসনের কাছে আর্জি জানাচ্ছি যেন নতুন কেন্দ্রে রান্না করতে পারি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাচ্চাদের বসার জায়গা পর্যন্ত নেই। বর্ষায় জল জমে যায়। এই অবস্থায় বাচ্চাদের পাঠাতেই ভয় লাগে। গরম খিচুড়ির মধ্যে যদি কিছু পড়ে যায়, তা ভেবে আতঙ্কে থাকি।
জানা গিয়েছে, কাটোয়া মহকুমার বেশিরভাগ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রেরই নিজস্ব ভবন নেই। কাটোয়া-১ ব্লকে ২৮৮টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৬৭টি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবন রয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলি কারও বাড়ির উঠান, গোয়ালঘর ও ভাড়া বাড়িতে চলছে। মঙ্গলকোটের ৩৫৭টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বেশিরভাগের নিজস্ব ভবন নেই। কাটোয়া-১ ব্লকের গাঁফুলিয়া গ্রামের মাঝিপাড়া ১৮৮ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চলে একটি ক্লাব ঘরে। রান্না হয় রাস্তার ধারে কলাতলায়। এই কেন্দ্রে শিশু ও প্রসূতি নিয়ে মোট ৩৪ জনের রান্না হয়। ক্লাবে কোনো অনুষ্ঠান থাকলে সেদিন পঠনপাঠন বন্ধ রাখতে হয়। অন্যদিকে আলমপুর গ্রামের হাজরাপাড়ায় ৪৪ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চলে সিপিএম পার্টি অফিসে। এখানে মোট ৬০ জনের রান্না হয়। বাসিন্দারা চাইছেন পরিবর্তনের সরকার এসেছে। এবার অন্তত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির হাল ফিরুক। কাটোয়া-১ সিডিপিও দিব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।